ব্রেকিং
মুসলিমদের ‘মোহাম্মদ’ নাম নিয়ে ট্রাম্পের কটাক্ষ, নতুন করে বিতর্করুশ তেল ইস্যুতে ভারতের ওপর শতভাগ শুল্কের হুমকি স্থগিত করলেন ট্রাম্প, স্বস্তিতে মোদি সরকারসাত দিনের আলটিমেটাম দিয়ে উত্তরায় হাসপাতাল ও কলেজে তারেক রহমানের ঝটিকা সফরইউক্রেনকে ঘিরে ট্রাম্পের কঠোর অবস্থান, ন্যাটোর সহায়তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগচীনের ১৩ ফুটের দৈত্যাকার রোবট, তুলতে পারে ৫০০ কেজি ভার, প্রযুক্তিবিশ্বে তোলপাড়!

রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা আটকে দিলেন ট্রাম্প, ক্ষোভ ইউক্রেনের

রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ট্রাম্প। এতে ক্ষুব্ধ ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট, আর যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।

রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা আটকে দিলেন ট্রাম্প, ক্ষোভ ইউক্রেনের
রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা আটকে দিলেন ট্রাম্প, ক্ষোভ ইউক্রেনের

রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক কার্যকর করার পরিকল্পনা থেকে সাময়িকভাবে সরে এসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নতুন একটি আইনের আওতায় নির্ধারিত বেশ কিছু পদক্ষেপ কার্যকর না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এই ছাড় যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থের জন্য প্রয়োজনীয়। তাঁর এই সিদ্ধান্তে রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন। অন্যদিকে, রাশিয়ার পক্ষ থেকে সিদ্ধান্তটিকে ইতিবাচকভাবে দেখা হয়েছে। রয়টার্স ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন নিষেধাজ্ঞাগুলো কার্যকর হওয়ার নির্ধারিত সময়সীমার মাত্র কয়েক দিন আগে ট্রাম্প এই সিদ্ধান্ত নেন।

গত মাসে ট্রাম্প নিজেই রাশিয়া ও ইরানসংক্রান্ত নতুন নিষেধাজ্ঞার আইনে স্বাক্ষর করেছিলেন। আইনটির মূল উদ্দেশ্য ছিল ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য রাশিয়া যে অর্থনৈতিক সম্পদ ব্যবহার করছে, তার ওপর চাপ বাড়ানো। বিশেষ করে রাশিয়ার জ্বালানি রপ্তানি, সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেন এবং রুশ জ্বালানি কেনে এমন দেশগুলোর ওপর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির পরিকল্পনা ছিল এতে। কিন্তু আইনটি কার্যকর হওয়ার আগেই ট্রাম্প নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক থেকে ছাড় দেন। ফলে নতুন আইনের যেসব বিধান রাশিয়ার অর্থনৈতিক কার্যক্রম এবং তার বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপর চাপ তৈরি করতে পারত, সেগুলোর বাস্তবায়ন আপাতত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

নতুন আইনটির পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল প্রয়াত মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের। তাঁর নামেই আইনটির নামকরণ করা হয়। এর অন্যতম লক্ষ্য ছিল রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের বড় ক্রেতা দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের সুযোগ তৈরি করা। আইনটিতে নির্দিষ্ট শর্তের আওতায় সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের বিধান রাখা হয়েছিল। রাশিয়ার জ্বালানি কেনা অব্যাহত রাখা অথবা নিষেধাজ্ঞা এড়াতে মস্কোকে সহায়তা করা দেশগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার পরিকল্পনাও ছিল। এর মাধ্যমে রাশিয়ার জ্বালানি বিক্রি থেকে আয় কমানো এবং যুদ্ধের অর্থায়ন কঠিন করে তোলাই ছিল আইনটির প্রধান উদ্দেশ্য।

