সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
নির্বাচনের আগে রিপাবলিকানদের পক্ষে ট্রাম্পের প্রচার তহবিলে ৩০ কোটি ডলারের বেশি ব্যয়ইরানের সঙ্গে আলোচনা নয়, ট্রাম্পের কঠোর ঘোষণায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংঘাতের শঙ্কা বাড়ছেবাংলাদেশের অস্কার কমিটিতে কার নিয়ন্ত্রণ? চলচ্চিত্র নির্বাচন ও অর্থায়ন নিয়ে প্রশ্নচার বছরের রুশ কারাবাস শেষে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরলেন ৭৪ বছর বয়সী শিক্ষক স্টিফেন হাবার্ডদক্ষিণ আমেরিকার ১১ দেশে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ১৯৫ মিলিয়ন ডলার ছাড়াল

বাংলাদেশের অস্কার কমিটিতে কার নিয়ন্ত্রণ? চলচ্চিত্র নির্বাচন ও অর্থায়ন নিয়ে প্রশ্ন

বাংলাদেশ অস্কার কমিটির বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ, স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন চলচ্চিত্র নির্বাচন প্রক্রিয়া ও অর্থের উৎস প্রকাশের দাবি চলচ্চিত্র সংসদ নেতবৃন্দের ।

বাংলাদেশের অস্কার কমিটিতে কার নিয়ন্ত্রণ? চলচ্চিত্র নির্বাচন ও অর্থায়ন নিয়ে প্রশ্ন
বাংলাদেশের অস্কার কমিটিতে কার নিয়ন্ত্রণ? চলচ্চিত্র নির্বাচন ও অর্থায়ন নিয়ে প্রশ্ন

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র বিশ্বমঞ্চে প্রতিনিধিত্ব করার জন্য একাডেমি (অস্কার) অ্যাওয়ার্ডসের ৯৯তম আসরে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের সিনেমা নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, অস্বচ্ছতা ও প্রভাবশালী একটি গোষ্ঠীর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ উঠেছে।

বাংলাদেশ ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজ (বিএফএসএফ) কর্তৃক পরিচালিত বাংলাদেশ অস্কার কমিটি দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ইচ্ছামতো প্রক্রিয়ায় প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে অস্কারের জন্য একটি সিনেমা নির্বাচন করে পাঠাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত ২৭ সেপ্টেম্বর রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে বাংলাদেশ থেকে অস্কারে চলচ্চিত্র পাঠানো উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ফেডারেশনের সদস্য ফিল্ম সোসাইটি, চলচ্চিত্র সংসদ ও ফিল্ম ক্লাবগুলোকে এ বিষয়ে যথাযথভাবে অবহিত করা হয়নি। অস্কারের চলচ্চিত্র নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর অংশগ্রহণ ও মতামত কেন গ্রহণ করা হয়নি, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।

ফেডারেশনের একাংশ বাংলাদেশ ফিল্ম সোসাইটিজ ফেডারেশনের (বিএফএসএফ) দাবি, বাংলাদেশ ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজ (বিএফএফএস) প্রায় দুই দশক ধরে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে সংশ্লিষ্ট সংগঠনটির নেতৃত্ব ও কার্যক্রমে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছিল। নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিদের নিয়ে কমিটি গঠন, চলচ্চিত্র নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অনৈতিক প্রভাব বিস্তার এবং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ বারবার সামনে এসেছে বলে দাবি তাদের।

বাংলাদেশ ফিল্ম সোসাইটিজ ফেডারেশনের সভাপতি বড়ুয়া মনোজিত ধীমন বলেন, “চলচ্চিত্র নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা কিংবা অস্বচ্ছতা গ্রহণযোগ্য নয়। অস্কারের মতো আন্তর্জাতিক মর্যাদাপূর্ণ আসরে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকারী চলচ্চিত্র নির্বাচনে স্বচ্ছতা, যোগ্যতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। চলচ্চিত্রের সমতা উপেক্ষা করে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার সুযোগ থাকা উচিত নয়। অতীতের অনিয়মের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন করতে হবে। আমরা চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলনে গণতান্ত্রিক চর্চা, সাংগঠনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে চাই। চলচ্চিত্রের মর্যাদা ও স্বার্থ রক্ষায় যেকোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান সুস্পষ্ট ও আপসহীন। ফেডারেশনের একাংশ যদি দেশের সুনামহানি করে, নিজেদের স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা করে, সেটি বন্ধ করা সরকারের দায়িত্ব। আমি মনে করি, বিষয়টি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।”

