সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
আফগান মেয়েদের শিক্ষার অধিকার ফেরাতে তালেবানের ওপর চাপ বাড়াল ইউরোপীয় ইউনিয়নভেনেজুয়েলায় অবাধ নির্বাচনের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভ, ভোটের তারিখ ঘোষণার চাপ বাড়ছেপশ্চিম তীরে গুলির হামলার পর নেতানিয়াহুর নির্দেশে লিকুদ দলের সব রাজনৈতিক কর্মসূচি বাতিলতল্লাশির পর নিরাপত্তাহীনতায় ওয়াশিংটনের বাসা ছাড়ছেন মার্কিন কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমরডিজিটাল বাংলাদেশের নতুন অধ্যায়ে সাইবার নেতৃত্বের পরীক্ষা

আফগান মেয়েদের শিক্ষার অধিকার ফেরাতে তালেবানের ওপর চাপ বাড়াল ইউরোপীয় ইউনিয়ন

আফগানিস্তানে লাখ লাখ মেয়ের শিক্ষাজীবন অনিশ্চিত; মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষার ওপর নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে প্রত্যাহার করে সমান অধিকার নিশ্চিত করতে তালেবানকে আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

আফগান মেয়েদের শিক্ষার অধিকার ফেরাতে তালেবানের ওপর চাপ বাড়াল ইউরোপীয় ইউনিয়ন
আফগান মেয়েদের শিক্ষার অধিকার ফেরাতে তালেবানের ওপর চাপ বাড়াল ইউরোপীয় ইউনিয়ন

আফগানিস্তানে মেয়েদের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে এবং নিঃশর্তভাবে প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। সংস্থাটি বলেছে, শিক্ষা প্রতিটি মানুষের মৌলিক অধিকার। ছেলে ও মেয়েদের জন্য সমান শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। তালেবান শাসনের অধীনে দীর্ঘদিন ধরে চলা বিধিনিষেধের কারণে দেশটির লাখ লাখ কিশোরী বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না। এই পরিস্থিতি তাদের ভবিষ্যৎ, কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা এবং সামগ্রিক সামাজিক উন্নয়ন নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন দীর্ঘদিন ধরে আফগানিস্তানে নারী ও মেয়েদের অধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। সংস্থাটির বক্তব্য, শিক্ষা থেকে মেয়েদের বঞ্চিত রাখা মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী। দেশটির কর্তৃপক্ষের উচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো সব শিক্ষার্থীর জন্য উন্মুক্ত করা এবং নারী ও মেয়েদের সামাজিক জীবনে অংশগ্রহণের সুযোগ ফিরিয়ে দেওয়া।

জাতিসংঘের শিশু তহবিলের ২০২৬ সালের ১৪ আগস্ট প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে তালেবান পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর থেকে ২৬ লাখের বেশি মেয়ে মাধ্যমিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এই পরিসংখ্যান আফগানিস্তানের শিক্ষা সংকটের ব্যাপকতা তুলে ধরে। দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ের বাইরে থাকায় এসব শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন, দক্ষতা অর্জন এবং ভবিষ্যতে কর্মসংস্থানের সুযোগ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে ষষ্ঠ শ্রেণির পর মেয়েদের আনুষ্ঠানিক শিক্ষাগ্রহণে বিধিনিষেধ কার্যকর হয়। পরে ২০২২ সালের ডিসেম্বরে নারীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুযোগও বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর ফলে অনেক কিশোরী মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করতে পারছে না। যারা উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে চিকিৎসক, শিক্ষক, প্রকৌশলী কিংবা অন্যান্য পেশায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখেছিল, তাদের ভবিষ্যৎও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

