চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চমানের গম
খাদ্যনিরাপত্তা ও বাণিজ্য-অংশীদারিত্ব জোরদারে ১ লাখ ৭৩ হাজার টনের বেশি চালানের অংশ খালাসের অপেক্ষায়
দূতাবাস জানায়, সম্প্রতি পৌঁছানো প্রায় ৬০ হাজার মেট্রিক টনের চালানটি ১ লাখ ৭৩ হাজার টনের বেশি একটি বড় চালানের অংশ। এর মধ্যে প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার টন সফট হোয়াইট গম, যা এসেছে ওয়াশিংটন, ওরেগন ও আইডাহো থেকে। বাকি প্রায় ৬০ হাজার টন হার্ড রেড উইন্টার গম এসেছে মন্টানা ও নেব্রাস্কা থেকে।
রাষ্ট্রদূত চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান ও খাদ্য সচিব মো. ফিরোজ সরকারের সঙ্গে চালান আগমনের অনুষ্ঠানে যোগ দেন। দূতাবাসের ভাষ্য, এই গম বাংলাদেশের জন্য উচ্চ-প্রোটিন ও পুষ্টিকর খাদ্যশস্যের গুরুত্বপূর্ণ জোগান।
বাংলাদেশে বছরে প্রায় ৭০ লাখ টন গমের চাহিদা থাকলেও দেশে উৎপাদন হয় প্রায় ১০ লাখ টন। অর্থাৎ চাহিদার একটি অংশ মাত্র দেশে মেটে, বাকিটা আমদানির মাধ্যমে পূরণ করতে হয়।
২০২৫ সালের জুলাইয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয় মার্কিন কৃষকদের বাণিজ্য সংস্থা ইউএস হুইট অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক সই করে। এর আওতায় ২০৩০ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর ৭ লাখ মেট্রিক টন পর্যন্ত মার্কিন গম কেনার সুযোগ রয়েছে। এ পর্যন্ত তিনটি বিক্রয়ে প্রায় ৬ লাখ ৬০ হাজার টন কেনা হয়েছে, যার ৩ লাখ ৫০ হাজার টনের বেশি ইতোমধ্যে দেশে পৌঁছেছে।
খাদ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রতিটি চালানের নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষাগারে গুণগত মান যাচাইয়ের পর খালাস ও বিতরণ শুরু হয়। চালানগুলো চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরে ভাগ করে খালাস করা হয়।
সরকারি সূত্র ও গণমাধ্যম প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই আমদানি দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর প্রচেষ্টার অংশ। একই সঙ্গে রাশিয়া এখনও বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় গম সরবরাহকারী দেশ। মার্কিন দূতাবাসের মতে, এই চুক্তি মার্কিন কৃষক ও ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন বাজার তৈরি করার পাশাপাশি বাংলাদেশের মানুষের জন্য পুষ্টিকর গমের নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত করবে।





