লস অ্যাঞ্জেলেসের দাবানলে ঘর হারানো ১,৪০০ পরিবার হারাতে পারে পুনর্বাসন সহায়তার গুরুত্বপূর্ণ সেবাও
দাবানলে ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ১,৪০০ পরিবারের পুনর্বাসন ব্যবস্থাপকদের সহায়তা অক্টোবরের শেষে বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে; অর্থায়ন নিয়ে অচলাবস্থায় উদ্বেগ বাড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় লস অ্যাঞ্জেলেস অঞ্চলের দাবানলে ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ১,৪০০ পরিবারের জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অর্থায়ন নিয়ে অঙ্গরাজ্য প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার বিরোধের কারণে অক্টোবরের শেষ নাগাদ এসব পরিবারের অনেকেই দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্বাসন ব্যবস্থাপকদের সহায়তা হারাতে পারেন। ১৬ অক্টোবর প্রকাশিত অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্বাসন ব্যবস্থাপকেরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে বীমার দাবি জমা দেওয়া, আর্থিক সহায়তার জন্য আবেদন করা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পূরণ এবং প্রতারণা এড়িয়ে চলার বিষয়ে সাহায্য করেন। আগুনে বাড়িঘর হারানো অনেক মানুষের জন্য এই সহায়তা পুনর্গঠনের দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
আলতাডেনার ৭৮ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা মেরি ল্যান্ডাউ তাঁর প্রায় পাঁচ দশকের পুরোনো বাড়ি হারানোর পর পুনর্বাসন ব্যবস্থাপকের সহায়তায় বীমা ও আর্থিক সহায়তার আবেদন প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর মতো অনেক ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দার জন্য এই সহায়তা শুধু কাগজপত্র পূরণের বিষয় নয়; নতুন করে জীবন গুছিয়ে নেওয়ার পথও সহজ করে।
ক্যালিফোর্নিয়া কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৭০০ পরিবার এখনও সহায়তার অপেক্ষমাণ তালিকায় রয়েছে। অর্থায়ন সংকটের কারণে কর্মসূচিটি বন্ধ হয়ে গেলে এসব পরিবার আরও বেশি সমস্যায় পড়তে পারে। একই সঙ্গে একশর বেশি পুনর্বাসন ব্যবস্থাপকের চাকরি হারানোর আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা প্রাথমিকভাবে দুই বছরের জন্য ১ কোটি ৩২ লাখ ডলারের সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তবে পুরো অর্থ ছাড় না হওয়া এবং অতিরিক্ত ৬৫ লাখ ডলারের অনুরোধের বিষয়ে সিদ্ধান্ত না আসায় কর্মসূচির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ক্যালিফোর্নিয়া সরকার দাবানল-পরবর্তী পুনরুদ্ধারের জন্য আরও বড় অঙ্কের কেন্দ্রীয় সহায়তাও চেয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য এখন সবচেয়ে জরুরি হলো বীমা, পুনর্নির্মাণ এবং জরুরি আর্থিক সহায়তার কাগজপত্র সংরক্ষণ করা এবং সরকারি বিজ্ঞপ্তি নিয়মিত দেখা। পুনর্বাসন ব্যবস্থাপকের সেবা বন্ধ হয়ে গেলে স্থানীয় সরকারি দপ্তর, স্বীকৃত অলাভজনক সংস্থা ও দুর্যোগ সহায়তা কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিকল্প সহায়তার খোঁজ নিতে হবে। কোনো ব্যক্তি পুনর্গঠন বা সরকারি অনুদান নিশ্চিত করে দেওয়ার নামে আগাম টাকা চাইলে তাঁর পরিচয় ও অনুমোদন যাচাই করা উচিত।
এই পরিস্থিতি দেখাচ্ছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর বাড়িঘর পুনর্নির্মাণই একমাত্র চ্যালেঞ্জ নয়; দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা, বীমার জটিলতা এবং সরকারি অর্থায়নের ধারাবাহিকতাও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনরুদ্ধারে বড় ভূমিকা রাখে। তবে কর্মসূচি বন্ধ হবে কি না এবং বিকল্প অর্থায়ন পাওয়া যাবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষা রয়েছে।





