সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
যাতায়াতের কষ্ট দেখে দুই কর্মীকে বিলাসবহুল বিএমডব্লিউ উপহার দিলেন চীনা ব্যবসায়ীঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ নিয়ে উপকূলে সতর্কতা, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সংকেতটোকিওতে বিএনপি-আ.লীগের পাল্টাপাল্টি স্লোগান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে উত্তেজনাগত ১৭ বছরের শাসনে স্বাস্থ্যখাতে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি: রাষ্ট্রপতিডানপন্থা নাকি ফিলিস্তিন বিতর্কিত স্লোগানে উত্তপ্ত ইসরায়েলের নির্বাচনী লড়াই, কঠিন পরীক্ষায় নেতানিয়াহু!

অংশ: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ২০২৬

নির্বাচনের আগে ৪০০ ভোটারের ব্যালট না গোনার অনুরোধ ট্রাম্প প্রশাসনের

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ৪০০ জনের বেশি ভোটারের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ব্যালট আলাদা রাখার অনুরোধ ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক।

নির্বাচনের আগে ৪০০ ভোটারের ব্যালট না গোনার অনুরোধ ট্রাম্প প্রশাসনের
নির্বাচনের আগে ৪০০ ভোটারের ব্যালট না গোনার অনুরোধ ট্রাম্প প্রশাসনের

যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের ৪০০ জনের বেশি ভোটারের ব্যালট আলাদা করে রাখার অনুরোধ জানিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। মার্কিন বিচার বিভাগের দাবি, এসব ভোটারের মধ্যে এমন ব্যক্তিরা রয়েছেন, যাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক না হয়েও ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হয়ে থাকতে পারেন। তবে তাঁদের নাগরিকত্ব ও ভোট দেওয়ার যোগ্যতা নিয়ে অভিযোগগুলো এখনো চূড়ান্তভাবে যাচাই করা হয়নি।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ২৬ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনী কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে সন্দেহভাজন ভোটারদের ব্যালট আলাদা করে রাখার অনুরোধ জানিয়েছে। প্রশাসনের বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভোট দেওয়ার আইনগত যোগ্যতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের ব্যালটের বিষয়ে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। বিষয়টি নিয়ে অঙ্গরাজ্যটির নির্বাচনী কর্মকর্তারা পর্যালোচনা করছেন।

মার্কিন কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাঁদের প্রাথমিক অনুসন্ধানে ৪০০ জনের বেশি ব্যক্তির নাম পাওয়া গেছে। তাঁদের দাবি, এসব ব্যক্তি অতীতে একাধিক নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন এবং তাঁদের মাধ্যমে মোট প্রায় ১ হাজার ৫০০টি ভোট পড়েছে। তবে এসব ভোটের সময়কাল, প্রত্যেক ব্যক্তির নাগরিকত্বের প্রকৃত অবস্থা এবং অভিযোগের পূর্ণ প্রমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ্যে পরিষ্কার নয়।

ওয়াশিংটনের ভারপ্রাপ্ত ফেডারেল কৌঁসুলি নিল ফ্লয়েড বলেছেন, তাঁদের অনুসন্ধানে এখন পর্যন্ত যাঁদের শনাক্ত করা হয়েছে, তাঁদের সংখ্যা আরও বড় সমস্যার একটি অংশ হতে পারে। তাঁর দপ্তর এ বিষয়ে তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে। ফেডারেল কর্মকর্তারা আরও দাবি করেছেন, অঙ্গরাজ্যের ভোটারসংক্রান্ত তথ্য পুরোপুরি হাতে না পাওয়ায় তাঁদের তদন্তে সীমাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে।

ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনী কর্তৃপক্ষ বিষয়টি যাচাইয়ের পাশাপাশি ভোটারদের ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। অঙ্গরাজ্যের সেক্রেটারি অব স্টেট স্টিভ হবসের দপ্তর জানিয়েছে, আইনসম্মত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই তারা ফেডারেল সরকারের অনুরোধের জবাব দেবে। নির্বাচনের মাত্র এক সপ্তাহ আগে এমন অনুরোধ আসার সময় নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর আশঙ্কা, যথাযথ যাচাই ছাড়া এ ধরনের পদক্ষেপ সাধারণ ভোটারদের মধ্যে অযথা সন্দেহ ও উদ্বেগ তৈরি করতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ফেডারেল নির্বাচনের জন্য ভোট দিতে হলে মার্কিন নাগরিক হওয়া বাধ্যতামূলক। তবে ভোটার তালিকায় কোনো ব্যক্তির নাম থাকা মানেই তিনি বেআইনিভাবে ভোট দিয়েছেন—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। কোনো ব্যক্তি পরে মার্কিন নাগরিকত্ব অর্জন করে থাকতে পারেন, নিবন্ধনের তথ্যে ভুল থাকতে পারে, কিংবা পুরোনো নথির কারণে তাঁর পরিচয় ভুলভাবে চিহ্নিত হতে পারে। তাই প্রত্যেক ব্যক্তির ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য নথি যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।

এই বিতর্কের আরেকটি দিক হলো ডাকযোগে ভোটের ব্যবস্থা। ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে নিবন্ধিত ভোটারদের কাছে ডাকযোগে ব্যালট পাঠানো হয়। অঙ্গরাজ্যটিতে পাঁচ মিলিয়নেরও বেশি নিবন্ধিত ভোটার রয়েছেন। ফলে সন্দেহভাজন ভোটারদের তালিকা যাচাই এবং ব্যালটের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে নির্বাচনী কর্তৃপক্ষের ওপর উল্লেখযোগ্য প্রশাসনিক চাপ তৈরি হতে পারে।

ক্যালিফোর্নিয়াতেও একই ধরনের বিরোধ দেখা দিয়েছে। সেখানে ট্রাম্প প্রশাসন ২০ হাজারের বেশি সম্ভাব্য অযোগ্য ভোটারের ব্যালট গণনা বন্ধ রাখার উদ্যোগ নিয়েছে। তবে ২৬ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্যালিফোর্নিয়ার ব্যালটসংক্রান্ত অনুরোধে ফেডারেল সরকারের আইনি উদ্যোগ আদালতে বাধার মুখে পড়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির কর্মকর্তারাও নমুনা তথ্য যাচাই করে এমন কিছু ব্যক্তির রেকর্ড পেয়েছেন, যাঁদের যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম হওয়ার তথ্য রয়েছে অথবা যাঁদের ভোটার নিবন্ধন সক্রিয় নয়।

যুক্তরাষ্ট্রে আগামী ৩ নভেম্বর ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এই নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে ভোটারদের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নির্বাচনের আগে নাগরিকত্ব যাচাই ও ব্যালট গণনা নিয়ে এমন বিরোধ তাই রাজনৈতিক ও আইনি গুরুত্ব পেয়েছে।

তবে ওয়াশিংটনের ৪০০ জনের বেশি ভোটারের বিষয়ে প্রশাসনের অভিযোগকে এখনই প্রমাণিত নির্বাচনী জালিয়াতি হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক হবে না। তাঁদের নাগরিকত্ব, ভোট দেওয়ার যোগ্যতা এবং অতীতের ভোটের বৈধতা নির্ভরযোগ্যভাবে যাচাই করার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব। এখন পর্যন্ত নিশ্চিত তথ্য হলো, ট্রাম্প প্রশাসন ব্যালট আলাদা রাখার অনুরোধ জানিয়েছে এবং ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের কর্তৃপক্ষ বিষয়টি পর্যালোচনা করছে।

ট্যাগ: ট্রাম্পযুক্তরাষ্ট্রেরনির্বাচনভোটাধিকারওয়াশিংটনমার্কিনরাজনীতি

প্রতিবেদক

Tasfiq Azad

International Broadcast Journalist

মন্তব্য ০

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।