তবে ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের অর্থ এই নয় যে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সব পুরোনো নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে। বরং নতুন আইনের অধীনে নির্ধারিত বেশ কিছু পদক্ষেপ কার্যকর করার ক্ষেত্রে তিনি ছাড় দিয়েছেন। আদেশে বলা হয়েছে, এই ছাড় যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত। আইনটিতে প্রেসিডেন্টকে কংগ্রেসকে জানিয়ে নির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা থেকে ছাড় দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। ট্রাম্প সেই ক্ষমতা ব্যবহার করেছেন। এই ছাড় কত দিন বহাল থাকবে, তা পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউক্রেন। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়ার ওপর চাপ কমে গেলে দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আরও আগ্রাসী হয়ে উঠতে পারেন। তাঁর মতে, রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ বজায় রাখা যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। জেলেনস্কি আরও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর না হলে রাশিয়া ইউক্রেনের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার জন্য অতিরিক্ত আর্থিক সুযোগ পেতে পারে। ইউক্রেন দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোর কাছে রাশিয়ার জ্বালানি আয় সীমিত করা এবং যুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের একাধিক সদস্যও ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি ডন বেয়ার অভিযোগ করেছেন, এই পদক্ষেপ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের জন্য সুবিধাজনক এবং ইউক্রেনের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনকে দুর্বল করতে পারে। কিছু আইনপ্রণেতার মতে, কংগ্রেসে ব্যাপক সমর্থন নিয়ে পাস হওয়া আইনের মূল উদ্দেশ্য ছিল রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়ানো। অথচ আইন কার্যকর হওয়ার আগেই ছাড় দেওয়ার ফলে সেই উদ্দেশ্য বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্তটিকে জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

এদিকে, রাশিয়ার পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানানো হয়েছে। রুশ প্রেসিডেন্টের বিনিয়োগবিষয়ক দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভ এটিকে একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন নিষেধাজ্ঞাগুলো পুরোপুরি কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও কঠিন হয়ে পড়তে পারত। মস্কো দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জ্বালানি, বিনিয়োগ ও অন্যান্য অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করে আসছে। ফলে নতুন নিষেধাজ্ঞায় ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্তকে রাশিয়ার পক্ষ থেকে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নের সম্ভাবনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এই সিদ্ধান্তের পেছনে জ্বালানির দামও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে আলোচনায় এসেছে। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে রাজনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন জ্বালানির সরবরাহ বাড়ানো এবং বাজারে দাম কমানোর চেষ্টা করছে। এর আগে রাশিয়া থেকে ডিজেল সরবরাহের একটি পরিকল্পনার কথাও ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে সমালোচকদের আশঙ্কা, রাশিয়ার কাছ থেকে জ্বালানি কেনা বা দেশটির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হলে মস্কোর আয় বাড়তে পারে, যা পরোক্ষভাবে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতাকে সহায়তা করতে পারে। অন্যদিকে, রাশিয়ার জ্বালানির সরবরাহ বাড়লে বাজারে দাম কমবে কি না, তা নিশ্চিত নয়। আন্তর্জাতিক বাজার, পরিবহন ব্যয় এবং অন্যান্য দেশের নীতিও জ্বালানির দামকে প্রভাবিত করে।

যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির দিক থেকেও এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ। আগামী ৩ নভেম্বর দেশটিতে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। নির্বাচনের আগে অর্থনীতি, জ্বালানির দাম এবং পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র হচ্ছে। ট্রাম্পের সমালোচকেরা মনে করছেন, রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর না করা ইউক্রেনের প্রতি সমর্থনের প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে দুর্বল করতে পারে। অন্যদিকে, প্রশাসনের সিদ্ধান্তের সমর্থকেরা জাতীয় স্বার্থ ও অর্থনৈতিক বাস্তবতাকে গুরুত্ব দেওয়ার পক্ষে যুক্তি দিতে পারেন। তবে এই সিদ্ধান্তের রাজনৈতিক প্রভাব নির্বাচনে কতটা পড়বে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।

রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞার বেশ কিছু বিধান কার্যকর না করার ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেন ও রাশিয়ার সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ইউক্রেনের আশঙ্কা, এতে রাশিয়ার ওপর চাপ কমবে; যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচক আইনপ্রণেতারা মনে করছেন, এতে যুদ্ধ বন্ধের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অন্যদিকে, রাশিয়া এই পদক্ষেপকে অর্থনৈতিক সহযোগিতার সম্ভাবনা হিসেবে দেখছে। এখন নজর থাকবে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপ, ইউরোপীয় মিত্রদের প্রতিক্রিয়া এবং রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের পরিস্থিতির ওপর। নিষেধাজ্ঞায় এই ছাড় শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টায় সহায়তা করবে, নাকি রাশিয়ার অবস্থান আরও শক্তিশালী করবে, তা নির্ভর করবে আগামী দিনের কূটনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতির ওপর।

ট্যাগ: ডোনাল্ডট্রাম্পরাশিয়াইউক্রেনযুদ্ধযুক্তরাষ্ট্রেররাজনীতি

প্রতিবেদক

Desk Report

Reporter

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সংবাদ পান আপনার ইনবক্সে

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।