যৌন নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাদের ওপর ভরসা হারালেন শিক্ষকরা
বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ সঠিকভাবে সামলাতে না পারার অভিযোগে কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওপর আস্থা হারিয়েছেন শিক্ষকরা। ভোটের মাধ্যমে প্রশাসনের বিরুদ্ধে অনাস্থা জানিয়েছেন তাঁরা।
যৌন নির্যাতনের অভিযোগ সঠিকভাবে সামলাতে না পারার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ প্রশাসনের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রকাশ করেছেন শিক্ষকরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক পরিষদের ভোটে প্রশাসনের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাব পাস হয়েছে। এতে ৭৫ জন শিক্ষক পক্ষে এবং ৫০ জন বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন। পাঁচজন ভোট দেওয়া থেকে বিরত ছিলেন।
শুক্রবার প্রকাশিত ভোটের ফল অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসন যৌন নির্যাতনের অভিযোগ মোকাবিলায় যথাযথ ভূমিকা রাখতে পারছে না বলে মনে করছেন প্রস্তাবের পক্ষে থাকা শিক্ষকরা। তাঁদের মতে, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং এ ধরনের অভিযোগের সঠিক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রশাসনের আরও দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন।
এই অনাস্থা ভোটের পেছনে রয়েছে ২০২৪ সালের একটি যৌন নির্যাতনের অভিযোগ। এক সাবেক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ভ্রাতৃসংগঠনের অনুষ্ঠানে তাঁকে মাদক খাইয়ে কয়েকজন মিলে যৌন নির্যাতন করেন। এ ঘটনায় তিনি বিশ্ববিদ্যালয় এবং সাতজন সাবেক সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। তবে অভিযুক্ত সাতজনই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
ওই শিক্ষার্থীর অভিযোগ সামনে আসার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। অভিযোগটি সামলানোর ক্ষেত্রে প্রশাসন যথেষ্ট ব্যবস্থা নেয়নি বলে সমালোচনা করেন অনেকে। এ পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক পরিষদের কয়েকজন সদস্য প্রশাসনের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনেন।
তবে এই ভোটের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট মাইকেল কটলিকফ বা অন্য কর্মকর্তাদের পদ ছাড়তে হবে না। কারণ, শিক্ষক পরিষদের এই ভোটের মাধ্যমে প্রশাসনকে পদত্যাগে বাধ্য করার ক্ষমতা নেই। এটি মূলত প্রশাসনের প্রতি শিক্ষকদের অনাস্থা ও অসন্তোষ প্রকাশের একটি প্রতীকী সিদ্ধান্ত।
অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদ প্রেসিডেন্ট ও বর্তমান প্রশাসনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। তাদের বক্তব্য, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বাড়ানো এবং যৌন নির্যাতনের অভিযোগ মোকাবিলায় প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।
এ ঘটনায় নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেলের অধীনে নতুন করে তদন্তও চলছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা আরও উন্নত করার কথা জানিয়েছে। শিক্ষক পরিষদের এই ভোটের মধ্য দিয়ে কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ মোকাবিলায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।






মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।