যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন অভিযান, কৃষিতে শ্রমিকসংকটে বাড়তে পারে খাবারের দাম ২৪ অক্টোবর ২০২৬
অভিবাসন অভিযান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ৪০টির বেশি কৃষি সংগঠন। তাঁদের আশঙ্কা, শ্রমিকসংকটে কৃষিপণ্য উৎপাদন ব্যাহত হলে যুক্তরাষ্ট্রের পরিবারের বাজার খরচ বাড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনবিরোধী অভিযান কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য সরবরাহে প্রভাব ফেলছে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির ৪০টির বেশি কৃষক, কৃষি ব্যবসায়ী ও শিল্পসংগঠন। শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এসব সংগঠন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কংগ্রেসের নেতাদের কাছে পাঠানো চিঠিতে জানিয়েছে, কৃষিশ্রমিকদের আটক, কর্মস্থলে উপস্থিতি কমে যাওয়া এবং শ্রমিকসংকটের কারণে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের বাজার খরচেও পড়তে পারে।
কৃষি সংগঠনগুলোর উদ্বেগের পেছনে রয়েছে ক্যালিফোর্নিয়া, কানসাস ও পেনসিলভানিয়ার বিভিন্ন কৃষি ও খাদ্য উৎপাদন এলাকায় সাম্প্রতিক অভিবাসন অভিযান। সংগঠনগুলোর বক্তব্য অনুযায়ী, কানসাসে মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানার আশপাশে অভিযানের কারণে পশু পরিবহন ও সরবরাহে বিলম্ব হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার সেন্ট্রাল ভ্যালিতে কৃষিশ্রমিকদের আটক করার ঘটনা ঘটেছে। পেনসিলভানিয়ায় পোলট্রি উৎপাদন নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ক্যালিফোর্নিয়ার সেন্ট্রাল ভ্যালিতে ফল ও সবজি উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত কৃষকেরাও শ্রমিকসংকটের কথা জানিয়েছেন। ২১ অক্টোবর প্রকাশিত কৃষিশিল্পবিষয়ক এক প্রতিবেদনে বলা হয়, অভিবাসন কর্মকর্তাদের অভিযানের আশঙ্কায় কিছু শ্রমিক কাজে যাচ্ছেন না। একটি ডুমুর উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের মালিক জানান, তাঁর প্রায় ১০০ জন ফসল সংগ্রহকারীর অর্ধেকের বেশি এক সপ্তাহেরও বেশি সময় কাজে অনুপস্থিত ছিলেন। এতে ফসল সংগ্রহ ও ক্রেতাদের কাছে পণ্য সরবরাহে সমস্যা হয়েছে।
কৃষি খাতের সংগঠনগুলোর মতে, যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি উৎপাদন বিদেশে নির্ভরতা কমানো এবং দেশের খাদ্য সরবরাহ স্থিতিশীল রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের দাবি, অপরাধে জড়িত নন এমন অভিবাসী শ্রমিকদের লক্ষ্য করে অভিযান চালানো এবং কৃষিশ্রমিকের ঘাটতি পূরণে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া কৃষকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে। এ কারণে তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে কৃষিখাতে কাজ করা শ্রমিকদের জন্য ওয়ার্ক পারমিটের সুযোগ তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে কৃষিকাজের সঙ্গে বিদেশে জন্ম নেওয়া শ্রমিকদের উল্লেখযোগ্য অংশ জড়িত। কৃষি সংগঠনগুলোর চিঠিতে বলা হয়েছে, দেশটির প্রায় ৬৬ শতাংশ কৃষিশ্রমিক বিদেশে জন্মগ্রহণ করেছেন। তবে বিদেশে জন্ম নেওয়া সব শ্রমিক অনথিভুক্ত অভিবাসী নন; তাঁদের মধ্যে বৈধ অভিবাসী ও অনুমোদিত কর্মীরাও রয়েছেন। তাই শ্রমিকসংকটের প্রভাব বিশ্লেষণে অভিবাসন-অবস্থার এই পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশি-আমেরিকান পরিবারগুলোর জন্যও বিষয়টি প্রাসঙ্গিক। যুক্তরাষ্ট্রে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়লে সীমিত আয়ের পরিবার, শিক্ষার্থী, প্রবীণ ব্যক্তি এবং একাধিক সদস্যের সংসার পরিচালনাকারীদের বাজেটে চাপ বাড়তে পারে। তবে কৃষিশ্রমিকের সংকট হলেই সব খাবারের দাম অবিলম্বে বেড়ে যাবে, এমন নয়। ফসলের মৌসুম, আমদানি, পরিবহন ব্যয়, জ্বালানির দাম এবং দোকানভিত্তিক সরবরাহও পণ্যের মূল্য নির্ধারণে ভূমিকা রাখে।
আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে কৃষি খাতের এই সতর্কবার্তা অভিবাসননীতি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও গুরুত্ব দিতে পারে। কৃষি সংগঠনগুলো কংগ্রেসকে দীর্ঘমেয়াদি কৃষিশ্রমিকদের জন্য ওয়ার্ক পারমিটের ব্যবস্থা বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে। সরকার এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয় এবং কৃষি উৎপাদন ও বাজারদরে বাস্তবে কী পরিবর্তন আসে, তা পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।





