যুক্তরাষ্ট্রে গুলিতে ৩ জন নিহত, ১৫ বছরের অভিযুক্ত কিশোরকে বাড়িতে থাকার অনুমতি
যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটল শহরে ‘বাইট অব সিয়াটল’ খাদ্য উৎসবে প্রাণঘাতী গুলির ঘটনায় অভিযুক্ত ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরকে কিশোর সংশোধনাগার থেকে মুক্তি দিয়ে গৃহবন্দি রাখার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার (২১ অক্টোবর) কিং কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্টের বিচারক ভেরোনিকা গ্যালভান এই সিদ্ধান্ত দেন।
৮৫,৮২৪ বার পড়া হয়েছে ৩ মিনিটে পড়ুন
যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটল শহরে ‘বাইট অব সিয়াটল’ খাদ্য উৎসবে প্রাণঘাতী গুলির ঘটনায় অভিযুক্ত ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরকে কিশোর সংশোধনাগার থেকে মুক্তি দিয়ে গৃহবন্দি রাখার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার (২১ অক্টোবর) কিং কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্টের বিচারক ভেরোনিকা গ্যালভান এই সিদ্ধান্ত দেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, কিশোরটি তার বাবার বাড়িতে ইলেকট্রনিক নজরদারির মধ্যে থাকবে এবং সার্বক্ষণিক একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির তত্ত্বাবধানে থাকতে হবে। মানসিক স্বাস্থ্য চিকিৎসাও চালিয়ে যেতে হবে। খবরটি প্রকাশ করেছে ।
বিচারকের এই সিদ্ধান্তের অর্থ অবশ্য মামলা থেকে অব্যাহতি পাওয়া নয়। কিশোরটির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিচারপ্রক্রিয়া চলবে। একই সঙ্গে তাকে প্রাপ্তবয়স্কদের আদালতে বিচারের মুখোমুখি করা হবে কি না, তা নিয়েও আইনি প্রক্রিয়া চলছে।
ঘটনাটি ঘটে গত ২৬ জুলাই সিয়াটল সেন্টারে আয়োজিত ‘বাইট অব সিয়াটল’ খাদ্য উৎসবে। এটি ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের একটি বড় খাদ্য উৎসব, যেখানে বিপুলসংখ্যক মানুষ খাবার ও বিনোদনের জন্য সমবেত হন। পুলিশ ও সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যা ৬টার কিছু পর উৎসবস্থলের কাছে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এতে তিনজন নিহত এবং চারজন আহত হন। আহতদের মধ্যে দুই বছর বয়সী একটি শিশুও ছিল।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা ছিল, ঘটনাটি একাধিক ব্যক্তির মধ্যে গোলাগুলির সঙ্গে সম্পর্কিত। নিহতদের মধ্যে ১৯ বছর বয়সী জুনিয়র সেমো ছিলেন, যাকে তদন্তকারীরা গোলাগুলিতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের একজন বলে মনে করেন। অন্য দুই নিহত ব্যক্তি ছিলেন উৎসবে উপস্থিত সাধারণ মানুষ। ঘটনার পর পুলিশ এক কিশোরকে আটক করে এবং অন্য সন্দেহভাজনদের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত শুরু করে।
কিশোরটির বিরুদ্ধে প্রথম ডিগ্রির হামলা এবং অবৈধভাবে আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, তার কাছে পলিমার৮০ নির্মিত ৯ মিলিমিটারের একটি আগ্নেয়াস্ত্র ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে তদন্তে পাওয়া ব্যালিস্টিক তথ্যের ভিত্তিতে অন্তত দুই নিহত ব্যক্তির মৃত্যুর সঙ্গে ওই কিশোরের অস্ত্রের গুলির মিল পাওয়া যায়নি। পরবর্তী প্রতিবেদনে তৃতীয় নিহত ব্যক্তির মৃত্যুর কারণ সম্পর্কেও অস্ত্রের প্রমাণ পর্যালোচনার তথ্য উঠে এসেছে। অর্থাৎ, কিশোরটির বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও তিনজনের মৃত্যুর জন্য তার অস্ত্রকে দায়ী করার মতো প্রমাণ এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হয়নি।
কিশোরটির আইনজীবীর বক্তব্য, গুলি চালানোর আগে অন্য ব্যক্তিরা তার দিকে গুলি ছুড়েছিলেন এবং সে আত্মরক্ষার জন্য পাল্টা গুলি চালায়। তবে এটি প্রতিরক্ষা পক্ষের দাবি; আদালতে চূড়ান্তভাবে আত্মরক্ষার বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে,
এমন নয়। ২১ অক্টোবরের শুনানিতে বিচারক ভেরোনিকা গ্যালভান বলেন, আত্মরক্ষার দাবির পক্ষে বিবেচনাযোগ্য যুক্তি রয়েছে। নতুন প্রমাণ ও পরিস্থিতি বিবেচনা করেই তিনি কিশোরটিকে আটককেন্দ্র থেকে বাড়িতে থাকার সুযোগ দেন।
এর আগে সেপ্টেম্বর মাসে কিশোরটির আইনজীবী তাকে বাবার বাড়িতে ইলেকট্রনিক নজরদারিতে রাখার আবেদন করেছিলেন। তখন আদালত আবেদন নাকচ করে তাকে আটক রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এবার নতুন শুনানিতে সেই অবস্থান পরিবর্তন করা হয়েছে। তবে প্রসিকিউটররা কিশোরটিকে জননিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করে আটক রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন।
নতুন আদেশ অনুযায়ী, কিশোরটিকে তার বাবার বাড়িতে থাকতে হবে এবং সার্বক্ষণিক প্রাপ্তবয়স্ক তত্ত্বাবধানে থাকতে হবে। তার ওপর ইলেকট্রনিক নজরদারি থাকবে। মানসিক স্বাস্থ্য চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে, কিশোর আদালতের তত্ত্বাবধানকারী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হবে এবং মামলার ভুক্তভোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে না। তাকে সিয়াটল সেন্টারেও প্রবেশ করতে নিষেধ করা হয়েছে।
এদিকে প্রসিকিউটররা মামলাটি কিশোর আদালতের পরিবর্তে প্রাপ্তবয়স্কদের আদালতে নেওয়ার আবেদন করেছেন। সেই আবেদনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত কিশোরটির বিরুদ্ধে অভিযোগের আইনি প্রক্রিয়া চলবে। বাড়িতে থাকার অনুমতি পাওয়াকে অভিযোগ থেকে মুক্তি বা নির্দোষ ঘোষণার সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।





