ব্রেকিং
মিশিগানে নির্বাচনে ৩৭ ভোট গণনায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মুহিত মাহমুদ ১২ ভোটে এগিয়েপুকুরে ডুবছিল দাদি ও দুই শিশু, প্রাণ বাঁচিয়ে প্রশংসায় ভাসছে দুই কিশোর ভাইমাত্র পাঁচ দিনেই বিদায়ের মুখে কেটি, ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসে নতুন বিতর্কনতুন প্রশাসনই যথেষ্ট! যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ সীমান্তে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের বড় দাবিমিয়ানমারের সামরিক সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের গোপন বৈঠক, বাংলাদেশের সীমান্তে কী প্রভাব পড়বে?

জর্জিয়ায় ওসফকে হারাতে কলিন্সের পক্ষে প্রচারে নামলেন ট্রাম্প, মধ্যবর্তী ভোটের লড়াই তীব্র

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ায় ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন ওসফকে হারাতে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক কলিন্সের পক্ষে প্রচার চালালেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, বাড়ল নির্বাচনী উত্তাপ।

জর্জিয়ায় ওসফকে হারাতে কলিন্সের পক্ষে প্রচারে নামলেন ট্রাম্প, মধ্যবর্তী ভোটের লড়াই তীব্র
জর্জিয়ায় ওসফকে হারাতে কলিন্সের পক্ষে প্রচারে নামলেন ট্রাম্প, মধ্যবর্তী ভোটের লড়াই তীব্র


যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জয় নিশ্চিত করতে প্রচারে নেমেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, অঙ্গরাজ্যটির ডাল্টন শহরে এক নির্বাচনী সমাবেশে অংশ নিয়ে তিনি রিপাবলিকান সিনেট প্রার্থী মাইক কলিন্সের পক্ষে প্রচার চালান। এই নির্বাচনে কলিন্সের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন ওসফ। একই সমাবেশে অঙ্গরাজ্যের গভর্নর পদে রিপাবলিকান প্রার্থী রিক জ্যাকসনও অংশ নেন। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আর তিন সপ্তাহেরও কম সময় বাকি থাকায় এই প্রচারকে রিপাবলিকানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রাথমিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বার্তায় বলা হয়েছিল, ট্রাম্প মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজ থেকে এয়ার ফোর্স ওয়ানে উঠে জর্জিয়ার ডাল্টনের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছেন। তবে সর্বশেষ সংবাদপ্রতিবেদন অনুযায়ী, সেটি এখন আর কেবল যাত্রার খবর নয়। ট্রাম্প ইতিমধ্যে ডাল্টনে পৌঁছে নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দিয়েছেন। ফলে তাঁকে নিয়ে প্রকাশিত আগের বার্তাটি যাত্রার মুহূর্তের তথ্য হিসেবে প্রাসঙ্গিক হলেও, বর্তমান পরিস্থিতি বোঝার জন্য পরবর্তী সংবাদগুলো বিবেচনা করা জরুরি।

এই সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল জর্জিয়ায় রিপাবলিকান প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচার জোরদার করা। ট্রাম্পের উপস্থিতি কলিন্সের প্রচারে নতুন গতি আনতে পারে বলে তাঁর সমর্থকেরা আশা করছেন। তবে জর্জিয়া এমন একটি অঙ্গরাজ্য, যেখানে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—দুই দলেরই শক্তিশালী ভোটব্যাংক রয়েছে। অতীতে বিভিন্ন নির্বাচনে দুই দলই এখানে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য পেয়েছে। তাই শুধু একটি সমাবেশ কিংবা প্রেসিডেন্টের সমর্থন দিয়ে নির্বাচনের ফল নিশ্চিতভাবে অনুমান করা সম্ভব নয়।

