সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, পরমাণু ইস্যু অজুহাত; যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা কমাতে কূটনীতির আহ্বানদিল্লির বায়ুদূষণ বিপজ্জনকভাবে বাড়ছে, দূষণ ঠেকাতে ৩০ সংস্থাকে নিয়ে সরকারের উদ্যোগট্রাম্পের ঘোষণা, যুক্তরাষ্ট্র-ভারত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্তের পথে, মুম্বাইয়ে রুবিওর গুরুত্বপূর্ণ আলোচনাবুরকিনা ফাসোতে মৃত্যুদণ্ড পুনর্বহাল, সন্ত্রাসবাদ ও রাষ্ট্রদ্রোহসহ গুরুতর অপরাধে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধানসুদান-দক্ষিণ সুদান সীমান্তের বাজারে ভয়াবহ ড্রোন হামলা, নিহত অন্তত ১৫৩ জন

পাঁচ পুরুষ বন্ধুকে ব্রাইডসমেট করে বিয়ের আগে ব্যতিক্রমী ছবি তুলে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় ব্রাজিলীয় তরুণী

নারী বন্ধুদের বদলে পাঁচ ঘনিষ্ঠ পুরুষ বন্ধুকে নিয়ে বিয়ের আগের আনন্দঘন ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় আসেন ব্রাজিলের রেবেকা আব্রান্তেস।

পাঁচ পুরুষ বন্ধুকে ব্রাইডসমেট করে বিয়ের আগে ব্যতিক্রমী ছবি তুলে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় ব্রাজিলীয় তরুণী
পাঁচ পুরুষ বন্ধুকে ব্রাইডসমেট করে বিয়ের আগে ব্যতিক্রমী ছবি তুলে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় ব্রাজিলীয় তরুণী

ব্রাজিলের তরুণী রেবেকা আব্রান্তেসের বিয়ের আগের আয়োজন ছিল অন্য অনেক কনের চেয়ে আলাদা। বিয়ের আগে ঘনিষ্ঠ নারী বন্ধুদের সঙ্গে সাজগোজ, হাসি-আনন্দ আর স্মরণীয় মুহূর্ত ধরে রাখার যে প্রচলিত আয়োজন, সেটি তিনিও করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর সবচেয়ে কাছের বন্ধুদের অধিকাংশই ছিলেন পুরুষ। তাই প্রচলিত রীতির বাইরে গিয়ে তিনি পাঁচ ঘনিষ্ঠ পুরুষ বন্ধুকেই বেছে নেন বিয়ের আগের বিশেষ আলোকচিত্র আয়োজনের সঙ্গী হিসেবে। ২০১৭ সালে তাঁদের সেই আনন্দঘন ছবিগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের নজর কাড়ে।

ঘটনার সময় রেবেকার বয়স ছিল ২৪ বছর। তিনি ব্রাজিলের মিনাস জেরাইস অঞ্চলে অবস্থিত ইতাজুবা ফেডারেল বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার প্রকৌশল বিষয়ে পড়াশোনা করছিলেন। তাঁর নিজের ভাষ্য অনুযায়ী, শ্রেণিকক্ষে নারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল খুবই কম। প্রায় ৬০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে নারী ছিলেন মাত্র চারজন। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে তাঁর বন্ধুমহলের বড় একটি অংশ গড়ে উঠেছিল পুরুষ সহপাঠীদের নিয়ে। তাঁদের সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্ব ছিল আন্তরিক এবং দীর্ঘদিনের।
বিয়ের প্রস্তুতির সময় রেবেকা অন্য কনেদের বিয়ের আগের ছবি দেখছিলেন। এসব ছবিতে দেখা যায়, কনেরা তাঁদের ঘনিষ্ঠ বান্ধবীদের সঙ্গে একই ধরনের পোশাক পরে হাসি-আড্ডা দিচ্ছেন, সাজছেন, মুখে রূপচর্চার উপকরণ ব্যবহার করছেন এবং বিয়ের পোশাক নিয়ে আনন্দ করছেন। এমন ছবি দেখে তাঁরও একই রকম স্মৃতি তৈরির ইচ্ছা হয়। কিন্তু নিজের বন্ধুমহলের কথা ভেবে তিনি কিছুটা মন খারাপ করেছিলেন। কারণ, প্রচলিত আয়োজনটি করার মতো ঘনিষ্ঠ নারী বন্ধুর দল তাঁর কাছে ছিল না। পরে তিনি বুঝতে পারেন, বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দ করার জন্য নির্দিষ্ট কোনো লিঙ্গের মানুষের উপস্থিতি অপরিহার্য নয়।