আফগানিস্তানে মেয়েদের শিক্ষার সংকট শুধু ব্যক্তিগত জীবনে সীমাবদ্ধ নয়। শিক্ষিত নারীরা একটি দেশের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, অর্থনীতি ও সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। মেয়েদের পড়াশোনার সুযোগ বন্ধ থাকলে ভবিষ্যতে দক্ষ নারী শিক্ষক, চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও পেশাজীবীর সংখ্যা কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। বিশেষ করে নারী রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে নারী স্বাস্থ্যকর্মীর প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা এবং জাতিসংঘের শিশু তহবিল ২০২৬ সালের ২৪ জানুয়ারি প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে আফগানিস্তানে মেয়েদের শিক্ষার সংকট নিয়ে উদ্বেগ জানায়। সংস্থা দুটি জানায়, সে সময় ২২ লাখ কিশোরী মাধ্যমিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত ছিল। পরবর্তী সময়ে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই সংখ্যা বেড়ে ২৬ লাখের বেশি হয়েছে। এটি সংকটের দীর্ঘস্থায়ী প্রকৃতি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর এর গুরুতর প্রভাব নির্দেশ করে।

শিক্ষার সুযোগ হারানোর ফলে আফগান মেয়েদের মানসিক ও সামাজিক বিকাশও বাধাগ্রস্ত হতে পারে। বিদ্যালয় শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান অর্জনের স্থান নয়; এটি শিক্ষার্থীদের চিন্তাশক্তি, সামাজিক দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা গড়ে তোলার ক্ষেত্র। দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাইরে থাকলে অনেক শিক্ষার্থীর জন্য পরবর্তী সময়ে পড়াশোনায় ফিরে আসাও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বিভিন্ন বিকল্প শিক্ষাব্যবস্থা ও স্থানীয় শিক্ষাকেন্দ্রের মাধ্যমে শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার চেষ্টা করছে। কিছু ক্ষেত্রে ঘরভিত্তিক পাঠদান ও বিকল্প শিক্ষার সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। তবে এসব উদ্যোগ পূর্ণাঙ্গ বিদ্যালয় বা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার বিকল্প নয়। শিক্ষার্থীদের স্বীকৃত পাঠ্যক্রম অনুসরণ, পরীক্ষায় অংশগ্রহণ এবং পরবর্তী শিক্ষাস্তরে যাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি।

আফগানিস্তানে মেয়েদের শিক্ষার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেশটির অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। শিক্ষিত ও দক্ষ জনগোষ্ঠী ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন অর্জন কঠিন। নারী শিক্ষার সুযোগ সীমিত হলে কর্মক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ কমে যেতে পারে এবং পরিবারগুলোর আর্থিক স্বাবলম্বিতা বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এর প্রভাব স্বাস্থ্যসেবা, দারিদ্র্য হ্রাস এবং সামগ্রিক উন্নয়নেও পড়তে পারে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের আহ্বানের মূল লক্ষ্য হলো আফগানিস্তানে মেয়েদের জন্য শিক্ষার অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বিভিন্ন উদ্যোগ সত্ত্বেও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বাস্তব অগ্রগতি এখনো সীমিত। তাই শুধু বিবৃতি বা কূটনৈতিক আহ্বান নয়, বাস্তবে বিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়া এবং নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

আফগানিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে ধরেছে মেয়েদের শিক্ষার অধিকার কি শুধু ঘোষণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি বাস্তবেও তা নিশ্চিত করা হবে? ইউরোপীয় ইউনিয়নের আহ্বান সেই প্রশ্নকে আবার সামনে এনেছে। এখন নজর থাকবে তালেবান কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে এবং দীর্ঘদিন শ্রেণিকক্ষের বাইরে থাকা লাখ লাখ মেয়ের জন্য শিক্ষার দরজা আবার খুলে দেওয়া হয় কি না, তার ওপর।


ট্যাগ: আফগানিস্তানইউরোপীয়ইউনিয়নমেয়েদেরশিক্ষাশিক্ষারঅধিকারমানবাধিকারতালেবান

প্রতিবেদক

CSB News USA

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।