সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
বিরোধীরা এখন সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে, অতীতে আমরা বসার জায়গাও পাইনি: মীর শাহে আলমআফগান মেয়েদের শিক্ষার অধিকার ফেরাতে তালেবানের ওপর চাপ বাড়াল ইউরোপীয় ইউনিয়নভেনেজুয়েলায় অবাধ নির্বাচনের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভ, ভোটের তারিখ ঘোষণার চাপ বাড়ছেপশ্চিম তীরে গুলির হামলার পর নেতানিয়াহুর নির্দেশে লিকুদ দলের সব রাজনৈতিক কর্মসূচি বাতিলতল্লাশির পর নিরাপত্তাহীনতায় ওয়াশিংটনের বাসা ছাড়ছেন মার্কিন কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমর

যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম আবার বাড়ল, ট্রাম্পের জ্বালানি উদ্যোগেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত স্বস্তি

যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের গড় দাম গ্যালনপ্রতি ৬.২৮ ডলারে উঠেছে। কৃষকদের জন্য ৮ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা ঘোষণা করেও চাপ কমাতে হিমশিম খাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন।

যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম আবার বাড়ল, ট্রাম্পের জ্বালানি উদ্যোগেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত স্বস্তি
যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম আবার বাড়ল, ট্রাম্পের জ্বালানি উদ্যোগেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত স্বস্তি

যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম আবারও বেড়ে গ্যালনপ্রতি ৬ দশমিক ২৮ ডলারে পৌঁছেছে। জ্বালানির মূল্য কমাতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন একাধিক পদক্ষেপ নিলেও সাধারণ মানুষ, কৃষক ও পণ্য পরিবহন খাত এখনো প্রত্যাশিত স্বস্তি পাচ্ছে না। বরং জ্বালানির উচ্চমূল্য সামাল দিতে সরকারের ব্যয় বাড়ছে এবং রাজনৈতিক চাপও তীব্র হচ্ছে। আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে পরিস্থিতি রিপাবলিকান দলের জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

সর্বশেষ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের গড় দাম গ্যালনপ্রতি প্রায় ১০ সেন্ট বেড়ে ৬ দশমিক ২৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর আগে টানা দুই সপ্তাহ দাম কমেছিল। নতুন এই বৃদ্ধি জ্বালানি বাজারে স্থায়ী স্বস্তি ফেরার আশা দুর্বল করেছে। উল্লেখ্য, এটি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গড় দাম; প্রতিটি অঙ্গরাজ্য বা জ্বালানি স্টেশনে একই দাম নেওয়া হচ্ছে, এমন নয়।

ডিজেলের দাম বাড়ার প্রভাব শুধু গাড়িচালকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। যুক্তরাষ্ট্রে কৃষিপণ্য উৎপাদন, ফসল পরিবহন, পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল এবং বিভিন্ন শিল্পের সরবরাহব্যবস্থায় ডিজেল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে জ্বালানির খরচ বেড়ে গেলে কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় বাড়ে, পরিবহন প্রতিষ্ঠানকে বেশি অর্থ খরচ করতে হয় এবং শেষ পর্যন্ত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামেও চাপ তৈরি হতে পারে। জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে আগে থেকেই উদ্বিগ্ন পরিবারগুলোর জন্য এটি নতুন সমস্যা।

পরিস্থিতি সামাল দিতে ট্রাম্প প্রশাসন কৃষকদের জন্য ৮ বিলিয়ন ডলারের নতুন আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। ফসল কাটার মৌসুমে জ্বালানি ও অন্যান্য উৎপাদন ব্যয়ের চাপ কমানো এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। তবে এই অর্থ সরাসরি ডিজেলের বাজারদর কমিয়ে দেবে না। বরং নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী সহায়তা পাওয়ার মাধ্যমে কৃষকেরা তাঁদের বাড়তি ব্যয়ের একটি অংশ সামাল দিতে পারবেন।

