লাস ভেগাসে কাজে গিয়ে চার সন্তানকে একা রেখে বিমানবন্দরে গ্রেপ্তার ফ্লোরিডার মা
প্লোরিডার কিসিমি শহরে চার সন্তানকে বাড়িতে একা রেখে কাজের জন্য লাস ভেগাসে যাওয়ার অভিযোগে ৫০ বছর বয়সী আইরিন মিলারকে বিমানবন্দরে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নয় বছর বয়সী ছেলের মাথায় ভারী ব্যায়ামের ওজন পড়ার পর তার এক বোন জরুরি নম্বরে ফোন করলে ঘটনাটি সামনে আসে।
লাস ভেগাসে কাজে গিয়ে চার সন্তানকে একা রেখে বিমানবন্দরে গ্রেপ্তার ফ্লোরিডার মা
৯,৬৫০ বার পড়া হয়েছে ৫ মিনিটে পড়ুন
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের কিসিমি শহরে চার সন্তানকে বাড়িতে রেখে কয়েক দিনের জন্য অন্য শহরে যাওয়ার ঘটনায় ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। পুলিশের অভিযোগ, আইরিন মিলার নামের ওই নারী ১৮ অক্টোবর লাস ভেগাসের উদ্দেশে রওনা হন। তাঁর সন্তানদের বয়স ছিল ৯, ১১, ১২ ও ১৪ বছর। ২৩ অক্টোবর তিনি ফ্লোরিডায় ফিরে এলে অরল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গোয়েন্দারা তাঁর জন্য অপেক্ষা করছিলেন। বিমান থেকে নামার পরই তাঁকে আটক করা হয়। ঘটনাটি সামনে আসে ২১ অক্টোবর রাতে। স্থানীয় সময় রাত সাড়ে আটটার কিছু পরে চার সন্তানের একজন জরুরি সেবা নম্বর ৯১১-এ ফোন করে জানায়, তার নয় বছর বয়সী ভাইয়ের মাথায় একটি ভারী ব্যায়ামের ওজন পড়েছে। ফোন পেয়ে ওসিওলা কাউন্টির শেরিফের দপ্তরের সদস্যরা কিসিমি শহরের পার্কওয়ে বুলেভার্ড এলাকার বাড়িটিতে পৌঁছান। সেখানে তাঁরা চার শিশুকে পান, কিন্তু বাড়িতে কোনো প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন না। আহত শিশুটির জন্য দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। জরুরি উদ্ধারকর্মীরা নয় বছরের শিশুটিকে সেলিব্রেশন হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তার চিকিৎসা করা হয়। পরবর্তী সময়ে তাকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। তবে প্রকাশিত প্রতিবেদনে শিশুটির আঘাতের বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়নি। তার মাথায় ওজনটি কীভাবে পড়েছিল, সে সময় বাড়িতে অন্য কোনো ব্যক্তি উপস্থিত ছিল কি না কিংবা দুর্ঘটনাটি ঘটার ঠিক আগে শিশুরা কী করছিল—এসব বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
পুলিশ বাড়িতে গিয়ে শিশুদের একা পাওয়ার পর তাদের মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মিলার ফোনে জানান, তিনি কাজের জন্য লাস ভেগাসে রয়েছেন এবং ২৩ অক্টোবর ফিরে আসার কথা রয়েছে। তিনি আরও জানান, শিশুদের দেখাশোনার জন্য টাম্পা থেকে একজন পরিচর্যাকারী আসতেন। ওই ব্যক্তি সকালে শিশুদের বিদ্যালয়ে যাওয়ার প্রস্তুতিতে সাহায্য করতেন এবং বিকেলে তাদের খোঁজখবর নিতেন। কিন্তু রাতে বাড়িতে থেকে শিশুদের সঙ্গে থাকার বাধ্যবাধকতা তাঁর ছিল না বলে মিলার পুলিশকে জানিয়েছেন। তদন্তকারীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মিলার ১৮ অক্টোবর ফ্লোরিডা ছেড়েছিলেন। অর্থাৎ, তাঁর সন্তানরা কয়েক দিন ধরে রাতে কোনো প্রাপ্তবয়স্কের সরাসরি তত্ত্বাবধান ছাড়াই বাড়িতে ছিল বলে পুলিশের অভিযোগ। সকালে ও বিকেলে কেউ খোঁজ নিতে এলেও রাতের বেলা শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মতো ব্যবস্থা ছিল কি না, সেটিই তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে ওঠে। চারটি শিশুর বয়সও ঘটনাটির গুরুত্ব বাড়িয়েছে। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বড়টির বয়স ১৪ বছর এবং সবচেয়ে ছোটটির বয়স মাত্র ৯ বছর। শিশুদের কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে, দুর্ঘটনায় আহত হলে, আগুন লাগলে কিংবা অন্য কোনো জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া ও সাহায্য পাওয়া কঠিন হতে পারে। এই ঘটনায় নয় বছরের শিশুটি আহত হওয়ার পর তার বোনকে জরুরি নম্বরে ফোন করতে হয়েছিল। ওই ফোনের কারণেই পুলিশ বাড়িতে শিশুদের একা থাকার বিষয়টি জানতে পারে।
