ব্রেকিং
রুশ তেল ইস্যুতে ভারতের ওপর শতভাগ শুল্কের হুমকি স্থগিত করলেন ট্রাম্প, স্বস্তিতে মোদি সরকারসাত দিনের আলটিমেটাম দিয়ে উত্তরায় হাসপাতাল ও কলেজে তারেক রহমানের ঝটিকা সফরইউক্রেনকে ঘিরে ট্রাম্পের কঠোর অবস্থান, ন্যাটোর সহায়তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগচীনের ১৩ ফুটের দৈত্যাকার রোবট, তুলতে পারে ৫০০ কেজি ভার, প্রযুক্তিবিশ্বে তোলপাড়!চীনের বিনিয়োগ, যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে বাংলাদেশের নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ

রুশ তেল ইস্যুতে ভারতের ওপর শতভাগ শুল্কের হুমকি স্থগিত করলেন ট্রাম্প, স্বস্তিতে মোদি সরকার

রুশ জ্বালানি কেনাকে কেন্দ্র করে ভারতের পণ্যে শতভাগ অতিরিক্ত শুল্কের হুমকি স্থগিত করেছেন ট্রাম্প, তবে ভবিষ্যৎ বাণিজ্যিক অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি।

রুশ তেল ইস্যুতে ভারতের ওপর শতভাগ শুল্কের হুমকি স্থগিত করলেন ট্রাম্প, স্বস্তিতে মোদি সরকার
রুশ তেল ইস্যুতে ভারতের ওপর শতভাগ শুল্কের হুমকি স্থগিত করলেন ট্রাম্প, স্বস্তিতে মোদি সরকার

রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল ও গ্যাস কেনা দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের হুমকি আপাতত স্থগিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর ফলে ভারতের জন্য তাৎক্ষণিক অর্থনৈতিক চাপ কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্তকে ভারতের জন্য স্থায়ী শুল্কমুক্তি কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য বিরোধের চূড়ান্ত সমাধান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। নতুন মার্কিন আইনের আওতায় শুল্ক আরোপের ক্ষমতা বহাল থাকায় ভবিষ্যতে আবারও চাপ সৃষ্টি হতে পারে। ১৭ অক্টোবর প্রকাশিত রয়টার্সের প্রতিবেদনে এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

মার্কিন প্রশাসনের এই অবস্থান পরিবর্তন এমন এক সময়ে এসেছে, যখন রাশিয়ার জ্বালানি বাণিজ্য, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম নিয়ে ওয়াশিংটনের নীতিতে নানা প্রশ্ন উঠছে। ট্রাম্প প্রশাসন এর আগে রাশিয়ার জ্বালানি কেনা দেশগুলোর ওপর কঠোর অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা চেয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল রাশিয়ার আয় কমিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে মস্কোর অর্থনৈতিক সক্ষমতার ওপর চাপ সৃষ্টি করা। কিন্তু নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ার আগেই তা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও কূটনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

গত সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে পাস হওয়া রাশিয়া ও ইরানবিষয়ক নিষেধাজ্ঞা আইনের মাধ্যমে রাশিয়ার জ্বালানি কেনা দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের সুযোগ তৈরি হয়। আইনটির আওতায় রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল ও গ্যাসের বড় ক্রেতা এবং নিষেধাজ্ঞা এড়াতে রাশিয়াকে সহায়তা করা দেশগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার বিধান রাখা হয়েছিল। নতুন আইনের কার্যকারিতা শুরু হওয়ার আগে ট্রাম্প নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে নির্দিষ্ট শুল্ক ও কিছু নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করেন। তাঁর যুক্তি, বর্তমান পরিস্থিতিতে এসব ব্যবস্থা কার্যকর না করা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই স্থগিতাদেশের নির্দিষ্ট কোনো মেয়াদ উল্লেখ করা হয়নি। ভবিষ্যতে পরিস্থিতি বিবেচনা করে ট্রাম্প কিংবা তাঁর প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আবার পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। অর্থাৎ, আপাতত শুল্কের ঝুঁকি কমলেও ভারতসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জন্য অনিশ্চয়তা পুরোপুরি দূর হয়নি।

ভারতের জন্য সিদ্ধান্তটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দেশটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি তেল আমদানিকারক। বিপুল জনসংখ্যা, শিল্প উৎপাদন, পরিবহনব্যবস্থা এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানির চাহিদা মেটাতে ভারতকে বিদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ তেল কিনতে হয়। রাশিয়া থেকে তুলনামূলক সুবিধাজনক দামে তেল পাওয়ার সুযোগ ভারতীয় পরিশোধন শিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই সরবরাহে বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি হলে তেল আমদানির ব্যয় বাড়তে পারে, যা পরোক্ষভাবে পরিবহন, উৎপাদন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

