রিয়াদ বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ১২, দায় স্বীকার নিয়ে ধোঁয়াশা
রিয়াদ বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১২ জন নিহত ও ৩০৯ জন আহত, হুতিদের দায় নিয়ে ধোঁয়াশায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত।
৭ মিনিটে পড়ুন
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং ৩০৯ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। শনিবার, ১০ অক্টোবর, বিমানবন্দরের যাত্রী টার্মিনাল এলাকায় আঘাত হানে ক্ষেপণাস্ত্র। এতে হতাহতের পাশাপাশি বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায় এবং বহু যাত্রীর যাতায়াত ব্যাহত হয়। সৌদি কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো হতাহতের এই সংখ্যা প্রকাশ করেছে। ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক হামলার ধারাবাহিকতায় ঘটনাটি ঘটেছে বলে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট অভিযোগ করেছে। তবে প্রাণঘাতী এই নির্দিষ্ট হামলার দায় হুতিরা সরাসরি স্বীকার করেছে কি না, তা নিয়ে প্রতিবেদনগুলোতে কিছু পার্থক্য রয়েছে।
হামলার লক্ষ্য ছিল রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ যাত্রীদের ব্যবহৃত তৃতীয় ও চতুর্থ নম্বর টার্মিনালসংলগ্ন এলাকা। সেখানে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর হতাহতদের উদ্ধার করতে অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি সেবার কর্মীরা ছুটে যান। আহতদের অনেককে হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর ছিল। ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। তবে পরবর্তী সরকারি হিসাব ছাড়া হতাহতের সংখ্যা পরিবর্তিত হয়েছে বলে নিশ্চিতভাবে বলা উচিত নয়।
নিহতদের মধ্যে চারজন সৌদি নাগরিক এবং দুজন বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, জর্ডান, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, সুদান ও মিসরের একজন করে নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের তথ্যের বরাতে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। অর্থাৎ, এই হামলায় সৌদি নাগরিকদের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হওয়ায় সেখানে বিভিন্ন দেশের যাত্রী ও কর্মীর উপস্থিতি ছিল। নিহতদের জাতীয়তা প্রকাশের বিষয়টি ঘটনাটির আন্তর্জাতিক গুরুত্বও সামনে এনেছে।
বিমানবন্দরে হামলার পর উড়োজাহাজ ওঠানামা সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয় এবং কয়েকটি উড়োজাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করা হয়। এর আগে সপ্তাহের শুরুতেও একই বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে হামলার খবর প্রকাশিত হয়েছিল। বৃহস্পতিবারের হামলায় তিন সৌদি নাগরিক নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছিল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ওই হামলায় একটি সৌদি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ফলে শনিবারের প্রাণঘাতী হামলাটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং কয়েক দিনের ব্যবধানে গুরুত্বপূর্ণ বিমান চলাচলকেন্দ্রে ধারাবাহিক হামলার অংশ।
বিমানবন্দরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন বিমান সংস্থা রিয়াদগামী ও রিয়াদ থেকে ছেড়ে যাওয়া উড়োজাহাজের চলাচল স্থগিত বা বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেয়। জার্মানির লুফথানসা গোষ্ঠী রিয়াদে তাদের ফ্লাইট চলাচল ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত রাখার কথা জানিয়েছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। ভারতের কয়েকটি বিমান সংস্থাও সাময়িকভাবে ফ্লাইট বাতিল করে। দিল্লি থেকে রিয়াদগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি উড়োজাহাজ নিরাপত্তার কারণে মাঝপথ থেকে ফিরে যায় বলে জানানো হয়। এসব সিদ্ধান্তের ফলে যাত্রীদের ভ্রমণ পরিকল্পনায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। তবে কোন ফ্লাইট কখন চালু হবে, সে বিষয়ে যাত্রার আগে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার সর্বশেষ ঘোষণা যাচাই করা জরুরি।
হামলার দায় নিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো, বিভিন্ন প্রতিবেদনে একই রকম বক্তব্য পাওয়া যায়নি। শনিবারের হামলার পর সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট হুতি বিদ্রোহীদের দায়ী করে এবং ঘটনাটিকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে বর্ণনা করে। অন্যদিকে, বার্তা সংস্থা এপির ১১ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুতিরা ওই শনিবারের প্রাণঘাতী হামলার দায় সরাসরি স্বীকার করেনি। তবে তারা আগের দিনগুলোতে সৌদি বিমানবন্দর, তেল স্থাপনা ও সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে হামলার কথা জানিয়েছিল। রবিবার তারা সৌদি বিমানবন্দর ব্যবহার না করার জন্য বিমান সংস্থা, কর্মী ও যাত্রীদের আবারও সতর্ক করে।