পুলিশ শিশুদের বাবার সঙ্গেও যোগাযোগ করে। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, তিনি চার সন্তানকে নিজের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে দেখাশোনা করতে সম্মত হন। এতে শিশুদের জন্য বিকল্প নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়। তবে তাদের বাবার পরিচয় কিংবা পরিবারের ব্যক্তিগত পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ২৩ অক্টোবর মিলার লাস ভেগাস থেকে ফ্লোরিডায় ফিরে আসেন। তদন্তকারীরা অরল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁর আগমনের অপেক্ষায় ছিলেন। বিমান থেকে নামার পর গোয়েন্দারা তাঁর কাছে যান এবং তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেন। ওসিওলা কাউন্টির শেরিফের দপ্তর প্রকাশিত দেহে ধারণ করা ক্যামেরার ভিডিওতে বিমানবন্দরে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মিলারের সাক্ষাৎ এবং তাঁকে পুলিশের গাড়ির দিকে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখা যায়। ভিডিওটি প্রকাশের পর ঘটনাটি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। মিলারের বিরুদ্ধে চারটি শিশুকে অবহেলার অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগের ভাষায় গুরুতর শারীরিক ক্ষতি না ঘটিয়ে শিশুদের অবহেলা করার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁকে অরেঞ্জ কাউন্টির কারাগারে নেওয়া হয়েছিল বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। পরবর্তী সময়ে কারাগারের নথির বরাত দিয়ে কয়েকটি সংবাদমাধ্যম জানায়, তিনি মুক্তি পেয়েছেন। তবে মুক্তি পাওয়া মানেই অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পাওয়া নয়। মামলার চূড়ান্ত ফল আদালতের প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে। ওসিওলা কাউন্টির শেরিফ ক্রিস ব্ল্যাকমন জানিয়েছেন, শিশুদের অবহেলার ঘটনা কর্তৃপক্ষ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে। যেসব অভিভাবকের বিরুদ্ধে সন্তানদের যথাযথভাবে দেখাশোনা না করার অভিযোগ ওঠে, সেসব ঘটনা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় অভিযোগ আনা হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, তদন্তের কেন্দ্রে রয়েছে শিশুদের নিরাপত্তা এবং তাদের দেখাশোনার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা ছিল কি না। এখানে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। কাজের প্রয়োজনে অভিভাবকের অন্য শহরে যাওয়া নিজে থেকেই অপরাধ প্রমাণ করে না। কিন্তু শিশুদের বয়স, তাদের ওপর নজরদারির ব্যবস্থা, জরুরি পরিস্থিতিতে সাহায্য পাওয়ার সুযোগ এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব—এসব বিষয় বিবেচনা করে কর্তৃপক্ষ অভিযোগের ভিত্তি নির্ধারণ করে। এই মামলায় পুলিশ বলছে, চার শিশুকে বাড়িতে একা পাওয়া এবং একজনের আহত হওয়ার ঘটনা তদন্তের পরই অভিযোগ আনা হয়েছে। শিশুদের বাড়িতে একা রাখার ক্ষেত্রে ঝুঁকি শুধু দুর্ঘটনায় সীমাবদ্ধ নয়। রান্নাঘরে আগুন লাগা, ওষুধ বা রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শে আসা, বিদ্যুৎজনিত দুর্ঘটনা কিংবা হঠাৎ অসুস্থতার মতো পরিস্থিতিতেও প্রাপ্তবয়স্কের উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে জরুরি পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সক্ষমতা সীমিত থাকতে পারে। তাই অভিভাবকের অনুপস্থিতিতে শিশুদের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য উপযুক্ত প্রাপ্তবয়স্কের ব্যবস্থা থাকা জরুরি। এই ঘটনার বিষয়ে এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে বলা যায়, চার শিশুকে বাড়িতে একা পাওয়া, নয় বছরের শিশুর মাথায় ব্যায়ামের ওজন পড়া, জরুরি নম্বরে ফোন, হাসপাতালে চিকিৎসা এবং বিমানবন্দরে মাকে গ্রেপ্তারের বিষয়গুলো একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। তবে শিশুদের অবহেলার অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। মিলারের পক্ষে কোনো আইনজীবী প্রকাশ্যে বক্তব্য দিয়েছেন কি না, কিংবা তিনি অভিযোগের বিষয়ে আদালতে কী অবস্থান নিয়েছেন, সে সম্পর্কেও নির্ভরযোগ্য প্রকাশিত তথ্য সীমিত। তাই তাঁকে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তি হিসেবে বর্ণনা করা ঠিক হবে না।
মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।