হরমুজ প্রণালিতে সাত জাহাজে হামলার দাবি, নতুন উত্তেজনায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ল
ইরানের সাতটি তেলবাহী জাহাজ আক্রান্তের দাবি ঘিরে উত্তেজনা বাড়ছে। ব্রেন্ট তেলের দাম ১১৪ ডলার ছাড়িয়েছে, বিশ্ববাজারে বাড়ছে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ।
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে। ইরানের দাবি, সেখানে সাতটি তেলবাহী জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে অথবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে উদ্বেগ বেড়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত আরও বাড়ার আশঙ্কা এবং সৌদি আরবে হুথি গোষ্ঠীর হামলার খবর পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। তবে সাতটি জাহাজের ক্ষয়ক্ষতির সব তথ্য এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
ইরানের দাবি, আক্রান্ত হয়েছে সাতটি জাহাজ। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চারটি জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে। ইরানের অভিযোগ, জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালির আশপাশে তাদের অনুমোদন না থাকা পথে চলাচল করছিল এবং এক জাহাজ থেকে অন্য জাহাজে তেল স্থানান্তর করছিল।
ইরানি সূত্রের দাবি, আরও তিনটি জাহাজ সমুদ্রে পেতে রাখা মাইনে আঘাত পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ঘটনার পূর্ণ বিবরণ এবং সাতটি জাহাজের ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইরানের দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ফলে এই ঘটনাকে নিশ্চিতভাবে সাতটি ট্যাংকারে হামলা হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক হবে না।
ব্যারেলপ্রতি ১১৪ ডলার ছাড়াল ব্রেন্ট তেল। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। ২৩ অক্টোবর প্রকাশিত বাজারসংক্রান্ত প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৪ ডলারের ওপরে ওঠার কথা জানানো হয়েছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে দাম ১১৪.২৮ ডলারে পৌঁছানোর তথ্য উল্লেখ করা হয়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেল ডব্লিউটিআইয়ের দামও ব্যারেলপ্রতি ১০১ ডলারের ওপরে উঠে যায়। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে তেলের উৎপাদন ও পরিবহন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এই ঝুঁকির কারণে ব্যবসায়ীরা ভবিষ্যতে সরবরাহ কমে যাওয়ার সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে বেশি দামে তেল কেনাবেচা করতে পারেন।
কেন গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি। পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ এটি। সৌদি আরব, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের তেল ও জ্বালানি এই পথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছায়। এই নৌপথে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে এশিয়া, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বাজারেও প্রভাব পড়তে পারে। বিকল্প পাইপলাইন দিয়ে কিছু তেল পরিবহন করা সম্ভব হলেও সব সরবরাহ দ্রুত অন্য পথে সরিয়ে নেওয়া সহজ নয়।
সৌদি আরবে হামলায় বাড়ছে উদ্বেগ। হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতির পাশাপাশি সৌদি আরবে হুথি গোষ্ঠীর হামলার খবরও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। তবে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের উল্লেখ করা প্রতিটি ঘটনার সঙ্গে হুথি গোষ্ঠীর সরাসরি সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
বিশ্ব অর্থনীতিতে কী প্রভাব পড়তে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দীর্ঘ সময় ধরে বেশি থাকলে আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জ্বালানি ব্যয় বেড়ে যেতে পারে। পরিবহন, কৃষি, শিল্প উৎপাদন ও বিদ্যুৎ খাতেও অতিরিক্ত খরচের চাপ তৈরি হতে পারে। পণ্য পরিবহনের ব্যয় বাড়লে সাধারণ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দামেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে।
তেলের দাম কতটা বাড়বে এবং সেই বৃদ্ধি কত দিন স্থায়ী হবে, তা নির্ভর করছে সংঘাতের পরিস্থিতি, জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহ এবং কূটনৈতিক উদ্যোগের ওপর। সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালিতে সাতটি জাহাজ আক্রান্ত হওয়ার খবরটি ইরানের পক্ষ থেকে করা একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে খবরটি প্রকাশিত হলেও সব ঘটনার স্বাধীন নিশ্চিতকরণ এখনো পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, তেলের দাম ১১৪ ডলার ছাড়ানোর তথ্য বাজারসংক্রান্ত প্রতিবেদনেও উঠে এসেছে।