এই পার্থক্যের কারণেই “হুতিরা ১২ জন নিহত হওয়ার হামলার দায় স্বীকার করেছে” এমন বাক্যটি ব্যবহার করার আগে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। হুতিদের বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হামলার দাবি এবং নির্দিষ্ট প্রাণঘাতী হামলার সরাসরি দায় স্বীকার একই বিষয় নয়। প্রকাশিত প্রতিবেদনে গোষ্ঠীটির সাম্প্রতিক হামলার স্বীকৃতি ও সতর্কবার্তার কথা রয়েছে, কিন্তু শনিবারের হামলা নিয়ে তাদের বক্তব্যের ব্যাখ্যায় পার্থক্য দেখা যায়। তাই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে নির্ভুলভাবে বলা যায়, সৌদি কর্তৃপক্ষ ও তাদের সামরিক জোট হামলার জন্য হুতিদের দায়ী করেছে; হুতিরা সৌদি বিমানবন্দরগুলোকে লক্ষ্য করার কথা জানিয়েছে, তবে শনিবারের হামলার সরাসরি দায় স্বীকারের বিষয়টি সব প্রতিবেদনে নিশ্চিত নয়।
হামলার পর সৌদি আরবের পক্ষ থেকে কঠোর জবাব দেওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি জানান, বেসামরিক মানুষ ও বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে চালানো হামলার জবাব দেওয়া হবে। জোটের বক্তব্য অনুযায়ী, এ ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন। তবে সৌদি আরব ঠিক কী ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেবে, তা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের বিস্তারিত প্রকাশিত হয়নি। পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হলে ইয়েমেনের সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রও এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বেসামরিক মানুষের জীবন বিপন্ন হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি আরবের পক্ষে হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র অংশ নেবে কি না, তা বিবেচনা করার ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তবে এই বক্তব্যকে সরাসরি সামরিক অভিযানে যোগ দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য ভূমিকা কী হবে, তা নির্ভর করবে পরবর্তী পরিস্থিতি এবং ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্তের ওপর।
কাতারসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোও হামলার নিন্দা জানিয়েছে। কাতারের পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতও রিয়াদের বিমানবন্দরে হামলার নিন্দা জানিয়ে সৌদি আরবের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে বিমান চলাচল, জ্বালানি সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য স্থিতিশীল নিরাপত্তাব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই কারণে বিমানবন্দরের মতো বেসামরিক স্থাপনায় বারবার হামলা শুধু সৌদি আরবের জন্য নয়, প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্যও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই সংঘাতের পেছনে রয়েছে ইয়েমেনের দীর্ঘদিনের যুদ্ধ এবং সৌদি আরবের সঙ্গে হুতিদের বিরোধ। হুতিরা ইয়েমেনের একটি সশস্ত্র রাজনৈতিক ও সামরিক গোষ্ঠী, যারা দেশটির রাজধানী সানাসহ বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে। সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিয়ে আসছে। অন্যদিকে, হুতিদের সঙ্গে ইরানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে এবং বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক গোষ্ঠীটির সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ইরানের সহায়তার বিষয়টি তুলে ধরেছে। তবে কোনো নির্দিষ্ট হামলার নির্দেশ বা পরিচালনায় ইরানের সরাসরি ভূমিকা রয়েছে কি না, তা আলাদা প্রমাণের বিষয়।
২০২২ সালে ইয়েমেনের সংঘাতে একটি যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু ২০২৬ সালে নতুন করে লড়াই তীব্র হওয়ার পর সেই সমঝোতা কার্যত ভেঙে পড়েছে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনী হুতিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকাগুলো পুনর্দখলের চেষ্টা করছে। অন্যদিকে, হুতিরা সৌদি ভূখণ্ডের বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলার হুমকি দিয়েছে। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপ সংঘাতকে আরও বিপজ্জনক পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে।