বিয়ের প্রায় এক সপ্তাহ আগে তিনি পাঁচ বন্ধুকে নিয়ে এই আয়োজনের পরিকল্পনা করেন। বন্ধুদের কাছে প্রস্তাবটি দেওয়ার পর তাঁরা রাজি হয়ে যান। তাঁদের মধ্যে কেউ শুরু থেকেই বেশ উৎসাহী ছিলেন, আবার কেউ প্রথমে কিছুটা দ্বিধায় ছিলেন। তবে আয়োজন শুরু হওয়ার পর সবাই এতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। তাঁদের সহযোগিতায় রেবেকার দীর্ঘদিনের ইচ্ছা পূরণের সুযোগ তৈরি হয়।

এই বিশেষ আয়োজনের ছবি তোলার দায়িত্ব নেন ব্রাজিলীয় আলোকচিত্রী ফার্নান্দো দুকে। ছবিগুলোকে আকর্ষণীয় করে তুলতে কনে ও তাঁর বন্ধুদের জন্য নির্দিষ্ট পোশাক এবং নানা মজার দৃশ্যের পরিকল্পনা করা হয়। রেবেকা পরেছিলেন সাদা রঙের সিল্কের মতো মসৃণ পোশাক। অন্যদিকে তাঁর পাঁচ বন্ধু পরেছিলেন একই ধরনের গোলাপি রঙের ঝলমলে পোশাক। পোশাকের এই রঙের পার্থক্য ছবিতে কনেকে আলাদা করে তুলে ধরে, আবার সবাইকে একই আয়োজনের অংশ হিসেবেও দেখায়।

ছবিগুলোতে দেখা যায়, বন্ধুরা কনের বিয়ের পোশাক আগ্রহ নিয়ে দেখছেন। কোথাও তাঁরা একসঙ্গে বসে আছেন, কোথাও মুখে রূপচর্চার উপকরণ লাগিয়ে হাস্যকর ভঙ্গি করছেন, আবার কোথাও চোখের ওপর শসার টুকরো রেখে বিশ্রামের অভিনয় করছেন। কিছু ছবিতে পা কামানোর মতো প্রচলিত কনের প্রস্তুতির দৃশ্যও মজারভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়। পুরো আয়োজনটি ছিল সাজানো দৃশ্যের পাশাপাশি বন্ধুত্বের স্বাভাবিক প্রকাশ। ক্যামেরার সামনে তাঁদের হাসি ও আনন্দ ছবিগুলোকে প্রাণবন্ত করে তোলে।
আলোকচিত্রী দুকের বর্ণনা অনুযায়ী, বন্ধুদের মধ্যে এত হাসাহাসি হচ্ছিল যে মাঝেমধ্যে ছবি তোলার কাজ থামিয়ে তাঁদের নিজেদের সামলে নিতে হতো। রেবেকাও পরে জানান, ছবিগুলো দেখে তিনি নিজেই বারবার হেসে উঠতেন। তাঁর কাছে আয়োজনটির সবচেয়ে বড় সাফল্য ছিল বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দ করার সুযোগ এবং এমন কিছু স্মৃতি তৈরি করা, যা বহু বছর পরেও তাঁকে আনন্দ দেবে।
এই আয়োজনের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিল, এটি কোনো বড় প্রচারাভিযান হিসেবে শুরু হয়নি। রেবেকার উদ্দেশ্য ছিল নিজের বিয়ের আগে বন্ধুদের সঙ্গে কিছু স্মরণীয় মুহূর্ত তৈরি করা। কিন্তু ছবিগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করার পর সেগুলো দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ২০১৭ সালের মে মাসে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ছবিগুলো নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তখন তাঁর প্রকাশিত ছবির সংকলনে কয়েক দিনের মধ্যেই বিপুলসংখ্যক প্রতিক্রিয়া ও ভাগ করে নেওয়ার ঘটনা দেখা যায়। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হিসাব এক নয়; কোথাও ছয় হাজার নয়, বরং কয়েক দশ হাজার প্রতিক্রিয়া ও বহুবার ভাগ করে নেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। তাই নির্দিষ্ট একটি সংখ্যাকে চূড়ান্ত হিসাব হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক হবে না।
রেবেকার বিয়ের অনুষ্ঠানও হয়েছিল ২০১৭ সালের ৩০ এপ্রিল। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাঁচ বন্ধুই বিয়ের আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন এবং কনের পাশে থেকে তাঁকে সমর্থন দিয়েছিলেন। অর্থাৎ, তাঁদের ভূমিকা শুধু ছবির জন্য পোশাক পরে দাঁড়ানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; তাঁরা রেবেকার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ দিনেও পাশে ছিলেন। এই তথ্য ঘটনাটিকে নিছক মজার ছবি তোলার আয়োজনের চেয়ে বেশি অর্থবহ করে তোলে।
বিয়ের অনুষ্ঠানে বন্ধুদের ভূমিকা দেশ ও সংস্কৃতিভেদে ভিন্ন হতে পারে। অনেক জায়গায় কনের পাশে নারী বধূসঙ্গীরা থাকেন, আর বরের পাশে থাকেন পুরুষ সহচরেরা। তবে এটি সব বিয়েতে বাধ্যতামূলক কোনো নিয়ম নয়। ব্যক্তিগত পছন্দ, পারিবারিক রীতি এবং বন্ধুত্বের ধরন অনুযায়ী অনেকে প্রচলিত আয়োজন বদলে নেন। রেবেকার সিদ্ধান্ত সেই স্বাধীনতারই একটি উদাহরণ। তিনি বন্ধুদের লিঙ্গের ভিত্তিতে নয়, বরং তাঁদের সঙ্গে নিজের সম্পর্কের গভীরতার ভিত্তিতে বেছে নিয়েছিলেন।