ভারত সরকার আগে থেকেই জানিয়ে আসছিল, দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাদের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। রাশিয়ার তেল কেনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কনীতির সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে নয়াদিল্লি উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। ভারতের বক্তব্য ছিল, জ্বালানি কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে দেশের চাহিদা, সরবরাহের নির্ভরযোগ্যতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি বিবেচনা করা জরুরি। নতুন শুল্কের হুমকি দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারত।

ভারতের জন্য স্বস্তির আরেকটি দিক হলো, যুক্তরাষ্ট্র দেশটির অন্যতম প্রধান রপ্তানি বাজার। ভারতীয় ওষুধ, পোশাক, যন্ত্রাংশ, প্রকৌশল পণ্য এবং বিভিন্ন শিল্পজাত সামগ্রী মার্কিন বাজারে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান ধরে রেখেছে। এসব পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হলে ভারতীয় রপ্তানিকারকদের ব্যয় বাড়তে পারত এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হতো। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে চলমান বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা আরও জটিল হয়ে উঠতে পারত।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের পেছনে ভারতের কূটনৈতিক অবস্থানই একমাত্র কারণ—এমন দাবি করার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ এখনো প্রকাশিত হয়নি। রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চাপও প্রশাসনের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন। জ্বালানির দাম বাড়লে সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পায়। তাই রাশিয়ার জ্বালানি বাণিজ্যের ওপর কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার অর্থনৈতিক পরিণতিও ওয়াশিংটনকে বিবেচনা করতে হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে ভারতের পাশাপাশি চীনও রাশিয়ার জ্বালানির অন্যতম বড় ক্রেতা। ফলে নতুন শুল্কনীতির প্রভাব কেবল ভারত-মার্কিন সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার কথা ছিল না। বিশ্বের বৃহৎ অর্থনীতিগুলোর মধ্যে বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতা, জ্বালানি সরবরাহ এবং রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা—সবকিছুই এর সঙ্গে যুক্ত। অতিরিক্ত শুল্ক কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের প্রবাহে পরিবর্তন আসতে পারত এবং বিভিন্ন দেশের আমদানি ব্যয়ও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল।

ভারতের অর্থনীতি ও বাণিজ্য নিয়ে গবেষণাকারী সংস্থা গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভের বক্তব্য অনুযায়ী, ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত ভারতকে সাময়িক স্বস্তি দিলেও দীর্ঘমেয়াদি নিশ্চয়তা দেয়নি। সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা অজয় শ্রীবাস্তব সতর্ক করেছেন, স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হলে যুক্তরাষ্ট্র আবারও শুল্কের হুমকি কার্যকর করতে পারে। তাই ভারতের উচিত জ্বালানি নিরাপত্তা রক্ষা করা, বাণিজ্যিক শর্তের ভিত্তিতে তেল কেনা এবং ভবিষ্যতের সম্ভাব্য চাপ মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকা।

এই পরিস্থিতিতে ভারতের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখা এবং একই সঙ্গে সাশ্রয়ী ও নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা। রাশিয়ার তেল আমদানি কমাতে হলে বিকল্প উৎস থেকে পর্যাপ্ত সরবরাহ পাওয়া, পরিবহন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং পরিশোধন শিল্পের চাহিদা পূরণ করতে হবে। বিকল্প উৎস থেকে তেল কেনার ব্যয় বেশি হলে তার প্রভাব দেশের অর্থনীতি ও ভোক্তাদের ওপর পড়তে পারে।

ট্রাম্পের শুল্ক স্থগিতের সিদ্ধান্ত ভারতের জন্য তাৎক্ষণিক স্বস্তির খবর হলেও একে মোদি সরকারের চূড়ান্ত কূটনৈতিক বিজয় বলা এখনই যথাযথ হবে না। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন আইনি ক্ষমতা বহাল রয়েছে এবং ভবিষ্যতে শুল্কনীতি আবার পরিবর্তিত হতে পারে। ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বাণিজ্য আলোচনা, রাশিয়ার জ্বালানি কেনার প্রবণতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের গতিপ্রকৃতিই পরবর্তী পরিস্থিতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ট্যাগ: ডোনাল্ডট্রাম্পনরেন্দ্রমোদিভারতযুক্তরাষ্ট্ররুশতেল

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সংবাদ পান আপনার ইনবক্সে

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।