সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
নিজ দেশে তেল উৎপাদন করেও ক্যালিফোর্নিয়ায় হাওয়াইয়ের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে পেট্রলপ্রয়াত স্ত্রীর ছবিকে পাশে বসিয়ে প্রতিদিন দুপুরের খাবার খেতেন ৯৩ বছরের বৃদ্ধইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, পরমাণু ইস্যু অজুহাত; যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা কমাতে কূটনীতির আহ্বানদিল্লির বায়ুদূষণ বিপজ্জনকভাবে বাড়ছে, দূষণ ঠেকাতে ৩০ সংস্থাকে নিয়ে সরকারের উদ্যোগট্রাম্পের ঘোষণা, যুক্তরাষ্ট্র-ভারত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্তের পথে, মুম্বাইয়ে রুবিওর গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা

প্রয়াত স্ত্রীর ছবিকে পাশে বসিয়ে প্রতিদিন দুপুরের খাবার খেতেন ৯৩ বছরের বৃদ্ধ

৬৩ বছরের দাম্পত্যের স্মৃতি বুকে নিয়ে প্রিয় স্ত্রীর ছবি পাশে রেখে খাবার খেতেন ক্লারেন্স পারভিস, তাঁর ভালোবাসার গল্প ছুঁয়েছিল অসংখ্য মানুষের হৃদয়।

প্রয়াত স্ত্রীর ছবিকে পাশে বসিয়ে প্রতিদিন দুপুরের খাবার খেতেন ৯৩ বছরের বৃদ্ধ
প্রয়াত স্ত্রীর ছবিকে পাশে বসিয়ে প্রতিদিন দুপুরের খাবার খেতেন ৯৩ বছরের বৃদ্ধ


যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের প্রবীণ ক্লারেন্স পারভিসের ভালোবাসার গল্প একসময় ছুঁয়ে গিয়েছিল বিশ্বের অসংখ্য মানুষের হৃদয়। স্ত্রী ক্যারোলিন মারা যাওয়ার পরও তিনি ভুলতে পারেননি তাঁদের একসঙ্গে দুপুরের খাবার খাওয়ার অভ্যাস। তাই প্রিয় রেস্তোরাঁয় একা গেলেও সঙ্গে নিয়ে যেতেন স্ত্রীর বাঁধানো ছবি। খাবারের টেবিলে ছবিটি নিজের বিপরীতে রেখে মনে করতেন, জীবনের সবচেয়ে প্রিয় মানুষটি যেন এখনো তাঁর পাশে বসে আছেন। ২০১৭ সালে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে তাঁর এই হৃদয়স্পর্শী গল্প প্রকাশিত হলে তা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পরে ২০১৮ সালেও যুক্তরাষ্ট্রের একটি জাতীয় সংবাদমাধ্যম তাঁর জীবন ও ভালোবাসার কথা তুলে ধরে।
ক্লারেন্স ও ক্যারোলিনের সম্পর্কের শুরু ১৯৪৮ সালে। তখন ক্লারেন্সের বয়স ছিল ২৪ বছর, আর ক্যারোলিনের বয়স মাত্র ১৬। জর্জিয়ার গ্লেনভিল এলাকায় তাঁদের পরিচয় হয়। পরিচয় থেকে ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে ভালোবাসার সম্পর্ক। পরের বছর, অর্থাৎ ১৯৪৯ সালে, তাঁরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এরপর দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে তাঁরা একসঙ্গে সংসার করেছেন, সন্তানদের বড় করেছেন এবং দৈনন্দিন জীবনের ছোট ছোট মুহূর্তকে নিজেদের সুখের অংশ করে নিয়েছেন। তাঁদের জীবনের গল্পে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের চেয়ে পারস্পরিক ভালোবাসা, বোঝাপড়া ও একসঙ্গে সময় কাটানোর গুরুত্বই ছিল বেশি।

