নবজাতকের নামে এক হাজার ডলার, নতুন বিনিয়োগের সুযোগ দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন
যুক্তরাষ্ট্রে নবজাতকের কার্ডের সঙ্গে পাঠানো হচ্ছে নির্দেশনা, যোগ্য শিশুর নামে এক হাজার ডলারের বিনিয়োগ হিসাব খুলতে পারবেন অভিভাবকেরা নিয়ম মেনে।
যুক্তরাষ্ট্রে নবজাতক শিশুদের সামাজিক নিরাপত্তা কার্ডের সঙ্গে নতুন বিনিয়োগ হিসাব খোলার নির্দেশনা পাঠানো শুরু করেছে দেশটির সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে চালু হওয়া ‘ট্রাম্প অ্যাকাউন্টস’ কর্মসূচির আওতায় যোগ্য শিশুদের নামে এককালীন এক হাজার ডলার সরকারি বিনিয়োগ সহায়তা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। ২০২৬ সালের ২০ অক্টোবর প্রকাশিত সরকারি ঘোষণায় বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে জন্মের পরপরই পরিবারগুলোকে শিশুর ভবিষ্যতের জন্য দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সঞ্চয় গড়ে তোলার সুযোগ সম্পর্কে জানাতে চাইছে প্রশাসন।
যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, নবজাতকের সামাজিক নিরাপত্তা কার্ডের সঙ্গে সংযুক্ত নতুন নির্দেশনায় অভিভাবকদের হিসাব খোলার প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানানো হচ্ছে। যেসব পরিবার হাসপাতালের মাধ্যমে শিশুর জন্মনিবন্ধনের সময় সামাজিক নিরাপত্তা নম্বরের জন্য আবেদন করে, তাদের কার্ড পাঠানোর প্রক্রিয়ার সঙ্গে এই নির্দেশনা যুক্ত করা হচ্ছে। ফলে শিশুর জন্মের পর সরকারি নথিপত্র পাওয়ার সময়ই অভিভাবকেরা কর্মসূচি সম্পর্কে প্রাথমিক তথ্য জানতে পারবেন।
এই কর্মসূচির আওতায় ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৮ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে জন্ম নেওয়া নির্দিষ্ট যোগ্য শিশুরা এককালীন এক হাজার ডলারের সরকারি বিনিয়োগ সহায়তা পেতে পারে। তবে শুধু ওই সময়ের মধ্যে জন্ম নিলেই প্রত্যেক শিশু স্বয়ংক্রিয়ভাবে অর্থ পাবে, এমন নয়। শিশুকে অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হতে হবে, তার বৈধ সামাজিক নিরাপত্তা নম্বর থাকতে হবে এবং সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তার নামে হিসাব খোলা ও সহায়তা পাওয়ার আবেদন সম্পন্ন করতে হবে। একই শিশুর জন্য আগে এই বিশেষ সহায়তার আবেদন প্রক্রিয়াকৃত হয়ে থাকলেও নতুন করে একই অর্থ পাওয়ার সুযোগ নেই।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই এক হাজার ডলার নগদ অর্থ হিসেবে বাবা-মায়ের হাতে তুলে দেওয়ার কর্মসূচি নয়। অর্থটি যোগ্য শিশুর নামে নির্ধারিত বিনিয়োগ হিসাবে জমা দেওয়ার জন্য বরাদ্দ। এর উদ্দেশ্য হলো শিশুর ভবিষ্যতের জন্য প্রাথমিক আর্থিক ভিত্তি তৈরি করা এবং দীর্ঘ সময় ধরে বিনিয়োগের মাধ্যমে অর্থের পরিমাণ বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি করা। তবে বিনিয়োগের মূল্য বাড়বে, এমন নিশ্চয়তা নেই; বাজারের পরিস্থিতির কারণে অর্থের মূল্য কমেও যেতে পারে।
অভিভাবকেরা সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ট্রাম্প অ্যাকাউন্টসের সরকারি ওয়েবসাইটে গিয়ে নিবন্ধনের তথ্য জানতে পারবেন। সেখানে নির্ধারিত আবেদনপ্রক্রিয়া অনুসরণ করে শিশুর নামে হিসাব খোলা এবং এক হাজার ডলারের সরকারি সহায়তার জন্য আবেদন করা যায়। প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাইয়ের পর হিসাব সক্রিয় করার বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে পরবর্তী নির্দেশনা পাঠানো হতে পারে। নবজাতকের সামাজিক নিরাপত্তা কার্ডের সঙ্গে আসা কাগজে দেওয়া নির্দেশনাও এই প্রক্রিয়ায় সহায়তা করবে।
