যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ ব্যবস্থায় জালিয়াতি নিয়ে উদ্বেগ
বিদেশি শিক্ষার্থীদের কাজের সুযোগ নিয়ে নতুন উদ্বেগ জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সরকার। সিপিটি ব্যবস্থায় অনিয়ম বাড়ার কথা উল্লেখ করে আরও নজরদারির ইঙ্গিত দিয়েছে দেশটি।
যুক্তরাষ্ট্রে এফ-১ ভিসায় পড়াশোনা করা বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য কাজের সুযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা হলো কারিকুলার প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং (সিপিটি)। তবে এই ব্যবস্থায় জালিয়াতি ও অনিয়ম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশটির স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ। এ ধরনের অনিয়মের প্রবণতা বেড়েছে উল্লেখ করে ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী আরও পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি।
গত ৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত একটি সরকারি প্রস্তাবে বিষয়টি উঠে এসেছে। সেখানে বলা হয়েছে, সিপিটি ব্যবস্থায় জালিয়াতি ও জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত ঝুঁকি অতীতেও ছিল। শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব উদ্বেগও বেড়েছে বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ।
তবে এ বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরিষ্কার করা প্রয়োজন। ওই সরকারি প্রস্তাবে সিপিটির জন্য নতুন কোনো ফি নির্ধারণ করা হয়নি। বরং সিপিটির বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতে অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
একই সরকারি নথিতে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং (অপিটি) ব্যবস্থায় বড় অঙ্কের ফি আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রথমবার অপিটির অনুমোদনের সুপারিশের জন্য ৭০ হাজার ডলার এবং পরবর্তী সময়ে আরও ৩০ হাজার ডলার নেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। তবে এই অর্থ শিক্ষার্থীর পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
এই দুই ব্যবস্থার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। সিপিটি সাধারণত শিক্ষার্থীর পড়াশোনার পাঠ্যক্রমের অংশ হিসেবে নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশিপ বা কাজের সুযোগ দেয়। অন্যদিকে অপিটি শিক্ষার্থীদের নিজেদের পড়াশোনার বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত কাজে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ করে দেয়। অপিটি পড়াশোনার সময় এবং পড়াশোনা শেষ হওয়ার পরও নির্দিষ্ট শর্তে নেওয়া যায়।
সিপিটির ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীকে কাজ শুরু করার আগে নিজের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার অনুমোদন নিতে হয়। কাজটি শিক্ষার্থীর পড়াশোনার বিষয়ের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত হতে হবে এবং পাঠ্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে হবে। অনুমোদন ছাড়া কাজ শুরু করলে শিক্ষার্থী অভিবাসনসংক্রান্ত সমস্যায় পড়তে পারেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, একটানা বা বিভিন্ন সময়ে মিলিয়ে এক বছর কিংবা তার বেশি পূর্ণকালীন সিপিটিতে অংশ নিলে একই শিক্ষাস্তরে পরবর্তী সময়ে অপিটি পাওয়ার যোগ্যতা হারাতে পারেন শিক্ষার্থী। তাই এই ব্যবস্থায় অংশ নেওয়ার আগে নিয়মগুলো ভালোভাবে বুঝে নেওয়া জরুরি।
নতুন সরকারি প্রস্তাবে সিপিটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হলেও এখনই এই ব্যবস্থায় নতুন ফি বা নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে—এমন কোনো তথ্য নেই। ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৭০ হাজার ডলারের ফি সিপিটির ওপরও আরোপ করা হয়েছে—এমন ধারণা সঠিক নয়।
অপিটির নতুন ফি প্রস্তাবের বিষয়ে জনসাধারণের মতামত দেওয়ার শেষ সময় ৯ নভেম্বর ২০২৬। এরপর মতামত পর্যালোচনা করে সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তবে এই সময়সীমা অপিটির ফি প্রস্তাবের জন্য, সিপিটির জন্য নয়।
যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করা বাংলাদেশিসহ অন্যান্য দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যারা ইন্টার্নশিপ বা কাজের মাধ্যমে নিজেদের পড়াশোনার অভিজ্ঞতা বাড়াতে চান, তাদের সিপিটি ও অপিটির নিয়মের পার্থক্য বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।






মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।