গাজায় আবারও খাদ্যসংকটের শঙ্কা, অনাহারের ঝুঁকিতে হাজারো শিশু
গাজায় শিশুদের অপুষ্টি মোকাবিলায় সাম্প্রতিক অগ্রগতি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করছে ইউনিসেফ। বাণিজ্যিক পণ্য সরবরাহ বন্ধ থাকায় খাদ্যসংকট, বাস্তুচ্যুতি ও শিশুদের পুষ্টি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় শিশুদের অপুষ্টি মোকাবিলায় সাম্প্রতিক অগ্রগতি আবারও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বাণিজ্যিক পণ্য সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের প্রাপ্যতা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফ। সংস্থাটির মতে, দীর্ঘদিনের সংঘাত, বাস্তুচ্যুতি এবং ত্রাণের ওপর নির্ভরশীলতার কারণে গাজার শিশুদের পুষ্টি পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত নাজুক।
রয়টার্সের ১৬ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েল হামাসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট করসংক্রান্ত বিরোধের কথা উল্লেখ করে গাজায় বাণিজ্যিক পণ্য প্রবেশ বন্ধ রেখেছে। এর ফলে খাদ্যসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। যুদ্ধের কারণে গাজার বহু পরিবার আগে থেকেই মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। এমন পরিস্থিতিতে বাণিজ্যিক সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে পরিবারগুলোর খাদ্য কেনার সুযোগ আরও সীমিত হয়ে পড়তে পারে।
ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, দুই বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে মাত্র প্রতি তিনজনে একজন ন্যূনতম বৈচিত্র্যপূর্ণ খাদ্য পাচ্ছে। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের প্রায় প্রতি আটজনে একজন দীর্ঘমেয়াদি অপুষ্টিতে ভুগছে। এসব তথ্য গাজার শিশুদের খাদ্য ও পুষ্টি পরিস্থিতির গভীর সংকট তুলে ধরে। পর্যাপ্ত খাবারের পাশাপাশি শিশুদের সুস্থ বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, গাজায় প্রায় আট লাখ শিশু এখনো অনিরাপদ আশ্রয়ে বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছে। অনেক পরিবারকে ঘন ঘন স্থান পরিবর্তন করতে হয়েছে। নিরাপদ বাসস্থান, বিশুদ্ধ পানি, স্বাস্থ্যসেবা ও পর্যাপ্ত খাবারের অভাব শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। শীত ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে অস্থায়ী আশ্রয়ে থাকা পরিবারগুলোর দুর্ভোগ বাড়তে পারে বলেও উদ্বেগ রয়েছে।
যদিও যুদ্ধবিরতির পর মানবিক সহায়তা প্রবেশের সুযোগ বেড়েছিল এবং দুর্ভিক্ষের ঝুঁকি কমানোর ক্ষেত্রে কিছু অগ্রগতি হয়েছিল, ইউনিসেফ বলছে এই অগ্রগতি এখনো ভঙ্গুর। খাদ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ নিয়মিত না থাকলে শিশুদের পুষ্টি পরিস্থিতির উন্নতি ধরে রাখা কঠিন হবে। তাই সংস্থাটি সব সীমান্ত পারাপারের পথ দিয়ে মানবিক সহায়তা ও বাণিজ্যিক পণ্য প্রবেশের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
গাজার শিশুদের জন্য এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো পর্যাপ্ত ও পুষ্টিকর খাবার, নিরাপদ আশ্রয় এবং নিরবচ্ছিন্ন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মতে, কেবল জরুরি ত্রাণ নয়, নিয়মিত সরবরাহব্যবস্থা চালু রাখা এবং বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর জীবনযাত্রার পরিবেশ উন্নত করাও দীর্ঘমেয়াদি সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ।