এই কর্মসূচির জন্য নির্ধারিত আবেদনপত্রের নাম হলো ৪৫৪৭ নম্বর ফরম। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগ এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, অভিভাবক বা আইন অনুযায়ী অনুমোদিত ব্যক্তি শিশুর নামে হিসাব খোলার আবেদন করতে পারেন। যোগ্য শিশুর জন্য এক হাজার ডলারের বিশেষ সরকারি সহায়তা চাইলে আবেদন করার সময় সেই সুযোগ নির্বাচন করতে হবে। অর্থাৎ, কেবল সামাজিক নিরাপত্তা কার্ড হাতে পাওয়া মানেই সহায়তার অর্থ জমা হয়ে গেছে, এমন ধারণা সঠিক নয়।
হিসাবটি শিশুর নামে পরিচালিত হলেও শিশু প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগ পর্যন্ত অভিভাবক বা অনুমোদিত তত্ত্বাবধায়ক হিসাব পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবেন। কর্মসূচির নিয়ম অনুযায়ী পরিবার ও অন্যান্য অনুমোদিত উৎস থেকেও অতিরিক্ত অর্থ জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। সাধারণভাবে বছরে পাঁচ হাজার ডলার পর্যন্ত ব্যক্তিগত ও পারিবারিক অবদানের সীমা নির্ধারিত হয়েছে। তবে বিভিন্ন ধরনের অবদানের ক্ষেত্রে আলাদা নিয়ম রয়েছে; কিছু অনুমোদিত সরকারি ও দাতব্য অবদান এই সীমার বাইরে থাকতে পারে। তাই অর্থ জমা দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট নিয়ম যাচাই করা জরুরি।
সরকারি উদ্যোগটির পেছনে মূল ধারণা হলো, শিশুর জীবনের শুরুতেই বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করলে দীর্ঘ সময়ের মধ্যে অর্থের সম্ভাব্য বৃদ্ধি ভবিষ্যতে শিক্ষা, বাড়ি কেনা বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজনে সহায়তা করতে পারে। তবে এটি তাৎক্ষণিক পারিবারিক ব্যয় মেটানোর জন্য নগদ অনুদান নয়। অর্থ বিনিয়োগের হিসাবে রাখা হবে এবং তা ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিধি অনুসরণ করতে হবে। পরিবারগুলোকে তাই এই হিসাবকে দৈনন্দিন খরচের অর্থ হিসেবে বিবেচনা না করে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখতে হবে।
কর্মসূচিটি নিয়ে আগ্রহ বাড়লেও এর সুবিধা সম্পর্কে পরিবারগুলোর পরিষ্কার ধারণা থাকা প্রয়োজন। বিশেষ করে যোগ্যতার শর্ত, আবেদন জমা দেওয়ার পদ্ধতি, হিসাব সক্রিয় করার ধাপ এবং ভবিষ্যতে অর্থ উত্তোলনের নিয়ম আগে থেকে জানা দরকার। কোনো মধ্যস্থতাকারীকে অপ্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত তথ্য বা অর্থ দেওয়ার আগে সরকারি সূত্র যাচাই করাও গুরুত্বপূর্ণ। শিশুর সামাজিক নিরাপত্তা নম্বরসহ ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত রাখা উচিত।
এই উদ্যোগের আরেকটি তাৎপর্য হলো, নবজাতকের সরকারি নথিপত্রের সঙ্গে আর্থিক কর্মসূচির তথ্য পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে আলাদাভাবে খবর খুঁজে বের করার প্রয়োজন কমতে পারে এবং যোগ্য পরিবারগুলো সময়মতো আবেদন সম্পর্কে জানতে পারে। তবে কত পরিবার শেষ পর্যন্ত আবেদন সম্পন্ন করবে এবং দীর্ঘমেয়াদে কতটা আর্থিক সুবিধা পাবে, তা নির্ভর করবে অংশগ্রহণ, বিনিয়োগের ফলাফল ও কর্মসূচির বাস্তবায়নের ওপর।
নবজাতকের সামাজিক নিরাপত্তা কার্ডের সঙ্গে ট্রাম্প অ্যাকাউন্টসের নির্দেশনা পাঠানোর খবরটি সরকারি ঘোষণায় সমর্থিত। যোগ্য শিশুরা এককালীন এক হাজার ডলারের বিনিয়োগ সহায়তা পাওয়ার সুযোগ পেতে পারে, কিন্তু এর জন্য নির্ধারিত শর্ত ও আবেদনপ্রক্রিয়া পূরণ করতে হবে। অর্থটি সরাসরি অভিভাবকদের হাতে দেওয়া হবে না এবং বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ মূল্যও নিশ্চিত নয়। তাই পরিবারগুলোর উচিত সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করে যোগ্যতা যাচাই করা এবং হিসাব খোলার আগে কর্মসূচির শর্ত ভালোভাবে বুঝে নেওয়া।