নতুন সহায়তা যুক্ত হলে চলতি বছরে কৃষকদের জন্য সরকারি অর্থপ্রদানের পরিমাণ রেকর্ড ৫৫ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। এর মধ্যে আগে ঘোষিত বিভিন্ন সহায়তা ও শুল্কজনিত ক্ষতি মোকাবিলার অর্থও রয়েছে। তবে নতুন কর্মসূচির অর্থ মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে কৃষকদের হাতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা কম। ফলে নির্বাচনের আগে দ্রুত স্বস্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে এই উদ্যোগের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ডিজেলের দাম কমাতে ট্রাম্প প্রশাসন রং মেশানো বিশেষ ডিজেল ব্যবহারের সুযোগও বাড়িয়েছে। এই জ্বালানি সাধারণত কৃষিযন্ত্র ও সড়কের বাইরে ব্যবহৃত যানবাহনের জন্য নির্ধারিত থাকে এবং এতে সাধারণ সড়ক ব্যবহারের কিছু কর প্রযোজ্য হয় না। প্রশাসনের সিদ্ধান্তে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সড়কে এই জ্বালানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু ফেডারেল কর-সংক্রান্ত নিয়ম ও জরিমানা শিথিল করা হয়েছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে সব ধরনের কর পুরোপুরি বাতিল হয়েছে।

এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নেও সমস্যা দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের নিজস্ব আইন ও বিধিনিষেধ থাকায় সব জায়গায় একইভাবে এই জ্বালানি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। জ্বালানি বিক্রেতা ও ট্রাকচালকদের একাংশও নিয়মের অস্পষ্টতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ফলে বিশেষ ডিজেল ব্যবহারের সুযোগ বাড়লেও তা থেকে কতটা সাশ্রয় হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

সরবরাহ বাড়ানোর জন্য প্রশাসন রাশিয়ার জ্বালানির ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞাও শিথিল করেছে এবং ইউরোপীয় মিত্রদের জরুরি জ্বালানি মজুত বাজারে ছাড়তে চাপ দিয়েছে। কিন্তু এসব পদক্ষেপের কার্যকারিতা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রাশিয়ার জ্বালানি থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার সিদ্ধান্ত ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সমালোচনার মুখেও পড়েছে। সমালোচকদের আশঙ্কা, এতে রাশিয়ার আয় বাড়তে পারে, অথচ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ডিজেলের দাম কমার নিশ্চয়তা নেই।

ইরানকে ঘিরে সংঘাত এবং মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ডিজেলের দাম বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ। পাশাপাশি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, শোধনাগারের উৎপাদনসংক্রান্ত সমস্যা এবং পরিশোধিত জ্বালানির সীমিত সরবরাহও বাজারে চাপ সৃষ্টি করছে। এসব সমস্যার সমাধান না হলে শুধু কর-সংক্রান্ত ছাড় বা আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে দাম কমানো কঠিন হতে পারে।

রাজনৈতিক দিক থেকেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের দুই কক্ষেই নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে রিপাবলিকান দলকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হচ্ছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় ভোটারদের বড় উদ্বেগের বিষয়। বিশেষ করে কৃষিনির্ভর এলাকায় জ্বালানি ও সারসহ উৎপাদন ব্যয় বাড়তে থাকলে ট্রাম্পের সমর্থকদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হতে পারে।

ডিজেলের দাম ৬ দশমিক ২৮ ডলারে ওঠা শুধু জ্বালানি বাজারের সমস্যা নয়; এটি কৃষি, পরিবহন, পণ্যমূল্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গেও জড়িত। ট্রাম্প প্রশাসন স্বল্পমেয়াদি সহায়তা ও সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নিলেও এসব পদক্ষেপের ফলে সাধারণ মানুষ কত দ্রুত উপকৃত হবেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। জ্বালানির বৈশ্বিক সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের উচ্চমূল্য আরও কিছু সময় অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

ট্যাগ: যুক্তরাষ্ট্রডিজেলেরদামট্রাম্পজ্বালানিসংকটমার্কিনঅর্থনীতিকৃষকমধ্যবর্তীনির্বাচন

প্রতিবেদক

Staff Reporter

Reporter

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।