ব্রেকিং
বাংলাদেশ ওষুধ কারখানায় ভয়াবহ আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ঊনিশ ইউনিটসহযোগী রাষ্ট্রগুলোর গোয়েন্দা তথ্য ছাড়াই কিয়েভে রাশিয়ার ভয়াবহ ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলানিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহে পাঁচ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান থেকে জ্বালানি কেনার সুপারিশ অনুমোদন কমিটিরবাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি ১৬ বছরের রেকর্ড ছুঁতে পারে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে ৩.২ শতাংশেগ্রিনল্যান্ডে তেল গ্যাস খনিজ অনুসন্ধান শুরুর ঘোষণা ট্রাম্পের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন বিতর্ক

নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহে পাঁচ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান থেকে জ্বালানি কেনার সুপারিশ অনুমোদন কমিটির

অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে জ্বালানি বিভাগের দুটি প্রস্তাব নীতিগত অনুমোদনের সুপারিশ পেয়েছে আজ মন্ত্রিসভার অর্থনৈতিক বিষয়ক কমিটির বৈঠকে।

নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহে পাঁচ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান থেকে জ্বালানি কেনার সুপারিশ অনুমোদন কমিটির
নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহে পাঁচ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান থেকে জ্বালানি কেনার সুপারিশ অনুমোদন কমিটির

দেশে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ বজায় রাখতে পাঁচটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সংগ্রহের জন্য নীতিগত অনুমোদনের সুপারিশ করেছে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। বুধবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে এই সুপারিশ করা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে দুটি পৃথক প্রস্তাব উত্থাপন করা হয় এবং উভয় প্রস্তাবই কমিটি নীতিগতভাবে অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করে। এই সিদ্ধান্ত দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

প্রথম প্রস্তাবের আওতায় সরকার থেকে সরকার পদ্ধতিতে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের জন্য দুটি প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব প্রক্রিয়াকরণের অনুমোদন চাওয়া হয়। প্রতিষ্ঠান দুটি হলো শেনিয়ার মার্কেটিং ইন্টারন্যাশনাল এবং ট্রাফিগুরা। এই প্রস্তাবটি সরকারি ক্রয় আইন দুই হাজার ছয় এর আটষট্টি ধারা এবং সরকারি ক্রয় বিধিমালা দুই হাজার পঁচিশ এর নিরানব্বই উপধারা দুই এবং একশত সাত উপধারা দুই অনুযায়ী প্রক্রিয়াকরণ করা হয়েছে। কমিটি এই প্রস্তাবটি নীতিগতভাবে অনুমোদনের সুপারিশ করেছে যাতে ভবিষ্যতে এই দুটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সরাসরি গ্যাস কেনা সম্ভব হয়।

দ্বিতীয় প্রস্তাবে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে তিনটি প্রতিষ্ঠান থেকে গ্যাস কেনার অনুমোদন চাওয়া হয়। প্রতিষ্ঠান তিনটি হলো বিপি সিঙ্গাপুর, সাহারা এনার্জি রিসোর্স এবং শেল ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডিং মিডল ইস্ট। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ জাতীয় স্বার্থে স্বাভাবিক গ্যাস সরবরাহ বজায় রাখার জরুরি প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে সরাসরি ক্রয়ের প্রস্তাব করে। এই প্রস্তাবটি সরকারি ক্রয় আইন দুই হাজার ছয় এর আটষট্টি ধারা এবং সরকারি ক্রয় বিধিমালা দুই হাজার পঁচিশ এর একশত সাত, সাতানব্বই এবং আটানব্বই ধারা অনুযায়ী আনা হয়। কমিটি দ্বিতীয় প্রস্তাবটিও অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করেছে।

এই সুপারিশগুলো পাঁচটি সরবরাহকারীর কাছ থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সংগ্রহ প্রক্রিয়াকে সহজতর করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। তবে প্রস্তাবগুলোতে কী পরিমাণ গ্যাস কেনা হবে, চুক্তির মূল্য কত হবে বা সরবরাহের সময়সূচি কী হবে সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু উল্লেখ করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায় যে এই অনুমোদন প্রাথমিক পর্যায়ের এবং পরবর্তীতে প্রতিটি ক্রয়ের ক্ষেত্রে পৃথকভাবে দর, পরিমাণ এবং শর্ত নির্ধারণ করা হবে।