ক্যারোলিন ও ক্লারেন্সের সংসারে ছিল তিন সন্তান। পরবর্তী সময়ে তাঁদের পরিবারে যুক্ত হয় ছয় নাতি-নাতনি এবং দুই প্রপৌত্র বা প্রপৌত্রী। তাঁরা শুধু স্বামী-স্ত্রী ছিলেন না, ছিলেন একে অপরের দীর্ঘদিনের সঙ্গী। জীবনের আনন্দ, দুঃখ, দৈনন্দিন ব্যস্ততা এবং পারিবারিক দায়িত্ব—সবকিছুই তাঁরা ভাগ করে নিয়েছেন। ক্লারেন্স পেশায় ছিলেন একজন গাড়ি মেরামতকারী। স্বামী-স্ত্রী মিলে তাঁদের নিজস্ব গাড়ি মেরামতের ব্যবসাও পরিচালনা করতেন। তাঁদের পরিচিতজনদের কাছে এই দম্পতি ছিলেন গভীর ভালোবাসা ও দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের একটি উদাহরণ।

দুজনের জীবনে দুপুরের খাবার খাওয়ার একটি বিশেষ অভ্যাস ছিল। জর্জিয়ার রিডসভিল এলাকার স্মিথস নামের একটি রেস্তোরাঁয় তাঁরা নিয়মিত যেতেন। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জীবনের শেষ ১৩ বছর তাঁরা প্রায়ই সেখানে একসঙ্গে দুপুরের খাবার খেতেন। সপ্তাহে ছয় দিন সেখানে যাওয়ার অভ্যাসের কথাও উঠে এসেছে প্রতিবেদনে। তাঁদের কাছে রেস্তোরাঁটি কেবল খাবার খাওয়ার জায়গা ছিল না; এটি ছিল একসঙ্গে সময় কাটানো, গল্প করা এবং দাম্পত্য জীবনের আনন্দ উপভোগ করার পরিচিত স্থান। একই টেবিলে বসে খাবার খাওয়ার মতো সাধারণ একটি অভ্যাসও তাঁদের কাছে হয়ে উঠেছিল বিশেষ স্মৃতি।

কিন্তু ২০১৩ সালের ২২ নভেম্বর ক্যারোলিনের মৃত্যু তাঁদের দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনের অবসান ঘটায়। বিভিন্ন সংবাদপ্রতিবেদন অনুযায়ী, মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল ৮১ বছর। প্রিয় মানুষটিকে হারিয়ে ক্লারেন্স গভীর শূন্যতার মুখোমুখি হন। এত বছর ধরে যে মানুষটির সঙ্গে প্রতিদিনের জীবন ভাগ করে নিয়েছেন, তাঁকে ছাড়া সেই পরিচিত জীবন আর আগের মতো থাকার কথা নয়। তবে স্ত্রীর মৃত্যুর পরও তাঁদের একসঙ্গে কাটানো সময়ের স্মৃতি ক্লারেন্সের কাছে জীবন্ত ছিল। সেই স্মৃতির সঙ্গে যুক্ত ছিল তাঁদের প্রিয় রেস্তোরাঁ এবং দুপুরের খাবারের অভ্যাস।
ক্যারোলিনের মৃত্যুর পর ক্লারেন্স সেই অভ্যাস পুরোপুরি ছেড়ে দেননি। তিনি আগের মতোই রেস্তোরাঁয় যেতেন। পার্থক্য ছিল শুধু এক জায়গায়—এবার তাঁর পাশে বাস্তবে বসে থাকতেন না স্ত্রী। পরিবর্তে তিনি সঙ্গে করে নিয়ে যেতেন ক্যারোলিনের একটি বাঁধানো ছবি। টেবিলে নিজের বিপরীতে ছবিটি রেখে খাবার খেতেন। বাইরে থেকে দেখলে দৃশ্যটি ছিল একজন বৃদ্ধ মানুষের একা দুপুরের খাবার খাওয়ার মুহূর্ত। কিন্তু তাঁর কাছে এটি ছিল বহু বছরের ভালোবাসা ও স্মৃতির সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার একটি উপায়।

