পুরোনো গির্জায় মসজিদ গড়ার উদ্যোগ বাংলাদেশি প্রবাসী মোহাম্মদ ওসমানের
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে পুরোনো একটি প্রার্থনাস্থলকে মসজিদে রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মোহাম্মদ ওসমান। লকপোর্টে তাঁর এই উদ্যোগ স্থানীয় মুসলিমদের জন্য নতুন ইবাদতস্থল তৈরির সম্ভাবনা জাগিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের লকপোর্ট শহরে পুরোনো একটি গির্জার ভবনকে মুসলমানদের নামাজ আদায়ের উপযোগী করে তোলার উদ্যোগ নিয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মোহাম্মদ ওসমান। বাফেলো শহরে বসবাসকারী এই প্রবাসীর উদ্যোগে সেখানে নতুন প্রার্থনাস্থল গড়ে তোলার কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। একসময় খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের প্রার্থনার জন্য ব্যবহৃত ভবনটি নতুনভাবে কাজে লাগানোর এই উদ্যোগ স্থানীয় মুসলিমদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
লকপোর্ট নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের নায়াগ্রা কাউন্টিতে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক শহর। শহরটি ইরি খালের জন্য পরিচিত এবং কানাডা সীমান্তের কাছাকাছি হওয়ায় ভৌগোলিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। সময়ের পরিবর্তনে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে পুরোনো ধর্মীয় ভবনের ব্যবহার বদলেছে। কোথাও গির্জার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে, আবার কোথাও সেসব ভবন নতুন ধর্মীয় বা সামাজিক কাজে ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গত ৩১ আগস্ট লকপোর্টে পুরোনো ভবনটিতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সংস্কারকাজ চলতে দেখা যায়। ভবনের বাইরে মসজিদের নামসংবলিত একটি সাইনবোর্ড থাকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এসব তথ্য থেকে সেখানে মুসলমানদের প্রার্থনার স্থান তৈরির উদ্যোগের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তবে ভবনটির সুনির্দিষ্ট পরিচয়, কেনার মূল্য এবং সংস্কারকাজের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার মতো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
মোহাম্মদ ওসমানের পরিচিতি ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের বিবরণেও লকপোর্টে একটি প্রার্থনাস্থল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের উল্লেখ রয়েছে। তিনি নিউইয়র্কের বাফেলো শহরে বসবাস করেন এবং আবাসন খাতের সঙ্গে যুক্ত। তাঁর বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগের লক্ষ্য বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সহযোগিতা ও সুসম্পর্ক গড়ে তোলা। লকপোর্টের এই উদ্যোগও স্থানীয় মুসলিমদের ধর্মীয় চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে নতুন মসজিদটি ঠিক কবে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হবে, সেখানে একসঙ্গে কতজন মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন কিংবা নিয়মিত ধর্মীয় শিক্ষার ব্যবস্থা থাকবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। ভবনটির সংস্কার, প্রয়োজনীয় অনুমোদন এবং অন্যান্য প্রস্তুতির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত না হওয়ায় এ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।
বাফেলো শহরে গত কয়েক দশকে বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের অভিবাসীদের বসতি গড়ে উঠেছে। তাঁদের সঙ্গে বেড়েছে ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর গুরুত্ব। নতুন দেশে বসবাস শুরু করার পর মুসলিম পরিবারগুলোর জন্য কাছাকাছি নামাজের জায়গা, শিশুদের ধর্মীয় শিক্ষা এবং সামাজিক যোগাযোগের সুযোগ থাকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এ ধরনের প্রয়োজন থেকেই অনেক এলাকায় মসজিদ ও ইসলামিক কেন্দ্র গড়ে উঠেছে।
বাফেলোতে আগে থেকেই মুসলিমদের বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে মসজিদ বাইতুল আমান এবং বাফেলো ইসলামিক কালচারাল সেন্টারের মতো প্রতিষ্ঠান স্থানীয় মুসলিমদের ধর্মীয় ও সামাজিক জীবনে ভূমিকা রাখে। এসব প্রতিষ্ঠানে নামাজের পাশাপাশি ধর্মীয় শিক্ষা ও সামাজিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তবে বাফেলোর এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে লকপোর্টের নতুন উদ্যোগটির সাংগঠনিক সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থানে পুরোনো গির্জাকে মসজিদে রূপান্তরের নজির রয়েছে। জনসংখ্যার পরিবর্তন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ব্যবহার কমে যাওয়া এবং নতুন সম্প্রদায়ের চাহিদার কারণে কোনো কোনো পুরোনো ভবন নতুন কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। এতে ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের মানুষের জন্য ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগও তৈরি হতে পারে।
লকপোর্টে মোহাম্মদ ওসমানের উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় মুসলিমদের জন্য নতুন একটি ইবাদতস্থল তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে আশপাশের মুসলিম পরিবারগুলোর জন্য এটি নামাজ আদায় ও ধর্মীয় যোগাযোগের একটি নতুন সুযোগ হয়ে উঠতে পারে। তবে প্রকল্পটির অগ্রগতি ও আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের সময় সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত এটিকে চালু মসজিদ হিসেবে উল্লেখ করা ঠিক হবে না।





