সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
ভেনেজুয়েলায় অবাধ নির্বাচনের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভ, ভোটের তারিখ ঘোষণার চাপ বাড়ছেপশ্চিম তীরে গুলির হামলার পর নেতানিয়াহুর নির্দেশে লিকুদ দলের সব রাজনৈতিক কর্মসূচি বাতিলতল্লাশির পর নিরাপত্তাহীনতায় ওয়াশিংটনের বাসা ছাড়ছেন মার্কিন কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমরসাইবার নিরাপত্তা ও প্রযুক্তি উন্নয়নে নতুন কমিটির পরিকল্পনা, দেশের ডিজিটাল খাতে তৈরি হবে কি নতুন সম্ভাবনা?ট্রাম্পের সমর্থনে রামাস্বামীর বিতর্কিত প্রচারণা, প্রতিদ্বন্দ্বীর পরিবার নিয়ে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি

তল্লাশির পর নিরাপত্তাহীনতায় ওয়াশিংটনের বাসা ছাড়ছেন মার্কিন কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমর

ওয়াশিংটনে নিজের বাসায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারীদের তল্লাশির পর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইলহান ওমর; পরিবারের সুরক্ষায় বাসস্থান পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

তল্লাশির পর নিরাপত্তাহীনতায় ওয়াশিংটনের বাসা ছাড়ছেন মার্কিন কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমর
তল্লাশির পর নিরাপত্তাহীনতায় ওয়াশিংটনের বাসা ছাড়ছেন মার্কিন কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমর

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমর ওয়াশিংটন ডিসিতে নিজের বাসভবন ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার সদস্যদের তল্লাশির পর তাঁর বাসার ঠিকানা প্রকাশ্যে চলে আসা এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। ২১ অক্টোবর প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে ঘটনাটি নিয়ে প্রথমবারের মতো বিস্তারিত বক্তব্য দেন মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের এই ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা। ২২ অক্টোবর প্রকাশিত বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনেও তাঁর বাসা পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

গত ১২ অক্টোবর ভোরে যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের অপরাধ তদন্ত শাখার কর্মকর্তারা ওমরের ওয়াশিংটন ডিসির বাসায় তল্লাশি চালান। মার্কিন বিচার বিভাগের বক্তব্য অনুযায়ী, আদালতের অনুমোদিত তল্লাশি পরোয়ানার ভিত্তিতে চলমান একটি ফৌজদারি তদন্তের অংশ হিসেবে এই অভিযান পরিচালিত হয়। তবে তদন্তের সবিস্তার বিবরণ কর্তৃপক্ষ প্রকাশ করেনি।

ওমর জানান, সেদিন ভোর ছয়টার দিকে দরজায় জোরে আঘাত ও কর্মকর্তাদের চিৎকারে তাঁর ঘুম ভেঙে যায়। প্রথমে তিনি বুঝতে পারেননি কী ঘটছে। পরিস্থিতি দেখে তাঁর মনে হয়েছিল, হয়তো বাড়িতে আগুন লেগেছে অথবা আশপাশে কোনো জরুরি ঘটনা ঘটেছে। পরে কর্মকর্তারা নিজেদের পরিচয় দেন এবং তাঁর কাছে তল্লাশি পরোয়ানা উপস্থাপন করেন।

ওমরের বর্ণনা অনুযায়ী, প্রায় চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা ধরে বাড়ির বিভিন্ন কক্ষে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় তাঁর স্বামী এবং পরিবারের একজন সন্তানও বাসায় ছিলেন। তিনি দাবি করেন, কর্মকর্তারা মোট ১৭টি জিনিস নিয়ে যান। এসব জিনিসের মধ্যে ছিল কয়েকটি মুঠোফোন, ব্যক্তিগত নোটবই, একটি পুরোনো ক্যামেরা এবং সোমালি ভাষা শেখার একটি বই। কোন জিনিস কেন জব্দ করা হয়েছে, সে বিষয়ে তদন্তের সম্পূর্ণ বিবরণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

ওমর বলেন, অভিযানের সময় কর্মকর্তারা তল্লাশির পরোয়ানার সীমার মধ্যে কাজ করছেন কি না, তা বোঝার চেষ্টা করেছেন তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কর্মকর্তাদের আচরণ কিছু ক্ষেত্রে অনধিকারচর্চামূলক মনে হলেও তাঁরা মোটের ওপর শালীন ছিলেন। তবে তল্লাশির সময় এবং এর পরবর্তী পরিস্থিতি তাঁর ও পরিবারের সদস্যদের মানসিকভাবে বিচলিত করেছে।