তাঁর গল্পে প্রকৌশল শিক্ষায় নারীর কম উপস্থিতির বিষয়টিও উঠে আসে। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও প্রকৌশল বিষয়ে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নারী-পুরুষের অনুপাত সমান নয়। তবে শুধু এই একটি ঘটনার ভিত্তিতে সব প্রকৌশল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবস্থা সম্পর্কে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। রেবেকার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা দেখায়, কোনো শিক্ষাক্ষেত্রে নারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা কম হলে সেখানে বন্ধুত্বের পরিসরও কখনো কখনো ভিন্নভাবে গড়ে উঠতে পারে। তাঁর পুরুষ সহপাঠীরা সেই বন্ধুত্বকে গুরুত্ব দিয়ে বিয়ের আগের আনন্দে অংশ নিয়েছিলেন।
ছবিগুলোর জনপ্রিয়তার পেছনে ছিল প্রচলিত ধারণার বাইরে যাওয়ার সহজ অথচ আনন্দময় একটি বার্তা। বিয়ের আগে সাজগোজ করা, হাসি-আড্ডা দেওয়া কিংবা কনের পোশাক নিয়ে মজা করার আনন্দ শুধু নারীদের জন্য নির্ধারিত নয়। একইভাবে, কোনো পুরুষ বন্ধুও চাইলে তাঁর নারী বন্ধুর জীবনের বিশেষ দিনে পাশে দাঁড়াতে পারেন। এমন সম্পর্ককে স্বাভাবিকভাবে তুলে ধরায় অনেক দর্শক ছবিগুলোর সঙ্গে নিজেদের অভিজ্ঞতার মিল খুঁজে পেয়েছিলেন।


ট্যাগ: রেবেকা আব্রান্তেসব্রাজিলবিয়ের ছবিপুরুষ বন্ধুবন্ধুত্ববিয়ের আয়োজনভাইরাল ছবিব্যতিক্রমী বিয়েসামাজিক যোগাযোগমাধ্যমফার্নান্দো দুকে

প্রতিবেদক

Desk Report

Reporter

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।