অংশ: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ২০২৬
পুরুষ ভোটারদের সমর্থন হারাচ্ছেন ট্রাম্প, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বাড়ছে রাজনৈতিক উদ্বেগ
যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমছে, পুরুষ ভোটারদের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে সমর্থন হারানোর ইঙ্গিত; মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে চাপে রিপাবলিকানরা।
যুক্তরাষ্ট্রে পুরুষ ভোটারদের মধ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে প্রকাশিত বিভিন্ন জনমত জরিপে তাঁর সামগ্রিক জনপ্রিয়তার পতন, জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে অসন্তোষ এবং অর্থনীতি পরিচালনায় সরকারের ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। একসময় ট্রাম্পের নির্বাচনী সাফল্যের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত পুরুষ ভোটারদের একটি অংশের মনোভাব পরিবর্তনের ইঙ্গিত রিপাবলিকান শিবিরের জন্য নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
রয়টার্স ও ইপসোসের ৮ অক্টোবর প্রকাশিত দেশব্যাপী জরিপে দেখা যায়, ট্রাম্পের প্রতি জনসমর্থন তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদের শুরু থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৪ হাজার ৫০৬ জন প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিকের মতামত সংগ্রহ করা হয়। এতে ট্রাম্পের কাজের প্রতি সমর্থন জানান মাত্র ৩২ শতাংশ উত্তরদাতা। জরিপটির সম্ভাব্য ত্রুটিসীমা ছিল প্রায় ২ শতাংশ। একই জরিপে পুরুষ ভোটারদের মধ্যে ডেমোক্র্যাটদের দিকে ঝোঁকার লক্ষণও উঠে আসে। তবে পুরুষদের মধ্যে ঠিক কত শতাংশ ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করেছেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান ছাড়া কোনো একক হার নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।
২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পুরুষ ভোটারদের সমর্থন ট্রাম্পের বিজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। পিউ গবেষণা কেন্দ্রের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ওই নির্বাচনে তিনি পুরুষ ভোটারদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বী কমলা হ্যারিসের তুলনায় ১২ শতাংশের ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন। ফলে এই ভোটারগোষ্ঠীর মনোভাব পরিবর্তিত হলে আসন্ন নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের জন্য তার প্রভাব পড়তে পারে।
তবে পুরুষ ভোটারদের সবাই ট্রাম্পের বিরোধিতা করছেন, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পছন্দ বয়স, জাতিগত পরিচয়, শিক্ষা, আয়, বসবাসের অঞ্চল এবং দলীয় আনুগত্যের ভিত্তিতে ভিন্ন হয়ে থাকে। পুরুষ ভোটারদের একটি অংশের মধ্যে অসন্তোষ বাড়লেও অন্য অংশের সমর্থন অটুট থাকতে পারে। তাই সাম্প্রতিক জরিপের ফলাফলকে পুরো ভোটারগোষ্ঠীর অভিন্ন অবস্থান হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।
ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমার পেছনে অর্থনৈতিক অসন্তোষ একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম, আবাসন ব্যয়, জ্বালানি খরচ এবং পরিবারের দৈনন্দিন ব্যয় নিয়ে অনেক মার্কিন নাগরিক উদ্বিগ্ন। নির্বাচনের আগে ভোটারদের কাছে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি একটি প্রধান বিবেচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও এসব ক্ষেত্রে সরকারের কার্যক্রম নিয়ে অসন্তোষ রয়ে গেছে।
পিউ গবেষণা কেন্দ্রের ৮ অক্টোবর প্রকাশিত আরেকটি প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্পের কাজের প্রতি মাত্র ৩০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক সমর্থন জানিয়েছেন, বিপরীতে ৬৮ শতাংশ তাঁর কাজের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত পরিচালিত এই জরিপে তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুর তুলনায় জনসমর্থন কমে যাওয়ার চিত্র উঠে আসে। জরিপে অর্থনীতি, পররাষ্ট্রনীতি ও অভিবাসন ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও তাঁর প্রতি আস্থা হ্রাসের তথ্য প্রকাশ করা হয়।