এ সংঘাতের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বাব আল-মান্দেব প্রণালি। লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের সংযোগস্থলে অবস্থিত এই নৌপথ আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহন এবং জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইয়েমেনের উপকূলের কাছে সংঘাত তীব্র হলে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে। জাহাজ চলাচলে ঝুঁকি বাড়লে পরিবহন ব্যয়, পণ্য সরবরাহের সময় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামের ওপরও প্রভাব পড়তে পারে। তবে বিমানবন্দরে হামলার কারণে বিশ্ববাজারে নির্দিষ্ট মাত্রায় মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে আলাদা অর্থনৈতিক তথ্য প্রয়োজন।
রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার পর সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো হতাহতদের চিকিৎসা, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা পুনর্মূল্যায়ন এবং যাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ক্ষয়ক্ষতি যাচাই ও পরিস্থিতি মোকাবিলার কাজ করছে বলে প্রতিবেদনগুলোতে উল্লেখ রয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশের দূতাবাস ও বিমান সংস্থাগুলো তাদের নাগরিক এবং যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিচ্ছে। যারা সৌদি আরবে ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, তাদের উচিত সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থা, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এবং নিজ দেশের দূতাবাসের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করা।
সব মিলিয়ে, রিয়াদের বিমানবন্দরে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা সৌদি আরব ও ইয়েমেনের সংঘাতকে আরও তীব্র করে তুলেছে। অন্তত ১২ জন নিহত এবং ৩০৯ জন আহত হওয়ার তথ্য সৌদি কর্তৃপক্ষের বরাতে একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। হুতিদের সাম্প্রতিক হামলার দাবি ও বিমানবন্দর ব্যবহার না করার সতর্কবার্তা পরিস্থিতির গুরুত্ব বাড়িয়েছে। তবে শনিবারের নির্দিষ্ট হামলার দায় স্বীকার নিয়ে প্রতিবেদনে যে পার্থক্য রয়েছে, তা স্পষ্ট রাখা জরুরি। নতুন কোনো সরকারি বিবৃতি বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য প্রকাশিত হলে হামলার দায়, ক্ষয়ক্ষতি এবং পরবর্তী সামরিক পদক্ষেপ সম্পর্কে আরও নির্ভুল চিত্র পাওয়া যাবে।
হামলার পর সৌদি আরবের পক্ষ থেকে কঠোর জবাব দেওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি জানান, বেসামরিক মানুষ ও বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে চালানো হামলার জবাব দেওয়া হবে। জোটের বক্তব্য অনুযায়ী, এ ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন। তবে সৌদি আরব ঠিক কী ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেবে, তা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের বিস্তারিত প্রকাশিত হয়নি। পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হলে ইয়েমেনের সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রও এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বেসামরিক মানুষের জীবন বিপন্ন হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি আরবের পক্ষে হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র অংশ নেবে কি না, তা বিবেচনা করার ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তবে এই বক্তব্যকে সরাসরি সামরিক অভিযানে যোগ দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য ভূমিকা কী হবে, তা নির্ভর করবে পরবর্তী পরিস্থিতি এবং ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্তের ওপর।
এই সংঘাতের পেছনে রয়েছে ইয়েমেনের দীর্ঘদিনের যুদ্ধ এবং সৌদি আরবের সঙ্গে হুতিদের বিরোধ। হুতিরা ইয়েমেনের একটি সশস্ত্র রাজনৈতিক ও সামরিক গোষ্ঠী, যারা দেশটির রাজধানী সানাসহ বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে। সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিয়ে আসছে। অন্যদিকে, হুতিদের সঙ্গে ইরানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে এবং বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক গোষ্ঠীটির সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ইরানের সহায়তার বিষয়টি তুলে ধরেছে। তবে কোনো নির্দিষ্ট হামলার নির্দেশ বা পরিচালনায় ইরানের সরাসরি ভূমিকা রয়েছে কি না, তা আলাদা প্রমাণের বিষয়।





