ব্রেকিং
অভিবাসন কর্মকর্তাদের ক্যামেরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালুর সুপারিশে আপত্তি, জবাবদিহি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্কযুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি ৩.৭ শতাংশে, পেট্রলের দাম এক মাসে বেড়েছে ৯.১ শতাংশসাবেক সিআইএ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির মামলা স্থগিত, এক বছর পর অভিযোগ প্রত্যাহারের শর্তসাহায্য চাওয়ার ছলে প্রবীণদের গয়না চুরি, চার অঙ্গরাজ্যে অভিযুক্ত রোমানীয় দম্পতিজেএফকে বিমানবন্দরে ইউনূসকে হেনস্তার অভিযোগ, তীব্র নিন্দা জানালেন বিএনপির রুহুল কবির রিজভী

যৌন নিপীড়নের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষাবর্ষজুড়ে পার্টি নিষিদ্ধ

২০২৪ সালের যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ঘিরে তীব্র সমালোচনার মুখে কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষাবর্ষের বাকি সময়ের জন্য ভ্রাতৃসংঘের পার্টি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

যৌন নিপীড়নের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষাবর্ষজুড়ে পার্টি নিষিদ্ধ
যৌন নিপীড়নের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষাবর্ষজুড়ে পার্টি নিষিদ্ধ

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র বিতর্কের মধ্যে বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শিক্ষাবর্ষের বাকি সময়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরুষ শিক্ষার্থীদের ভ্রাতৃসংঘগুলোর পার্টি ও সামাজিক অনুষ্ঠান স্থগিত করেছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে নিয়ম ভঙ্গ করলে সংশ্লিষ্ট ভ্রাতৃসংঘের কার্যক্রম তাৎক্ষণিকভাবে স্থগিত করার নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, যৌন নিপীড়নের অভিযোগের তদন্তে স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং প্রশাসনের প্রতি হারিয়ে যাওয়া আস্থা ফিরিয়ে আনাই এই পদক্ষেপের প্রধান লক্ষ্য।

বিশ্ববিদ্যালয়টির সভাপতি মাইকেল কোটলিকফ ১৩ অক্টোবর এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। ২০২৪ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের চি ফাই নামের একটি ভ্রাতৃসংঘের অনুষ্ঠানে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠার পর থেকেই ঘটনাটি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল। সম্প্রতি একজন সাবেক শিক্ষার্থীর দায়ের করা দেওয়ানি মামলার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। মামলায় ওই নারী অভিযোগ করেন, অনুষ্ঠানের সময় তাঁকে মাদকজাতীয় পদার্থ প্রয়োগ করে অচেতন বা অসহায় অবস্থায় ফেলে একাধিক ব্যক্তি যৌন নিপীড়ন করেছিলেন। মামলায় সাতজন পুরুষের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগকে দণ্ডিত হওয়ার ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

অভিযোগকারী নারী আদালতের নথিতে নিজের পরিচয় গোপন রাখতে ‘জেন ডো’ ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন। তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের অক্টোবরে ভ্রাতৃসংঘের ওই অনুষ্ঠানে তাঁকে মদ্যপান ও মাদক গ্রহণের জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল। এরপর একাধিক ব্যক্তি তাঁর সম্মতি ছাড়া যৌন আচরণ করেন বলে তিনি দাবি করেছেন। ঘটনাটি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ তদন্ত ও শাস্তিমূলক প্রক্রিয়া চললেও, অভিযোগকারী ও তাঁর সমর্থকদের একাংশ মনে করেন, কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ যথেষ্ট ছিল না। এ নিয়ে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সাবেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়তে থাকে।

ঘটনাটি প্রথম সামনে আসার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট ভ্রাতৃসংঘের কার্যক্রম বন্ধ করে এবং অভিযুক্ত কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে সাময়িক ব্যবস্থা নেয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব শৃঙ্খলাবিষয়ক তদন্তে বহিষ্কার ও সাময়িক বরখাস্তসহ বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয় বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। তবে ব্যক্তিগত শিক্ষার্থী-সংক্রান্ত গোপনীয়তা রক্ষার বিধানের কারণে প্রত্যেকের বিরুদ্ধে নেওয়া নির্দিষ্ট ব্যবস্থার বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় বলেছে, অভিযোগের গুরুত্ব তারা স্বীকার করে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