দেশে বর্তমানে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন চাহিদার তুলনায় কম হওয়ায় আমদানি নির্ভরতা বেড়েছে। বিদ্যুৎ কেন্দ্র, শিল্প কারখানা এবং গৃহস্থালী কাজে গ্যাসের চাহিদা ক্রমাগত বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার দীর্ঘমেয়াদী এবং স্বল্পমেয়াদী উভয় ধরনের চুক্তির দিকে ঝুঁকছে। এর আগে চলতি বছরেই সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি একাধিকবার বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দরপত্র এবং সরকার থেকে সরকার চুক্তির মাধ্যমে গ্যাস কেনার অনুমোদন দিয়েছে।

গত মাসে সরকারি ক্রয় কমিটি নয়টি গ্যাসবাহী জাহাজ কেনার অনুমোদন দিয়েছিল যার মধ্যে পাঁচটি আন্তর্জাতিক দরপত্র প্রক্রিয়ায় এবং চারটি সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে কেনার কথা ছিল। এছাড়া চলতি বছরের আগস্ট মাসে মার্কিন প্রতিষ্ঠান গানভোরের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি অনুমোদন করা হয় যার আওতায় দুই হাজার ছাব্বিশ থেকে দুই হাজার আটত্রিশ সাল পর্যন্ত একশত সতেরোটি গ্যাসবাহী জাহাজ আমদানি করা হবে। এর মধ্যে চলতি বছরেই পাঁচটি জাহাজ আসার কথা রয়েছে এবং প্রথম জাহাজ এলএনজি জেনেভা ইতিমধ্যে পৌঁছেছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে বিশ্ববাজারে গ্যাসের দাম অস্থির থাকায় একাধিক উৎস থেকে গ্যাস সংগ্রহ করা বুদ্ধিমানের কাজ। একক উৎসের উপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে সরবরাহ ঝুঁকি কমানো সম্ভব। পাশাপাশি সরকার থেকে সরকার এবং সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত গ্যাস সংগ্রহে সহায়তা করে। তবে তারা স্বচ্ছতা এবং প্রতিযোগিতামূলক মূল্য নিশ্চিত করার উপর জোর দিয়েছেন।

পেট্রোবাংলা সূত্র জানিয়েছে যে অক্টোবর এবং নভেম্বর মাসের জন্য উনিশটি গ্যাসবাহী জাহাজের সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। এর মধ্যে অক্টোবরে দশটি এবং নভেম্বরে নয়টি জাহাজ আসবে। এই জাহাজগুলো যুক্তরাষ্ট্র, নাইজেরিয়া এবং অ্যাঙ্গোলা থেকে আসবে এবং মোট প্রায় ছয় কোটি আট লক্ষ ইউনিট গ্যাস সরবরাহ করবে। এই সরবরাহ দেশের বর্তমান ঘাটতি অনেকটাই পূরণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বর্তমান সরকার জ্বালানি খাতে স্থিতিশীলতা আনতে নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে। দেশীয় অনুসন্ধান কার্যক্রম বাড়ানোর পাশাপাশি আমদানি প্রক্রিয়াকে সহজ করা হচ্ছে। একশত নতুন কূপ খনন এবং একত্রিশটি পুরনো কূপ সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে। ইতিমধ্যে এই উদ্যোগ থেকে জাতীয় গ্রিডে একশত ছাব্বিশ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হয়েছে। ভূগর্ভস্থ জটিলতা, পানি প্রবেশ এবং সঞ্চালন সীমাবদ্ধতার কারণে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। আটটি কূপে বর্তমানে খনন এবং সংস্কার কাজ চলছে যার সম্মিলিত সম্ভাবনা নব্বই মিলিয়ন ঘনফুট। আরও ছাব্বিশটি অগ্রাধিকার কূপে হস্তক্ষেপের পরিকল্পনা রয়েছে যা সম্পন্ন হলে তিনশত চল্লিশ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যোগ হবে।

এই সুপারিশের ফলে ভবিষ্যতে গ্যাস কেনার প্রক্রিয়া আরও দ্রুত এবং সহজ হবে। কমিটির এই সিদ্ধান্তকে জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং শিল্পায়নের জন্য নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ অপরিহার্য। সরকারের এই উদ্যোগ সেই লক্ষ্যেই কাজ করবে।

ট্যাগ: ঢাকা_ট্রিবিউনতরলীকৃত_প্রাকৃতিক_গ্যাসঅর্থমন্ত্রীআমীর_খসরু_মাহমুদ_চৌধুরীমন্ত্রিসভা_কমিটিজ্বালানি_নিরাপত্তা

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সংবাদ পান আপনার ইনবক্সে

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।