২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এই ঘটনা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর ক্লারেন্সের গল্প মানুষের বিশেষ মনোযোগ আকর্ষণ করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁর ছবি ও কাহিনি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম তাঁর জীবনের এই দিকটি তুলে ধরে। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে সিবিএস নিউজও তাঁকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে তাঁর প্রতিদিনের জীবন, স্ত্রীর প্রতি টান এবং রেস্তোরাঁয় ছবি নিয়ে যাওয়ার অভ্যাসের কথা তুলে ধরা হয়।
স্মিথস রেস্তোরাঁর মালিক জয়েস জেমসও এই দম্পতির সম্পর্কের কথা স্মরণ করেছিলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ক্লারেন্স ও ক্যারোলিনের মধ্যে গভীর ভালোবাসা ছিল, যা তাঁদের আচরণ দেখলেই বোঝা যেত। ক্যারোলিনের মৃত্যুর পর ক্লারেন্স যখন স্ত্রীর ছবি নিয়ে সেখানে আসতে শুরু করেন, তখন বিষয়টি তাঁর কাছে অস্বাভাবিক মনে হয়নি। বরং দীর্ঘদিনের সঙ্গীকে হারানোর পরও তাঁর স্মৃতি আঁকড়ে ধরে রাখার বিষয়টি ছিল তাঁদের সম্পর্কেরই একটি স্বাভাবিক প্রকাশ। রেস্তোরাঁটির সঙ্গে ক্লারেন্সের সম্পর্কও ধীরে ধীরে বিশেষ হয়ে উঠেছিল। সেখানে তিনি শুধু একজন নিয়মিত ক্রেতা ছিলেন না; তাঁর জীবনের গল্পের অংশ হয়ে উঠেছিলেন আশপাশের মানুষও।
রেস্তোরাঁয় যাওয়ার বাইরেও ক্লারেন্স স্ত্রীর স্মৃতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত থাকার চেষ্টা করতেন। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি প্রতিদিন ক্যারোলিনের সমাধিতে যেতেন। অনেক দিন সকালে সেখানে যাওয়ার পর দিনের বিভিন্ন সময়েও আবার ফিরে যেতেন। একটি প্রতিবেদনে মাসে প্রায় ১২৫ বার সমাধিস্থলে যাওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, তাঁর কাছে এটি ছিল কেবল বিশেষ দিনে শ্রদ্ধা জানানো নয়; বরং নিয়মিত স্মরণ করার একটি ব্যক্তিগত অভ্যাস। তিনি সমাধির কাছে গিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে কাটানো দিনগুলোর কথা মনে করতেন এবং তাঁকে কতটা ভালোবাসেন, তা প্রকাশ করতেন।

ক্লারেন্সের বাড়িতেও স্ত্রীর স্মৃতি ধরে রাখার নানা চিহ্ন ছিল। সংবাদমাধ্যমকে তিনি এমন একটি বাতির কথা জানিয়েছিলেন, যা ক্যারোলিনের মৃত্যুর পর থেকে জ্বালিয়ে রাখা হয়েছিল। বাতিটি তাঁর কাছে স্ত্রীর স্মৃতির প্রতীক হয়ে উঠেছিল। বাড়িতে স্ত্রীর ছবি রাখা, তাঁর কথা বলা এবং পরিচিত মানুষদের সঙ্গে স্মৃতি ভাগ করে নেওয়ার মধ্য দিয়ে ক্লারেন্স নিজের মতো করে প্রিয় মানুষটির উপস্থিতি অনুভব করতেন। তাঁর জীবনযাপনের এই বিবরণগুলো মানুষের কাছে বিশেষ আবেদন তৈরি করে, কারণ এখানে ভালোবাসার প্রকাশ ছিল খুবই সাধারণ, অথচ গভীর অর্থবহ।

এক সাক্ষাৎকারে ক্লারেন্স বলেছিলেন, তাঁরা জীবিত থাকতে ক্যারোলিন সব সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন এবং এখনো তিনি তাঁকে নিজের সঙ্গে অনুভব করেন। তাঁদের সম্পর্কের কথা বলতে গিয়ে তিনি বোঝাতে চেয়েছিলেন, তাঁরা একে অপরের চাওয়া-পাওয়াকে গুরুত্ব দিতেন। একসঙ্গে খাবার খাওয়া, বাড়ি ফিরে সময় কাটানো এবং ভালোবাসা নিয়ে জীবনযাপন করাই তাঁদের কাছে যথেষ্ট ছিল। এই বক্তব্য তাঁর দাম্পত্য জীবনের সহজ অথচ গভীর দর্শনকে তুলে ধরে।