ঘটনাটি নিয়ে সাম্প্রতিক সমালোচনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্তে শুধু পার্টি বন্ধ রাখার বিষয়টিই নয়, তদন্তপ্রক্রিয়ায় বাইরের সংস্থার অংশগ্রহণও গুরুত্ব পেয়েছে। যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তদন্তে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের পুলিশকে আরও ভূমিকা দেওয়ার কথা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এর ফলে অভিযোগ তদন্তের ক্ষেত্রে স্বাধীন তদারকি বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি যৌন নিপীড়নের শিকার ব্যক্তিদের সহায়তার জন্য অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগ এবং অভিযোগ জানানোর পর সহায়তা পাওয়ার ব্যবস্থা উন্নত করার পরিকল্পনাও ঘোষণা করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমের ওপর আস্থা ফিরিয়ে আনতে কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের একটি বিশেষ কমিটি সাবেক মার্কিন উপ-অ্যাটর্নি জেনারেল স্যালি ইয়েটসকে স্বাধীন পর্যালোচনার দায়িত্ব দিয়েছে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় কীভাবে যৌন হয়রানি ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগ প্রতিরোধ করে, অভিযোগ পাওয়ার পর কীভাবে তদন্ত করে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিরাপত্তা ও সহায়তা নিশ্চিত করে, তা পর্যালোচনা করবেন। ২০২৪ সালের ঘটনাটি সামলানোর ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা ও সিদ্ধান্ত যথাযথ ছিল কি না, সেটিও এই পর্যালোচনার আওতায় রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি মাইকেল কোটলিকফ স্বীকার করেছেন, ক্যাম্পাসে নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়ে গেছে। তিনি অভিযোগকারী নারীর অভিজ্ঞতার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় সম্প্রদায়ের যেসব সদস্য মনে করছেন প্রশাসন যথাযথভাবে কাজ করেনি, তাঁদের উদ্বেগের গুরুত্ব স্বীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, শুধু তদন্ত শেষ করা বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়াই যথেষ্ট নয়; এমন পরিবেশ তৈরি করাও জরুরি, যেখানে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ বোধ করবেন এবং নিপীড়নের শিকার হলে নির্ভয়ে অভিযোগ জানাতে পারবেন।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রতিবাদ ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে সমালোচনা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের একাংশের দাবি, যৌন নিপীড়নের অভিযোগ মোকাবিলায় আরও কঠোর নীতি এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। তাঁদের মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তার পরিবেশ বজায় রাখতে শুধু লিখিত নীতিমালা থাকলেই হবে না; অভিযোগের যথাযথ তদন্ত, ভুক্তভোগীর পাশে দাঁড়ানো এবং দায়ী প্রমাণিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ন্যায্য ব্যবস্থা নেওয়াও জরুরি। অন্যদিকে, অভিযোগের বিচারপ্রক্রিয়ায় অভিযুক্তদের ন্যায্য অধিকার এবং প্রমাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার নীতিও বজায় রাখতে হবে।

ঘটনাটির ফৌজদারি তদন্তও নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে। ২০২৪ সালে স্থানীয় প্রসিকিউটর অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা এগিয়ে নেননি। তবে নতুন দেওয়ানি মামলা এবং প্রকাশ্যে আসা অতিরিক্ত তথ্যের পর তদন্ত পুনরায় পর্যালোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল এই মামলায় অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমসকে বিশেষ কৌঁসুলি হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছেন। এর মাধ্যমে অভিযোগের বিষয়গুলো স্বাধীনভাবে খতিয়ে দেখার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এখন পর্যন্ত সাতজনের বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলায় উত্থাপিত অভিযোগকে ফৌজদারি আদালতে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।

কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, যৌন নিপীড়নের অভিযোগের তদন্ত এবং প্রশাসনিক জবাবদিহি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা তৈরি করেছে। পার্টি স্থগিত রাখা সাময়িকভাবে ঝুঁকি কমানোর পদক্ষেপ হতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদে পরিস্থিতির উন্নতি নির্ভর করবে তদন্তের স্বচ্ছতা, অভিযোগকারীদের সহায়তা, প্রতিরোধমূলক শিক্ষা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা বাস্তবায়নের ওপর। অভিযোগের তদন্ত ও স্বাধীন পর্যালোচনার ফল প্রকাশের পরই বোঝা যাবে, এসব পদক্ষেপ ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ও প্রশাসনের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনতে কতটা কার্যকর হয়।

ট্যাগ: যুক্তরাষ্ট্রকর্নেলবিশ্ববিদ্যালয়শিক্ষাঙ্গনশিক্ষার্থীদেরনিরাপত্তাযৌননিপীড়নবিশ্ববিদ্যালয়আইনওবিচার

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সংবাদ পান আপনার ইনবক্সে

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।