সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
ভেনেজুয়েলায় অবাধ নির্বাচনের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভ, ভোটের তারিখ ঘোষণার চাপ বাড়ছেপশ্চিম তীরে গুলির হামলার পর নেতানিয়াহুর নির্দেশে লিকুদ দলের সব রাজনৈতিক কর্মসূচি বাতিলতল্লাশির পর নিরাপত্তাহীনতায় ওয়াশিংটনের বাসা ছাড়ছেন মার্কিন কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমরসাইবার নিরাপত্তা ও প্রযুক্তি উন্নয়নে নতুন কমিটির পরিকল্পনা, দেশের ডিজিটাল খাতে তৈরি হবে কি নতুন সম্ভাবনা?ট্রাম্পের সমর্থনে রামাস্বামীর বিতর্কিত প্রচারণা, প্রতিদ্বন্দ্বীর পরিবার নিয়ে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি

পশ্চিম তীরে গুলির হামলার পর নেতানিয়াহুর নির্দেশে লিকুদ দলের সব রাজনৈতিক কর্মসূচি বাতিল

পশ্চিম তীরে ভয়াবহ গুলির ঘটনায় পাঁচ ইসরায়েলি আহত হওয়ার পর আসন্ন নির্বাচনের আগে দলীয় সব রাজনৈতিক কর্মসূচি বাতিলের নির্দেশ দিয়েছেন নেতানিয়াহু।

পশ্চিম তীরে গুলির হামলার পর নেতানিয়াহুর নির্দেশে লিকুদ দলের সব রাজনৈতিক কর্মসূচি বাতিল
পশ্চিম তীরে গুলির হামলার পর নেতানিয়াহুর নির্দেশে লিকুদ দলের সব রাজনৈতিক কর্মসূচি বাতিল

অধিকৃত পশ্চিম তীরে গুলির হামলার পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তাঁর নেতৃত্বাধীন লিকুদ দলের সব রাজনৈতিক কর্মসূচি বাতিলের নির্দেশ দিয়েছেন। শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর সকালে সংঘটিত এই হামলার পর দলটির পক্ষ থেকে কর্মসূচি বাতিলের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটেছে, যখন ইসরায়েলে আগামী ২৭ অক্টোবর জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ফলে নিরাপত্তা পরিস্থিতির পাশাপাশি দেশটির নির্বাচনী রাজনীতিতেও এই ঘটনার প্রভাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, লিকুদ দলের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পশ্চিম তীরের জুডিয়া জংশনে গুরুতর হামলার পর নেতানিয়াহু শুক্রবার সকালে নির্ধারিত সব রাজনৈতিক কর্মসূচি বাতিলের নির্দেশ দেন। তবে কর্মসূচি বাতিলের বাইরে দলের নির্বাচনী প্রচারণা কত দিন বন্ধ থাকবে, পরবর্তী কর্মসূচি কখন শুরু হবে কিংবা এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে নতুন কোনো নিরাপত্তাব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ পশ্চিম তীরের হেবরন এলাকার কাছে রুট ৩৫ সড়কের জুডিয়া জংশনে গুলির ঘটনাটি ঘটে। প্রাথমিকভাবে অন্তত একজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেলেও পরে হতাহতের সংখ্যা বাড়ে। চিকিৎসাকর্মীদের তথ্য অনুযায়ী, হামলায় পাঁচজন ইসরায়েলি আহত হন। তাঁদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর এবং অন্য তিনজনের আঘাত তুলনামূলকভাবে কম গুরুতর বলে জানানো হয়।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে সেনারা পাল্টা গুলি চালায় এবং হামলায় জড়িত সন্দেহভাজন দুই ফিলিস্তিনিকে হত্যা করে। তবে সন্দেহভাজনদের পরিচয়, হামলার সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য এবং ঘটনার পেছনে কোনো সংগঠনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তাই কোনো গোষ্ঠীর দায় স্বীকার বা সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো পর্যাপ্ত তথ্য এখনো নেই।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুসারে, হামলার পর ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী আশপাশের কয়েকটি ফিলিস্তিনি শহরে সড়ক অবরোধ ও চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করে। আহতদের ইসরায়েলের বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। চিকিৎসাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর সময়ও গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছিল বলে তাঁদের বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে সম্ভাব্য অতিরিক্ত হুমকি শনাক্তের চেষ্টা করে।