তবে এই গল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরবর্তী অধ্যায়ও রয়েছে। ২০১৭ সালের প্রতিবেদনে ক্লারেন্সের বয়স ৯৩ বছর বলা হয়েছিল। কিন্তু ঘটনাটি তখনকার, বর্তমান সময়ের নয়। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ডব্লিউটিওসি ২০২১ সালের ২৬ এপ্রিল প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানায়, ক্লারেন্স পারভিস ২৩ এপ্রিল মারা গেছেন। ফলে তাঁকে এখনো প্রতিদিন রেস্তোরাঁয় স্ত্রীর ছবি নিয়ে যেতে দেখা যায়—এমন দাবি বর্তমান ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করা সঠিক হবে না। তাঁর জীবনের শেষ সময় বা মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে ওই প্রতিবেদন থেকে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায় না। 

তথ্য যাচাইয়ের ক্ষেত্রে দাম্পত্যের সময়কাল নিয়েও সামান্য পার্থক্য পাওয়া যায়। কয়েকটি প্রতিবেদনে তাঁদের ৬৩ বছরের দাম্পত্যের কথা বলা হয়েছে, আবার অন্য কিছু প্রতিবেদনে ৬৪ বছর উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের পরিচয় ১৯৪৮ সালে, বিয়ে ১৯৪৯ সালে এবং ক্যারোলিনের মৃত্যু ২০১৩ সালে—এই তথ্যগুলো একাধিক সংবাদমাধ্যমে পাওয়া যায়। তাই শিরোনাম বা প্রতিবেদনে ৬৩ বছরের কথা ব্যবহার করা হলেও বোঝা প্রয়োজন, সংবাদমাধ্যমগুলোর মধ্যে গণনার পার্থক্য রয়েছে। মূল ঘটনা—স্ত্রীর মৃত্যুর পরও ক্লারেন্সের তাঁর ছবি নিয়ে প্রিয় রেস্তোরাঁয় যাওয়ার অভ্যাস—একাধিক সংবাদপ্রতিবেদনে সমর্থিত।

ক্লারেন্স পারভিসের গল্পের আবেদন তাই শুধু একজন বৃদ্ধের স্ত্রীর ছবি নিয়ে খাবার খাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি দীর্ঘদিনের সঙ্গ, অভ্যাস, স্মৃতি এবং প্রিয় মানুষকে হারানোর পরও তাঁর সঙ্গে মানসিক সম্পর্ক ধরে রাখার গল্প। মানুষের জীবনে বড় উপহার বা ব্যতিক্রমী আয়োজনের পাশাপাশি প্রতিদিনের ছোট ছোট কাজও ভালোবাসার গভীরতা প্রকাশ করতে পারে। কারও সঙ্গে নিয়মিত খাবার খাওয়া, একসঙ্গে হাঁটা কিংবা দিনের শেষে কথা বলার মতো সাধারণ অভ্যাসও সময়ের সঙ্গে অমূল্য স্মৃতিতে পরিণত হয়।

ক্যারোলিন আর ফিরে আসবেন না—এই বাস্তবতা ক্লারেন্সের জীবনেও ছিল। তবু তাঁদের একসঙ্গে কাটানো সময়কে তিনি মুছে যেতে দেননি। রেস্তোরাঁর টেবিলে রাখা একটি ছবি হয়ে উঠেছিল তাঁদের ভাগ করে নেওয়া জীবনের প্রতীক। ২০২১ সালে ক্লারেন্সের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে তাঁর জীবনকাহিনিও শেষ হয়েছে। কিন্তু তাঁর ভালোবাসার এই গল্প আজও মানুষকে মনে করিয়ে দেয়, প্রিয়জনের সঙ্গে কাটানো সময় এবং ছোট ছোট অভ্যাস কখনো কখনো মানুষের জীবনে কত গভীর ছাপ রেখে যায়।


ট্যাগ: লারেন্স পারভিসক্যারোলিন পারভিসভালোবাসার গল্পদাম্পত্য জীবনস্মৃতিময় সম্পর্কযুক্তরাষ্ট্রের মানবিক গল্পপ্রবীণ দম্পতি

প্রতিবেদক

Desk Report

Reporter

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।