সমাবেশে ট্রাম্প সরাসরি ওসফকে আক্রমণ করেন। আটলান্টা জার্নাল-কনস্টিটিউশনের সরাসরি সংবাদ হালনাগাদ অনুযায়ী, বক্তব্যের শুরুতেই তিনি ওসফকে ব্যঙ্গ করেন এবং অভিবাসননীতি নিয়ে তাঁর সমালোচনা করেন। জর্জিয়ার নার্সিং শিক্ষার্থী লেকেন রাইলির হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প ওসফ ও ডেমোক্র্যাটদের অভিবাসননীতিকে দায়ী করার চেষ্টা করেন। তবে এ বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো, ওসফ লেকেন রাইলি আইনের চূড়ান্ত সংস্করণের পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন। আইনটি অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করার উদ্দেশ্যে প্রণীত হয়েছিল। তাই ট্রাম্পের রাজনৈতিক অভিযোগ এবং আইনটির বিষয়ে ওসফের নথিভুক্ত ভোটকে আলাদা করে দেখা জরুরি।
ট্রাম্পের প্রচারের কেন্দ্রে রয়েছে রিপাবলিকানদের কংগ্রেসে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করা। মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারিত হয়। এই নির্বাচনের ফল প্রেসিডেন্টের দ্বিতীয় মেয়াদের বাকি সময়ে তাঁর নীতিগুলো বাস্তবায়নের সুযোগকে প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষ করে অভিবাসন, অর্থনীতি, করনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলোতে কংগ্রেসের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ। জর্জিয়ায় কলিন্সের জয় রিপাবলিকানদের জন্য সিনেটে আসন বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করবে। বিপরীতে ওসফ জয়ী হলে ডেমোক্র্যাটরা গুরুত্বপূর্ণ একটি আসন ধরে রাখতে পারবে।

কলিন্স বর্তমানে জর্জিয়ার প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য এবং রিপাবলিকান দলের সিনেট প্রার্থী। তিনি ওসফের বিরুদ্ধে নির্বাচন করছেন এমন এক সময়ে, যখন জাতীয় রাজনীতিতে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা, তাঁর প্রশাসনের সিদ্ধান্ত এবং জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে বিতর্ক নির্বাচনী প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। কলিন্স ট্রাম্পের নীতির প্রতি সমর্থনকে নিজের প্রচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে তুলে ধরছেন। ডাল্টনের সমাবেশে তিনি ওসফকে আক্রমণ করে বলেন, ওসফের কাছে জর্জিয়ার স্বার্থের চেয়ে ট্রাম্পবিরোধিতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এটি কলিন্সের রাজনৈতিক বক্তব্য; এর সত্যতা যাচাই করতে হলে দুই প্রার্থীর নীতি, ভোটের রেকর্ড এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি আলাদাভাবে পর্যালোচনা করতে হবে।
অন্যদিকে, ওসফও নিজের নির্বাচনী প্রচারে সক্রিয় রয়েছেন। তিনি ২০২১ সালে জর্জিয়া থেকে সিনেটর নির্বাচিত হন। এবারের নির্বাচনে তিনি নিজের আসন ধরে রাখার চেষ্টা করছেন। তাঁর প্রচারে জীবনযাত্রার ব্যয়, স্বাস্থ্যসেবা, জ্বালানির দাম এবং ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির প্রভাব গুরুত্ব পাচ্ছে। ট্রাম্পের জর্জিয়া সফরের আগে ওসফ মন্তব্য করেছিলেন, প্রেসিডেন্টের আগমন ভোটারদের কাছে ট্রাম্প ও কলিন্সের নীতির প্রভাব নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি করবে। অর্থাৎ, দুই পক্ষই নির্বাচনটিকে কেবল ব্যক্তিগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হিসেবে নয়, বরং জাতীয় নীতির ওপর জনসমর্থন যাচাইয়ের লড়াই হিসেবে তুলে ধরছে।

নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় অর্থ সংগ্রহও বড় ভূমিকা রাখছে। আটলান্টা জার্নাল-কনস্টিটিউশনের ১৬ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে ওসফের নির্বাচনী প্রচার তহবিলে প্রায় ৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার এসেছে। একই সময়ে কলিন্সের প্রচার তহবিলে এসেছে প্রায় ২৭ লাখ ডলার। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই সময় শেষে ওসফের হাতে প্রায় ২ কোটি ৬০ লাখ ডলার ছিল, যেখানে কলিন্সের হাতে ছিল ১০ লাখ ডলারের সামান্য বেশি। এই ব্যবধান ওসফকে বিজ্ঞাপন, মাঠপর্যায়ের প্রচার এবং ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে আর্থিক সুবিধা দিতে পারে। তবে নির্বাচনী তহবিলের পরিমাণই শেষ পর্যন্ত জয়ের নিশ্চয়তা দেয় না। ভোটারদের উপস্থিতি, প্রচারের কার্যকারিতা এবং নির্বাচনের শেষ পর্যায়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতিও ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ।
জর্জিয়ার রাজনীতিতে এই লড়াইয়ের গুরুত্ব আরও বেশি, কারণ অঙ্গরাজ্যটি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জাতীয় নির্বাচনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এলাকায় পরিণত হয়েছে। ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জর্জিয়ায় জো বাইডেন জয়ী হয়েছিলেন। একই সময়ের পরবর্তী সিনেট নির্বাচনেও ডেমোক্র্যাটরা গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য পায়। অন্যদিকে, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্প জর্জিয়ায় জয় পান। এই বিপরীতমুখী ফল দেখায় যে অঙ্গরাজ্যটির ভোটারদের সমর্থন সময়ের সঙ্গে বদলাতে পারে। উত্তর-পশ্চিম জর্জিয়ার ডাল্টন তুলনামূলকভাবে রিপাবলিকান-সমর্থিত এলাকা হলেও, পুরো অঙ্গরাজ্যের ফল নির্ধারণে শহরতলি, আটলান্টা মহানগর এলাকা এবং অন্যান্য অঞ্চলের ভোট গুরুত্বপূর্ণ।