এই হামলার তাৎপর্য শুধু নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনের আগে ইসরায়েলের রাজনৈতিক দলগুলো ভোটারদের সমর্থন আদায়ে ব্যস্ত। এমন পরিস্থিতিতে ক্ষমতাসীন দলের নির্বাচনী কর্মসূচি হঠাৎ বাতিল হওয়ায় নিরাপত্তা ইস্যুটি আবারও রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। তবে কর্মসূচি বাতিলের সিদ্ধান্ত থেকে নির্বাচনের ফলাফল বা কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের জনপ্রিয়তা সম্পর্কে সরাসরি সিদ্ধান্ত টানা যায় না।

নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বজায় রেখেছেন। তাঁর নেতৃত্বাধীন লিকুদ দল দেশটির অন্যতম প্রধান ডানপন্থী রাজনৈতিক শক্তি। আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা, অর্থনীতি, সরকারের কার্যক্রম এবং ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে সংঘাতের ভবিষ্যৎ ইসরায়েলি ভোটারদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনাগুলোও রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও তীব্র করেছে।

পশ্চিম তীর ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল অঞ্চল। ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর থেকে অঞ্চলটি ইসরায়েলের দখলে রয়েছে। আন্তর্জাতিক বিচারিক ও কূটনৈতিক পরিসরে পশ্চিম তীরের দখল, ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ এবং ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান, ফিলিস্তিনিদের হামলা এবং ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার ঘটনাও অঞ্চলটিতে উত্তেজনা বাড়িয়েছে।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পশ্চিম তীরে সহিংসতা ও নিরাপত্তা অভিযান নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বেড়েছে। ফিলিস্তিনি জনবসতিতে অভিযান, গ্রেপ্তার, চলাচলে বিধিনিষেধ এবং বসতি স্থাপনকারীদের হামলার অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে সামনে এসেছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ নিজেদের নাগরিকদের ওপর হামলা ঠেকানো এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে সামরিক পদক্ষেপের প্রধান যুক্তি হিসেবে তুলে ধরে। দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাতের ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা, যাতায়াত, চিকিৎসাসেবা এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

বর্তমান ঘটনায় পাঁচজন ইসরায়েলির আহত হওয়ার খবর এবং দুই সন্দেহভাজন হামলাকারীর নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেলেও হামলার পূর্ণাঙ্গ পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও তদন্ত প্রয়োজন। হামলাকারীদের পরিচয়, তাঁদের উদ্দেশ্য, ব্যবহৃত অস্ত্র এবং ঘটনার আগে কোনো সতর্কবার্তা ছিল কি না, এসব প্রশ্নের উত্তর পরবর্তী তদন্তে স্পষ্ট হতে পারে। একই সঙ্গে সড়ক অবরোধ কতক্ষণ বহাল থাকবে এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে কত সময় লাগবে, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।

লিকুদ দলের সব রাজনৈতিক কর্মসূচি বাতিলের সিদ্ধান্তকে আপাতত হামলার পর নেওয়া তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এই সিদ্ধান্ত দীর্ঘমেয়াদি নির্বাচনী কৌশলে পরিবর্তন আনবে কি না, তা এখনো পরিষ্কার নয়। দলটির পরবর্তী ঘোষণা এবং ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর হালনাগাদ তথ্য এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হবে।

পশ্চিম তীরের জুডিয়া জংশনে গুলির ঘটনা ইসরায়েলের নির্বাচনের ঠিক কয়েক দিন আগে নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে। হামলার পর নেতানিয়াহুর দলীয় কর্মসূচি বাতিলের নির্দেশ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হলেও ঘটনার সব দিক এখনো স্পষ্ট নয়। তাই হতাহতের সংখ্যা, হামলার দায় এবং রাজনৈতিক প্রভাব সম্পর্কে নতুন তথ্য প্রকাশিত হলে পরিস্থিতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র আরও পরিষ্কার হবে।


ট্যাগ: #ইসরায়েল #বেনিয়ামিননেতানিয়াহুপশ্চিমতীরগুলিরহামলালিকুদদল

প্রতিবেদক

CSB News USA

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।