আয়ারল্যান্ড পুলিশের দুই অ্যাকাউন্ট হ্যাক, বিনামূল্যে ক্রিপ্টো দেওয়ার নামে প্রতারণা
আয়ারল্যান্ড পুলিশের দুটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে বিনামূল্যে ক্রিপ্টোকারেন্সি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়েছে হ্যাকাররা। অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেয়েছে পুলিশ, চলছে তদন্ত।
আয়ারল্যান্ডের জাতীয় পুলিশ বাহিনীর দুটি সরকারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে বিনামূল্যে ক্রিপ্টোকারেন্সি দেওয়ার নামে প্রতারণামূলক প্রচারণা চালিয়েছে হ্যাকাররা। গত ১৪ অক্টোবর রাতে পুলিশের দুটি অ্যাকাউন্টে অননুমোদিত প্রবেশের ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ অ্যাকাউন্ট দুটির নিয়ন্ত্রণ ফিরে পায়। ঘটনাটি তদন্ত করছে দেশটির জাতীয় সাইবার অপরাধ তদন্ত বিভাগ।
হ্যাক হওয়া অ্যাকাউন্ট দুটি আয়ারল্যান্ড পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগমাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এসব অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে পুলিশের বিভিন্ন কার্যক্রম, জরুরি তথ্য, যান চলাচল এবং সড়ক নিরাপত্তা সম্পর্কে জানানো হয়। ফলে অ্যাকাউন্ট দুটি হ্যাক হওয়ার ঘটনা জনসাধারণের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করে।
হ্যাকাররা অ্যাকাউন্ট দুটির পরিচিতি ও কিছু পরিচয়চিহ্ন পরিবর্তন করে। পাশাপাশি, অ্যাকাউন্টগুলোর অবস্থান নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডাম দেখানো হয়। এরপর বিনামূল্যে এক্সআরপি নামের একটি ডিজিটাল মুদ্রা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে একের পর এক পোস্ট প্রকাশ করা হয়। এসব পোস্টে ব্যবহারকারীদের নির্দিষ্ট সংযোগে প্রবেশ করতে উৎসাহিত করা হয়।
হ্যাকারদের এই প্রচারণার মূল লক্ষ্য ছিল বিনামূল্যে ডিজিটাল মুদ্রা পাওয়ার আশায় মানুষকে আকৃষ্ট করা। পরিচিত ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট প্রকাশিত হওয়ায় অনেক ব্যবহারকারী সেগুলোকে বিশ্বাস করতে পারেন। সাইবার অপরাধীরা সাধারণত মানুষের এই বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে প্রতারণার ফাঁদ তৈরি করে।
এ ধরনের প্রতারণায় ব্যবহারকারীদের ভুয়া ওয়েবসাইটে নিয়ে যাওয়া হতে পারে। সেখানে ডিজিটাল মুদ্রার ওয়ালেট যুক্ত করতে, ব্যক্তিগত তথ্য দিতে অথবা সন্দেহজনক লেনদেনে অনুমতি দিতে বলা হয়। কেউ এসব নির্দেশনা যাচাই না করে অনুসরণ করলে তার ডিজিটাল সম্পদ চুরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। একবার ক্রিপ্টোকারেন্সি অন্য ঠিকানায় স্থানান্তরিত হয়ে গেলে তা ফেরত পাওয়াও কঠিন হতে পারে।
আয়ারল্যান্ড পুলিশ ১৫ অক্টোবর জানায়, তাদের দুটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে অননুমোদিত প্রবেশের ঘটনা ঘটেছে। পরে পুলিশ অ্যাকাউন্ট দুটির নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করে। নিরাপত্তা যাচাই ও তদন্তের স্বার্থে অ্যাকাউন্টগুলো কিছু সময়ের জন্য নিষ্ক্রিয় রাখার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়। পাশাপাশি, সন্দেহজনক পোস্টে সাড়া না দিতে ব্যবহারকারীদের সতর্ক করা হয়।
ঘটনাটি তদন্ত করছে আয়ারল্যান্ড পুলিশের জাতীয় সাইবার অপরাধ তদন্ত বিভাগ। তদন্তকারীরা কীভাবে হ্যাকাররা অ্যাকাউন্ট দুটির নিয়ন্ত্রণ পেয়েছে এবং কারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা খতিয়ে দেখছেন। তবে হামলার পেছনে কারা রয়েছে এবং কীভাবে অ্যাকাউন্টগুলোতে প্রবেশ করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাদের অভ্যন্তরীণ কম্পিউটার ব্যবস্থা বা তথ্যভান্ডারে অননুমোদিত প্রবেশের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য অনুসারে, হ্যাকিংয়ের ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট দুটির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। তবে এই ঘটনার কারণে কোনো ব্যবহারকারী আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিনামূল্যে ডিজিটাল মুদ্রা দেওয়ার দাবি দেখলেই সতর্ক হতে হবে। কোনো সরকারি বা পরিচিত প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্ট থেকে এমন প্রচারণা চালানো হলেও তা যাচাই না করে বিশ্বাস করা উচিত নয়। অপরিচিত সংযোগে প্রবেশ করা, সন্দেহজনক ওয়েবসাইটে ডিজিটাল মুদ্রার ওয়ালেট যুক্ত করা এবং যাচাই না করে কোনো লেনদেনে অনুমোদন দেওয়া থেকে বিরত থাকা জরুরি।
আয়ারল্যান্ড পুলিশের দুটি অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়া গেলেও সাইবার হামলার কারণ ও সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে তদন্ত চলছে। ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করেছে, সরকারি প্রতিষ্ঠানের পরিচয় ব্যবহার করেও অনলাইনে প্রতারণা চালানো সম্ভব। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আর্থিক লেনদেনের প্রলোভন দেখানো কোনো প্রচারণায় সাড়া দেওয়ার আগে তার সত্যতা যাচাই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।