বাংলাদেশ ফিল্ম সোসাইটিজ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সায়মান তারেক বলেন, আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন ‘বাংলাদেশ শর্ট ফিল্ম ফোরাম’-এর নিয়ন্ত্রণাধীন বাংলাদেশ ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজ বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে লুটপাট করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁর দাবি, ৫ আগস্টের পর শর্ট ফিল্ম ফোরামের সভাপতি আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশ ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজের (বিএফএফএস) কমিটি পরিবর্তন করে নিজেকে বিএফএসএফের সভাপতি ঘোষণা করেন এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে সুবিধা নিয়েছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিবর্তন এলেও শর্ট ফিল্ম ফোরামের নেতৃত্বে পরিবর্তন হয়নি এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সহযোগীদের কমিটি এখনো বহাল রয়েছে। সরকারি উদ্যোগে অস্কারে সিনেমা পাঠানোর ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, এসব অনিয়মের বিষয়ে অস্কার কমিটির কাছে অভিযোগ জানানো হবে।

চলচ্চিত্র সংসদ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিযোগ, বাংলাদেশ ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজের (বিএফএফএস) সদস্যদের না জানিয়ে গোপনে হোটেল সোনারগাঁওয়ে সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিবছর অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়। সদস্য সংগঠনগুলোর সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময়, কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের পরিবর্তে অভিযুক্ত ফেডারেশনের কার্যক্রম সীমিত পরিসরে পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁদের। বছরে একবার সদস্যদের সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানোই যদি ফেডারেশনের প্রধান কার্যক্রম হয়ে থাকে, তাহলে চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলনের বিকাশ, সদস্যদের অধিকার রক্ষা এবং অস্কারে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র নির্বাচন প্রক্রিয়ায় তাঁদের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করার দায়িত্ব কীভাবে পালিত হচ্ছে এমন প্রশ্নও তুলেছেন চলচ্চিত্র সংসদকর্মীরা।

অস্কারে পাঠানোর জন্য নির্বাচিত চলচ্চিত্রটির মান, নির্বাচনপদ্ধতি এবং সংশ্লিষ্ট কমিটির সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়েও আপত্তি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা। তাঁদের দাবি, চলচ্চিত্র নির্বাচনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন বা ব্যক্তিগত প্রভাব কাজ করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে হোটেল সোনারগাঁওয়ের মতো পাঁচ তারকা হোটেলে সংবাদ সম্মেলন আয়োজনের ব্যয় কোন উৎস থেকে বহন করা হয়েছে, সে বিষয়েও স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দাবি করেছেন তাঁরা। ফেডারেশন অর্থ কোথা থেকে পেয়েছে, অতীতে আওয়ামী লীগ সরকার অভিযুক্ত ফেডারেশনকে অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করত কি না এবং বর্তমানে কোনো অর্থায়নের মাধ্যমে দেশে নাশকতার পরিকল্পনা করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা। অস্কারে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র নির্বাচনের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন কেন গোপনে করা হবে, সে প্রশ্নও তুলেছেন তাঁরা। তাঁদের দাবি, ভারত, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশে সরকারি উদ্যোগে অস্কার কমিটি গঠন ও চলচ্চিত্র নির্বাচন প্রক্রিয়া পরিচালিত হয় এবং সংশ্লিষ্টদের অবহিত করে সিনেমা নির্বাচন করা হয়।

চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা আরও দাবি করেছেন, অতীতেও সংশ্লিষ্ট সংগঠনটির বিরুদ্ধে সরকারি সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ, সাংগঠনিক প্রভাব বিস্তার এবং আর্থিক অনিয়মের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ছিল। রাজনৈতিক ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর সংগঠনটির নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তিরা অবস্থান পরিবর্তন করে নতুন করে সরকারি সুযোগ-সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ করেছেন তাঁরা।

চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের মতে, অস্কারের মতো আন্তর্জাতিক মর্যাদাপূর্ণ আসরে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকারী চলচ্চিত্র নির্বাচন কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর একক সিদ্ধান্তের বিষয় হতে পারে না। এ প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত নীতিমালা, স্বচ্ছ নির্বাচনপদ্ধতি, যোগ্যতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কমিটির গঠন, সদস্যদের প্রতিনিধিত্ব, চলচ্চিত্র নির্বাচনের মানদণ্ড এবং অর্থায়নের উৎস সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য প্রকাশ করা প্রয়োজন।

এ অবস্থায় চলচ্চিত্র সংসদ ও ফিল্ম ক্লাব-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বাংলাদেশ অস্কার কমিটির গঠন ও কার্যক্রম, চলচ্চিত্র নির্বাচনের প্রক্রিয়া, সদস্য সংগঠনগুলোর অংশগ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে প্রয়োজনীয় নথিপত্র পরীক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য গ্রহণের মাধ্যমে একটি স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য তদন্ত হওয়া উচিত।

চলচ্চিত্র অঙ্গনের স্বার্থে অনিয়মের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলনে গণতান্ত্রিক চর্চা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সব সংগঠন ও চলচ্চিত্রকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্বরা।


ট্যাগ: অস্কারবাংলাদেশচলচ্চিত্রঅস্কারকমিটিচলচ্চিত্রসংসদঅনিয়মেরঅভিযোগদুর্নীতিরঅভিযোগস্বচ্ছতারদাবি

প্রতিবেদক

Saifur Rahman

Bangladesh Correspondent

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।