সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
শিশুদের সঙ্গে ফুটবল খেলায় মামদানি, নেতৃত্বের মানবিক দৃষ্টান্ত গড়ছেন নিউইয়র্কের মেয়রশেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দাবিতে নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে প্রবাসী আওয়ামী লীগের সমাবেশরাতভর ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে কাঁপল ইউক্রেন, নিহত ৪জন আহত বহু মানুষমার্কিন অবরোধে ইরানের তেলের ভাসমান মজুত নিঃশেষ, চরম অর্থনৈতিক সংকটের মুখে তেহরানযুক্তরাষ্ট্রে ভুয়া জরিপের অজুহাতে সংবাদমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের বিতর্কে আইনি ক্ষমতার সীমা নিয়ে নতুন প্রশ্ন

ফ্রান্সের ছাত্রবিক্ষোভে চার শব্দের রহস্যময় স্লোগান, কেন আলোচনায় ‘বিসমিল্লাহ’?

ফ্রান্সের ছাত্রবিক্ষোভে আরবি-ফরাসি মিশ্র স্লোগান ঘিরে তুমুল আলোচনা; উৎপত্তি নিয়ে এখনো রয়েছে রহস্য।

ফ্রান্সের ছাত্রবিক্ষোভে চার শব্দের রহস্যময় স্লোগান, কেন আলোচনায় ‘বিসমিল্লাহ’?
ফ্রান্সের ছাত্রবিক্ষোভে চার শব্দের রহস্যময় স্লোগান, কেন আলোচনায় ‘বিসমিল্লাহ’?

ফ্রান্সে শিক্ষার্থী ও তরুণদের বিক্ষোভে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে আরবি ও ফরাসি ভাষার মিশ্রণে তৈরি একটি অস্বাভাবিক স্লোগান—“বিসমিল্লাহ, সে লে তেনেব্র” (Bismillah, c’est les ténèbres)। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি সন্দেহজনক বার্তা থেকে স্লোগানটির জনপ্রিয়তা শুরু হয়। পরে এটি ফ্রান্সের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে বিক্ষোভের প্ল্যাকার্ডে জায়গা করে নেয়। শিক্ষার্থীদের একাংশের কাছে এটি পুলিশি নজরদারি ও জাতিগত ছকবদ্ধ ধারণার বিরুদ্ধে ব্যঙ্গের প্রতীক। তবে স্লোগানটির মূল বার্তা নিয়ে যেমন আলোচনা চলছে, তেমনি এর পেছনে পুলিশের সম্পৃক্ততার অভিযোগও এখনো নিশ্চিত হয়নি। আল জাজিরা ও ইউরোনিউজের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনেও এই অনিশ্চয়তার বিষয়টি উঠে এসেছে। 

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, স্লোগানটির সূত্রপাত অক্টোবরের প্রথম দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম স্ন্যাপচ্যাটে ছড়িয়ে পড়া একটি কথোপকথনের ছবি থেকে। ওই বার্তায় ‘মামাদু’ নামে পরিচয় দেওয়া এক ব্যবহারকারী শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের একটি ব্যক্তিগত আলোচনাগোষ্ঠীতে যুক্ত হতে চান। বার্তাটিতে লেখা ছিল, ‘হ্যালো, বিসমিল্লাহ, সে লে তেনেব্র। অবরোধ কখন, ওয়াল্লাহ ভাই?’ এর সঙ্গে আলজেরিয়ার পতাকার প্রতীকও ছিল। ফরাসি শিক্ষার্থীদের একাংশের সন্দেহ হয়, কোনো ব্যক্তি কিশোরদের ভাষা ও সাংস্কৃতিক পরিচয় অনুকরণ করে বিক্ষোভের পরিকল্পনা জানার চেষ্টা করছিলেন। তাদের ধারণা, ওই ব্যক্তি ছদ্মবেশী পুলিশ সদস্য হতে পারেন। কিন্তু বার্তার প্রেরকের পরিচয় স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। ফ্রান্সের পুলিশ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এ অভিযোগের বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো বক্তব্য দেয়নি বলে ইউরোনিউজ জানিয়েছে। 

স্লোগানটির অর্থ বুঝতে হলে এর দুটি অংশ আলাদা করে দেখতে হয়। আরবি ‘বিসমিল্লাহ’ শব্দের অর্থ ‘আল্লাহর নামে’। মুসলিমরা সাধারণত কোনো কাজ শুরুর আগে এই শব্দ ব্যবহার করেন। ফরাসি কথ্য ভাষায় শব্দটি কখনো ‘চলো, শুরু করি’ অর্থেও ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে ‘সে লে তেনেব্র’ কথাটির আক্ষরিক অর্থ ‘এটি অন্ধকার’; কথ্য ব্যবহারে এটি ভয়াবহ, হতাশাজনক বা অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিস্থিতি বোঝাতে পারে। কিন্তু দুটি অংশ একত্র করলে একটি স্বাভাবিক অর্থপূর্ণ বাক্য তৈরি হয় না। শিক্ষার্থীরা এই অস্বাভাবিক ভাষার মিশ্রণকেই ব্যঙ্গের উপাদান হিসেবে ব্যবহার করছেন। 