বাসা পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে তিনি নিরাপত্তার বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তাঁর বক্তব্য, তল্লাশির পর বাসার ঠিকানা প্রকাশ্যে চলে এসেছে। আগে থেকেই হুমকির মুখে থাকার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। এখন পরিবারের সদস্যরা বাসায় আসা-যাওয়া করলে তাঁদের গতিবিধি অনুসরণ করার আশঙ্কাও করছেন তিনি। ফলে বর্তমান ঠিকানায় থাকা তাঁর পরিবারের জন্য নিরাপদ নয় বলে মনে করছেন এই আইনপ্রণেতা।

তবে বাসা ছাড়ার সিদ্ধান্তকে রাজনীতি থেকে সরে যাওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন না ওমর। তিনি তদন্তে নিজের বিরুদ্ধে কোনো অন্যায়ের অভিযোগ সত্য নয় বলে দাবি করেছেন এবং আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। তাঁর মতে, এই তদন্তের সময় নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে তদন্তের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে প্রমাণিত হয়নি।

তদন্তের কেন্দ্রে রয়েছে ওমরের পরিবারের অভিবাসনসংক্রান্ত নথিপত্র। তদন্ত সম্পর্কে অবগত এক ব্যক্তির বরাতে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, কর্তৃপক্ষ পরিবারের অভিবাসন নথিতে সম্ভাব্য জালিয়াতি বা ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগ খতিয়ে দেখছে। এ বিষয়ে তাঁর কয়েকজন আত্মীয়ের কাছে গ্র্যান্ড জুরি তদন্তের আওতায় নথি বা তথ্য চেয়ে সমন পাঠানো হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি এবং অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে অপরাধী বলা যায় না।

সোমালিয়ায় জন্ম নেওয়া ইলহান ওমর ১২ বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। পরে তিনি মার্কিন নাগরিকত্ব লাভ করেন। ২০১৮ সালে নির্বাচিত হয়ে তিনি কংগ্রেসে যোগ দেন এবং মিনিয়াপোলিসকেন্দ্রিক মিনেসোটার পঞ্চম নির্বাচনী এলাকার প্রতিনিধিত্ব করছেন। তিনি ডেমোক্র্যাট দলের প্রগতিশীল অংশের পরিচিত মুখ এবং দীর্ঘদিন ধরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর রাজনৈতিক সহযোগীদের সমালোচনা করে আসছেন।

ওমর ও তাঁর কার্যালয় এর আগেও অভিবাসনসংক্রান্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাঁর কার্যালয় ১২ অক্টোবরের অভিযানের পর প্রকাশিত বিবৃতিতে ঘটনাটিকে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে লক্ষ্যবস্তু করার চেষ্টা বলে অভিহিত করে। বিপরীতে, বিচার বিভাগ জানিয়েছে, তল্লাশিটি চলমান ফৌজদারি তদন্তের অংশ। কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে এমন কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি, যাতে ওমরের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে বলা যায়।

অভিযানটি যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগে হওয়ায় রাজনৈতিক বিতর্কও তৈরি হয়েছে। আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারিত হবে। ডেমোক্র্যাট নেতারা অভিযানের সময় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সরকারি আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাকে ব্যবহারের অভিযোগ করেছেন। অন্যদিকে, তদন্তের সময় নির্বাচন ঘনিয়ে এলেও শুধু সময়ের ভিত্তিতে অভিযানকে রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে নিশ্চিত করা যায় না।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, এই অভিযানের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তবে ওমর সাক্ষাৎকারে সেই বক্তব্যের বিরোধিতা করেছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আক্রমণের প্রসঙ্গ তুলেছেন। দুই পক্ষের বক্তব্যের মধ্যে এই বিরোধের নিষ্পত্তি এখনো হয়নি।

আইনগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আদালতের অনুমোদিত তল্লাশি পরোয়ানা থাকা মানেই অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া নয়। তদন্তকারীরা প্রমাণ সংগ্রহ করতে পারেন, কিন্তু অপরাধের দায় নির্ধারণের জন্য যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া প্রয়োজন। একইভাবে, ওমরের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযানের অভিযোগও তাঁর বক্তব্য হিসেবে বিবেচনা করতে হবে; সেটিকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে উপস্থাপন করা যাবে না।

ওমরের বাসা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিবেশ, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এবং চলমান ফৌজদারি তদন্তকে ঘিরে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তদন্তের প্রকৃত ভিত্তি, জব্দ করা সামগ্রীর গুরুত্ব এবং ভবিষ্যতে কোনো অভিযোগ আনা হবে কি না এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো অনিশ্চিত। কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তথ্য ও আদালতের পরবর্তী কার্যক্রমই এই ঘটনার পরবর্তী গতিপথ স্পষ্ট করবে।


ট্যাগ: ইলহানওমরযুক্তরাষ্ট্রমার্কিনরাজনীতিওয়াশিংটনফেডারেলতদন্তঅভিবাস

প্রতিবেদক

CSB News USA

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।