বাংলাদেশে ফেসবুকের জনপ্রিয়তায় মুগ্ধ মার্কিন রাষ্ট্রদূত, মেটার সঙ্গে আলোচনায় নতুন ব্যবসার সম্ভাবনা
বাংলাদেশের মানুষের ফেসবুক ব্যবহারের ব্যাপকতা তুলে ধরে ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের ফেসবুক পেজকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের অধীন দূতাবাসগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় বলে উল্লেখ করেছেন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। মেটার সঙ্গে আলোচনায় উঠে এসেছে বাংলাদেশে মার্কিন ব্যবসার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং উদ্ভাবনী প্রযুক্তির ব্যবহার।
বাংলাদেশে ফেসবুকের ব্যাপক জনপ্রিয়তা এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসার সম্ভাবনা নিয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেছেন, বাংলাদেশে ফেসবুকের জনপ্রিয়তার প্রতিফলন দেখা যায় ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের পেজের ব্যাপক অনুসারীর সংখ্যায়। একই সঙ্গে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটার সঙ্গে আলোচনার কথা জানিয়ে তিনি বাংলাদেশে মার্কিন ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং যুক্তরাষ্ট্রের উদ্ভাবনী প্রযুক্তি কাজে লাগানোর সম্ভাবনার বিষয়টি তুলে ধরেছেন।
রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেনের বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের অধীন দূতাবাসগুলোর ফেসবুক পেজের মধ্যে ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের পেজটি সবচেয়ে বড়। তাঁর মন্তব্যে বাংলাদেশের মানুষের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের প্রবণতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক যোগাযোগে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের গুরুত্ব ফুটে উঠেছে।
মেটার সঙ্গে আলোচনার প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশে মার্কিন ব্যবসার জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের উদ্ভাবনকে কাজে লাগানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে আলোচনায় ঠিক কোন কোন প্রকল্প, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি বা বাণিজ্যিক উদ্যোগ নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে, সে বিষয়ে প্রকাশিত বক্তব্যে বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসায়িক যোগাযোগ সম্প্রসারণের বিষয়টি সাম্প্রতিক কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক আলোচনাতেও গুরুত্ব পাচ্ছে। ১৪ অক্টোবর প্রকাশিত ডেইলি সান-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে নতুন ব্যবসায়িক সুযোগ খুঁজতে মার্কিন দূতাবাস সিসকো, প্লাগ অ্যান্ড প্লে এবং এনভিডিয়ার মতো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয় তুলে ধরেছে। এসব উদ্যোগের লক্ষ্য হিসেবে মার্কিন ব্যবসার সুযোগ বৃদ্ধি, রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থান তৈরির সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশের জন্য এ ধরনের প্রযুক্তিগত যোগাযোগের সম্ভাব্য গুরুত্ব রয়েছে বিভিন্ন ক্ষেত্রে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা অনলাইনে পণ্য ও সেবা বিপণন, ডিজিটাল বিজ্ঞাপন, গ্রাহকের কাছে পৌঁছানো এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করতে পারে। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তথ্যপ্রযুক্তি, ডিজিটাল সেবা এবং ব্যবসায়িক প্রযুক্তিতে সহযোগিতা বাড়লে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এসব সম্ভাবনা বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে নির্দিষ্ট উদ্যোগ, বিনিয়োগ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং বাস্তবায়নের ওপর।
রাষ্ট্রদূতের বার্তায় মেটার সঙ্গে আলোচনার বিষয়টি সামনে এলেও কোনো চুক্তি স্বাক্ষর, নির্দিষ্ট বিনিয়োগের পরিমাণ কিংবা নতুন প্রকল্প চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে আলোচনাটিকে আপাতত দুই পক্ষের মধ্যে ব্যবসা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে যোগাযোগ হিসেবে বিবেচনা করাই যথাযথ।
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও বাণিজ্য ও বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এর আগে ২০২৬ সালের জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, বিনিয়োগ, বেসরকারি খাতের নেতৃত্বে প্রবৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক সংস্কারের গুরুত্ব তুলে ধরেছিলেন। নতুন প্রযুক্তিগত যোগাযোগ সেই বৃহত্তর অর্থনৈতিক সহযোগিতার আলোচনার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে, যদিও মেটার সঙ্গে আলোচনার নির্দিষ্ট ফলাফল সম্পর্কে আরও আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রয়োজন।
বাংলাদেশে ফেসবুকের জনপ্রিয়তা যেমন ব্যক্তিগত যোগাযোগ ও ব্যবসায়িক প্রচারের বড় ক্ষেত্র তৈরি করেছে, তেমনি আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতা ডিজিটাল অর্থনীতির বিকাশে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এই যোগাযোগ থেকে বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান বা প্রযুক্তি স্থানান্তরের বাস্তব ফল পেতে হলে ভবিষ্যতে সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ ও তার অগ্রগতি সম্পর্কে তথ্য প্রকাশ গুরুত্বপূর্ণ হবে।