বিক্ষোভকারীদের কাছে স্লোগানটি এখন শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের রসিকতা নয়। তাদের একাংশের মতে, এটি এমন ব্যক্তিদের ব্যঙ্গ করে, যারা আরবি ভাষা, অভিবাসী তরুণদের কথ্য রীতি এবং শহরতলির সংস্কৃতি সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা ছাড়াই সেই ভাষা নকল করার চেষ্টা করেন। প্যারিসের অষ্টম বিশ্ববিদ্যালয়ের আরব ও ভূমধ্যসাগরীয় সমাজবিষয়ক সহযোগী অধ্যাপক ইউসুফ এল চাজলি আল জাজিরাকে বলেছেন, এ ধরনের ঘটনা আরব ও আফ্রিকান বংশোদ্ভূত তরুণদের সম্পর্কে প্রচলিত ছকবদ্ধ ধারণার বিষয়টি সামনে নিয়ে আসে। তবে তাঁর বক্তব্য স্লোগানটির সামাজিক তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে; এটি পুলিশি অনুপ্রবেশের অভিযোগের প্রমাণ নয়। 

এই স্লোগান জনপ্রিয় হওয়ার পেছনে ফ্রান্সের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে চলমান অসন্তোষও গুরুত্বপূর্ণ। ইউরোনিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৮ সেপ্টেম্বর প্যারিসের দক্ষিণ-পূর্বে ক্রেতেই শহর থেকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুরু হয়ে দেশের অন্য এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগের মধ্যে রয়েছে শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী, শিক্ষকসংকট, জরাজীর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, দীর্ঘ সময়ের পাঠসূচি এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষাসামগ্রীর অভাব। এসব সমস্যার প্রভাব সুবিধাবঞ্চিত এলাকার শিক্ষার্থীদের ওপর বেশি পড়ছে বলেও আন্দোলনকারীদের একাংশ মনে করেন। ২ অক্টোবর ফ্রান্সে প্রায় ৪০০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অবরোধের কারণে বন্ধ ছিল বলে ইউরোনিউজ জানিয়েছে। 

শিক্ষার্থীদের আন্দোলন পরে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও সরকারি পরিষেবার সংকোচনের বিরুদ্ধে বৃহত্তর বিক্ষোভের সঙ্গেও যুক্ত হয়। রয়টার্স কানেক্টে প্রকাশিত আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৭ অক্টোবর ফ্রান্সজুড়ে প্রায় পাঁচ লাখ পঞ্চাশ হাজার মানুষ রাস্তায় নামেন। ওই দিনের বিক্ষোভের কিছু অংশে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, গাড়িতে আগুন এবং দোকানপাটে লুটপাটের ঘটনা ঘটে। প্রতিবেদনে দুই হাজারের বেশি মানুষ গ্রেপ্তারের কথাও বলা হয়েছে। এই সংখ্যা ওই দিনের প্রতিবেদনভিত্তিক হিসাব; এটিকে বর্তমান সময়ের মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা হিসেবে দেখা উচিত নয়। 

বিক্ষোভে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। আল জাজিরা জানিয়েছে, বিক্ষোভ শুরুর পর পুলিশের বিরুদ্ধে কথিত সহিংসতার অভিযোগে ফ্রান্সের পুলিশ পরিদর্শন সংস্থা আইজিপিএনের কাছে কয়েক ডজন তদন্ত চলছিল। তবে এসব তদন্তের উল্লেখ থেকেই কোনো নির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। একইভাবে, শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত আলোচনাগোষ্ঠীতে পুলিশ প্রবেশের অভিযোগও এখনো যাচাই করা হয়নি। 

ফ্রান্সের বাইরেও স্লোগানটির বিস্তার ঘটেছে। ইউরোনিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৯ অক্টোবর বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে সরকারি ব্যয় সংকোচনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে এটি লেখা প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। ১৩ অক্টোবর সুইডিশ পরিবেশকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ প্যারিসের উপকণ্ঠে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দেখা করার সময় স্লোগানটি ব্যবহার করেন বলে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে। ১৫ অক্টোবর ইতালির বোলোনিয়া এবং ১৭ ও ১৮ অক্টোবর মিলানের বিক্ষোভেও স্লোগানটি ব্যবহারের খবর প্রকাশিত হয়। 

ফ্রান্সের এই ঘটনা দেখাচ্ছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অসংলগ্ন বাক্যও কীভাবে বৃহত্তর আন্দোলনের পরিচিত প্রতীকে পরিণত হতে পারে। শিক্ষার্থীদের কাছে এটি হাস্যরসের পাশাপাশি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তরুণদের দূরত্ব, জাতিগত বৈষম্যের অভিযোগ এবং শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশের মাধ্যম হয়ে উঠেছে। তবে স্লোগানটির প্রকৃত রচয়িতা কে, তিনি পুলিশের সঙ্গে যুক্ত কি না এবং কথোপকথনের ছবিটি আসল কি না—এসব প্রশ্নের নির্ভরযোগ্য উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি।

ট্যাগ: ফ্রারান্সের বিক্ষোভশিক্ষার্থী আন্দোলনতরুণদের প্রতিবাদবিসমিল্লাহ সে লে তেনেব্রফরাসি শিক্ষাব্যবস্থাপুলিশি নজরদারিজাতিগত বৈষম্যঅভিবাসী তরুণসামাজিক যোগাযোগমাধ্যমপ্যারিসের বিক্ষোভফ্রান্সের রাজনীতিশিক্ষার্থীদের স্লোগানইউরোপের আন্দোলনগ্রেটা থুনবার্গফ্রান্সের সংবাদ

প্রতিবেদক

Desk Report

Reporter

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।