ট্রাম্পের নিজস্ব ভোটারদের মধ্যেও অসন্তোষের লক্ষণ রয়েছে। পিউ গবেষণা কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে তাঁকে ভোট দেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে তাঁর কাজের প্রতি সমর্থনের হার জানুয়ারিতে ৮৩ শতাংশ থাকলেও অক্টোবরের শুরুতে তা কমে ৬৭ শতাংশে দাঁড়ায়। অর্থাৎ, আগের নির্বাচনে তাঁকে সমর্থন করা ভোটারদের একটি অংশও এখন তাঁর কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। তবে এই পরিসংখ্যান শুধু পুরুষ ভোটারদের নয়, বরং তাঁর সব ভোটারকে অন্তর্ভুক্ত করে।
পররাষ্ট্রনীতিও জনমতকে প্রভাবিত করতে পারে। ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত এবং তার সঙ্গে সম্পর্কিত জ্বালানি ব্যয়ের চাপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে উদ্বেগ রয়েছে। সরকারের সামরিক সিদ্ধান্তের অর্থনৈতিক প্রভাব সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে পড়লে তার রাজনৈতিক মূল্য দিতে হতে পারে ক্ষমতাসীন দলকে। একই সঙ্গে অভিবাসননীতি, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েও ভোটারদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।
৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারিত হবে। প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের আসন নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুধু স্থানীয় প্রার্থীদের জনপ্রিয়তার ওপর নির্ভর করবে না; প্রেসিডেন্টের কর্মদক্ষতা সম্পর্কেও ভোটারদের মূল্যায়ন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ক্ষমতাসীন দলের প্রতি অসন্তোষ থাকলে ভোটাররা বিরোধী দলের প্রার্থীদের সমর্থন দিতে পারেন। তবে জরিপে ডেমোক্র্যাটদের এগিয়ে থাকার অর্থ এই নয় যে নির্বাচনের ফলাফল ইতিমধ্যে নির্ধারিত হয়ে গেছে।
রয়টার্স ও ইপসোসের ৮ অক্টোবরের জরিপে দেখা যায়, ২০২৪ সালে কমলা হ্যারিসকে সমর্থন করা ভোটারদের মধ্যে আসন্ন নির্বাচনে ভোট দেওয়ার আগ্রহ ট্রাম্পের সমর্থকদের তুলনায় বেশি। পুরুষ ভোটারদের মধ্যে ডেমোক্র্যাটদের প্রতি ঝোঁকের ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে। নির্বাচনে কারা ভোট দিতে আসবেন, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনগুলোতে কোন প্রার্থীরা শক্তিশালী অবস্থানে থাকবেন এবং শেষ মুহূর্তে ভোটারদের মনোভাব কীভাবে বদলাবে, সেগুলো ফলাফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের জন্য তাই এখন মূল প্রশ্ন হলো, পুরুষ ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ সাময়িক, নাকি এটি দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত। অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি হলে ট্রাম্প ও রিপাবলিকানদের অবস্থান শক্তিশালী হতে পারে। বিপরীতে, জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে অসন্তোষ অব্যাহত থাকলে বিরোধী দল সুবিধা পেতে পারে।
সাম্প্রতিক জরিপগুলো ট্রাম্পের সামগ্রিক জনপ্রিয়তা হ্রাস এবং তাঁর সমর্থকগোষ্ঠীর একাংশের মধ্যে অসন্তোষের প্রমাণ দিচ্ছে। পুরুষ ভোটারদের মধ্যেও সমর্থন কমার ইঙ্গিত রয়েছে। তবে এই পরিবর্তনের সুনির্দিষ্ট মাত্রা নির্ধারণে আরও লিঙ্গভিত্তিক জরিপের তথ্য প্রয়োজন। মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলই শেষ পর্যন্ত দেখাবে, এই জনমত পরিবর্তন ভোটের বাক্সে কতটা প্রভাব ফেলেছে।

বুশকন্যা বারবারার ২৫০০ ডলারের অনুদানে টালারিকোর সিনেট লড়াইয়ে মার্কিন রাজনীতিতে নতুন চমক

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে আগাম ভোটের জোয়ার, সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই

টেক্সাসে ডেমোক্র্যাট তালারিকোর পাশে বুশ পরিবারের দুই সদস্য, চাপে ট্রাম্পপন্থী রিপাবলিকান শিবির






