হামে আক্রান্তের সংখ্যা ৫ হাজার ছাড়াল, ৩৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ রেকর্ড
যুক্তরাষ্ট্রে হামের সংক্রমণ ভয়াবহভাবে বেড়েছে। চলতি বছরে আক্রান্তের সংখ্যা ৫ হাজার ছাড়িয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে শিশু ও কিশোর-কিশোরীর সংখ্যাও অনেক বেশি। পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের।
যুক্তরাষ্ট্রে হামে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ৫ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। চলতি ২০২৬ সালের ৫ নভেম্বর পর্যন্ত দেশটিতে মোট ৫ হাজার ১৮২ জনের শরীরে এই রোগ শনাক্ত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯১ সালের পর দেশটিতে এক বছরে এটিই হামে আক্রান্তের সর্বোচ্চ সংখ্যা।
সিডিসির তথ্য বলছে, আক্রান্তদের মধ্যে ৯৬ শতাংশ মানুষ হামের টিকা নেননি অথবা তাঁদের টিকা নেওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। চলতি বছরে দেশজুড়ে ৪৩টি বড় ধরনের সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। আক্রান্তদের মধ্যে ৪ হাজার ৯৯৩ জন এসব সংক্রমণের সঙ্গে সম্পর্কিত।
হামে আক্রান্তদের মধ্যে শিশু ও কিশোর-কিশোরীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। ৫ থেকে ১৯ বছর বয়সীদের মধ্যে ২ হাজার ১০৪ জন আক্রান্ত হয়েছেন। অন্যদিকে, ২০ বছর বা তার বেশি বয়সীদের মধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজার ১৩২ জন। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুর মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা ৯০৮ জন। সব মিলিয়ে আক্রান্তদের প্রায় ৫৯ শতাংশ শিশু ও কিশোর-কিশোরী।
এদিকে, হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে ৫৬২ জনকে। যা মোট আক্রান্তের প্রায় ১১ শতাংশ। সিডিসির হিসাবে চলতি বছরে এই রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত চারজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগ ছয়টি মৃত্যুর খবর জানিয়েছে। মৃত্যুর হিসাব কীভাবে নির্ধারণ করা হচ্ছে, তা নিয়ে দুই পক্ষের তথ্যের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
অঙ্গরাজ্যগুলোর মধ্যে পেনসিলভানিয়ায় পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি খারাপ। সেখানে ১ হাজার ৪৮৭ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এরপর রয়েছে সাউথ ক্যারোলাইনা ও ইউটাহ। এসব এলাকায় সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
এর আগে ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে মোট ২ হাজার ২৮৯ জন হামে আক্রান্ত হয়েছিলেন। কিন্তু এবার বছরের শেষ হতে আরও সময় বাকি থাকতেই সেই সংখ্যা দ্বিগুণের বেশি হয়েছে। ২০১৯ সালে দেশটিতে ১ হাজার ২৭৪ জন আক্রান্ত হয়েছিলেন। এরপর থেকে সংক্রমণ আবারও বড় আকারে বাড়তে শুরু করেছে।
চিকিৎসকদের মতে, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি বা হাঁচির মাধ্যমে এটি সহজেই অন্য মানুষের শরীরে ছড়াতে পারে। এ রোগে জ্বর, কাশি, চোখ লাল হওয়া এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দিতে পারে। গুরুতর অবস্থায় ফুসফুসে সংক্রমণ ও মস্তিষ্কে প্রদাহের মতো জটিলতা তৈরি হতে পারে।
তবে হামের টিকা নেওয়ার মাধ্যমে এই রোগ থেকে সুরক্ষিত থাকা সম্ভব। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা শিশুদের নির্ধারিত সময়ে টিকা দেওয়ার পাশাপাশি যাঁদের টিকা নেওয়া হয়নি, তাঁদের টিকা নেওয়ার বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছেন।






মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।