এবারের নির্বাচনে গভর্নর পদও আলোচনায় রয়েছে। ট্রাম্পের ডাল্টন সমাবেশে সিনেট প্রার্থী কলিন্সের পাশাপাশি রিপাবলিকান গভর্নর প্রার্থী রিক জ্যাকসন অংশ নেন। তাঁদের প্রতিদ্বন্দ্বীরা হলেন ডেমোক্র্যাটদের পক্ষ থেকে সিনেট নির্বাচনে ওসফ এবং গভর্নর নির্বাচনে সাবেক আটলান্টা মেয়র কিশা ল্যান্স বটমস। একই মঞ্চে দুই রিপাবলিকান প্রার্থীর উপস্থিতি দলীয় সমর্থকদের একত্র করার প্রচেষ্টা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এর মাধ্যমে ট্রাম্প একই সঙ্গে সিনেট ও গভর্নর নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পক্ষে সমর্থন বাড়াতে চাইছেন। তবে দুটি নির্বাচন আলাদা হওয়ায় একটির ফল অন্যটির ফল নিশ্চিত করে না।

এই সফর নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের আরেকটি কারণ হলো ২০২০ সালের নির্বাচন নিয়ে ট্রাম্পের পুরোনো অভিযোগ। ডাল্টন এমন একটি অঞ্চলে অবস্থিত, যেখানে ট্রাম্পের শক্তিশালী সমর্থকগোষ্ঠী রয়েছে। তিনি এর আগে ২০২১ সালের জানুয়ারিতেও ডাল্টনে গিয়েছিলেন, যখন জর্জিয়ার সিনেট নির্বাচনের ফল জাতীয় রাজনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। সে সময় তিনি নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ করেছিলেন। তবে ২০২০ সালের নির্বাচনে জর্জিয়ার ফল যাচাই, পুনর্গণনা ও পর্যালোচনার পরও ব্যাপক কারচুপির অভিযোগের পক্ষে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সাম্প্রতিক সমাবেশেও নির্বাচনসংক্রান্ত তাঁর পুরোনো বক্তব্যের প্রসঙ্গ সামনে এসেছে। এ কারণে প্রচারটি শুধু প্রার্থীদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে চলমান রাজনৈতিক বিতর্কের সঙ্গেও যুক্ত।
সামগ্রিকভাবে, ডাল্টনে ট্রাম্পের উপস্থিতি কলিন্সের প্রচারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও নির্বাচনের ফল এখনো অনিশ্চিত। একদিকে প্রেসিডেন্টের সমর্থন, দলীয় কর্মীদের সক্রিয় করা এবং রিপাবলিকান ভোটারদের কেন্দ্রীভূত করার সুযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, ওসফের বড় নির্বাচনী তহবিল, তাঁর নিজস্ব ভোটারভিত্তি এবং জর্জিয়ার প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি কলিন্সের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। শেষ পর্যন্ত ভোটাররা অর্থনীতি, অভিবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান এবং প্রার্থীদের রাজনৈতিক অবস্থান বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেবেন। ট্রাম্পের প্রচার এই লড়াইকে আরও আলোচনায় এনেছে, কিন্তু সমাবেশের উপস্থিতি বা বক্তব্যকে নির্বাচনী ফলের পূর্বাভাস হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। 


ট্যাগ: ডোনাল্ড ট্রাম্পমাইক কলিন্সজন ওসফযুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনজর্জিয়া নির্বাচনডাল্টন সমাবেশরিপাবলিকান দলডেমোক্র্যাট দলমার্কিন সিনেট নির্বাচনরিক জ্যাকসনযুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিনির্বাচনী প্রচার

প্রতিবেদক

Desk Report

Reporter

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সংবাদ পান আপনার ইনবক্সে

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।