সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
যুক্তরাষ্ট্রে থেকেই গ্রিন কার্ড পাওয়া কঠিন হচ্ছে, নতুন নিয়মে বাড়ছে কড়াকড়িডাক বিভাগসহ ডেলিভারি খাতে হাজারো চাকরির সুযোগ, বেতন ঘণ্টায় ৩৫ ডলারযুক্তরাষ্ট্রে চাকরি খুঁজছেন? সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চলছে নতুন নিয়োগছুটির মৌসুমে যুক্তরাষ্ট্রে অ্যামাজনের ৩ লাখ চাকরি, সুযোগ পাচ্ছেন নতুন কর্মীরাবাফেলোতে ১০ দেশের ১০ জনের মার্কিন নাগরিকত্ব, তালিকায় একজন বাংলাদেশিও

রুশ হামলায় পানিশূন্য কিয়েভ, ২৪ ঘণ্টার বেশি বন্ধ ছিল রাজধানীর পানি সরবরাহ

রাশিয়ার হামলায় বিদ্যুৎ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে কিয়েভে ২৪ ঘণ্টার বেশি পানি বন্ধ থাকে; পরে সরবরাহ ফিরলেও নতুন বিভ্রাটে দুর্ভোগ বাড়ে।

রুশ হামলায় পানিশূন্য কিয়েভ, ২৪ ঘণ্টার বেশি বন্ধ ছিল রাজধানীর পানি সরবরাহ
রুশ হামলায় পানিশূন্য কিয়েভ, ২৪ ঘণ্টার বেশি বন্ধ ছিল রাজধানীর পানি সরবরাহ

রাশিয়ার ব্যাপক হামলায় ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে ভয়াবহ পানি সরবরাহ সংকট দেখা দিয়েছে। দেশটির জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে চালানো হামলার কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় রাজধানীর প্রধান পানি সরবরাহকেন্দ্রগুলো অচল হয়ে পড়ে। এতে শহরের অধিকাংশ এলাকায় ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে পানি সরবরাহ বন্ধ থাকে। চলমান পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর পর এটিকে কিয়েভের সবচেয়ে গুরুতর পানি সংকট হিসেবে বর্ণনা করেছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

গত ৩ নভেম্বর ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক হামলা চালায় রুশ বাহিনী। দেশটির বিদ্যুৎ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান উক্রএনেরগো জানায়, আগের ২৪ ঘণ্টায় জ্বালানি অবকাঠামোতে ২০ বারের বেশি হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজধানীসহ বিভিন্ন অঞ্চলে জরুরি বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানান, রাজধানীর আঞ্চলিক বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ক্ষতির কারণে শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহে জরুরি বিঘ্ন ঘটে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে পানি সরবরাহ এবং বৈদ্যুতিক গণপরিবহন ব্যবস্থায়। পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কিয়েভভোদোকানালও জানায়, বিদ্যুৎ না থাকায় তাদের গুরুত্বপূর্ণ পানি সরবরাহকেন্দ্রগুলো স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারছিল না।

কিয়েভের পানি সরবরাহব্যবস্থা মূলত বড় বড় পাম্পকেন্দ্রের ওপর নির্ভরশীল। এসব কেন্দ্রের মাধ্যমে পানি উত্তোলন, পরিশোধন এবং বিভিন্ন এলাকার বাসাবাড়িতে সরবরাহ করা হয়। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে পাম্পগুলো অচল হয়ে পড়ে। ফলে শুধু একটি এলাকার পরিবর্তে রাজধানীর বিস্তৃত অঞ্চলে পানির চাপ কমে যায় এবং একপর্যায়ে পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।

সংকটের কারণে নগরবাসীকে দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে বিকল্প পানির উৎসের ওপর নির্ভর করতে হয়। পানীয় জল সংগ্রহের জন্য অনেক বাসিন্দা নির্ধারিত জনসাধারণের পানির সংগ্রহকেন্দ্র ও পাম্পের দিকে ছুটে যান। কেউ বোতলে, কেউ বড় পাত্রে প্রয়োজনীয় পানি সংগ্রহ করেন। পানি না থাকায় রান্না, গোসল, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং অন্যান্য জরুরি কাজেও সমস্যায় পড়েন বাসিন্দারা।

রাজধানীর কয়েকটি রেস্তোরাঁয় পানির অভাবে শৌচাগার ব্যবহার সীমিত বা বন্ধ রাখতে হয়। এতে বোঝা যায়, সংকটটি শুধু আবাসিক এলাকায় সীমাবদ্ধ ছিল না; ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও জনসাধারণের দৈনন্দিন সেবাও এর প্রভাবে পড়ে। তবে কতজন মানুষ সরাসরি পানিবঞ্চিত হয়েছেন, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করেনি।

কিয়েভের পানি ও ভূমি পুনরুদ্ধারবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মিখাইলো ইয়াতসুক এই পরিস্থিতিকে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর পর রাজধানীর সবচেয়ে গুরুতর পানি সংকট হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, শীত মৌসুমে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। কারণ তাপমাত্রা কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ে। ঘর গরম রাখা, পানি সরবরাহ এবং অন্যান্য জরুরি নাগরিক সেবা চালু রাখতে তখন বিপুল পরিমাণ বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কিয়েভের পানি সরবরাহব্যবস্থার দুর্বলতা একদিনে তৈরি হয়নি। এর আগে বিভিন্ন সময়ে রুশ হামলায় বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে তাপ ও বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী কয়েকটি কেন্দ্রের সক্ষমতা কমে যাওয়ায় পানি সরবরাহব্যবস্থার বিকল্প বিদ্যুৎ পাওয়ার সুযোগও সীমিত হয়েছে। ফলে জাতীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিলে পানি সরবরাহ দ্রুত বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় কিয়েভ নগর প্রশাসন জরুরি সহায়তা কার্যক্রম চালু করে। বিদ্যুৎবিহীন এলাকায় বাসিন্দাদের জন্য উষ্ণ আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়। এসব কেন্দ্রে মানুষ ঠান্ডা থেকে বাঁচার পাশাপাশি মুঠোফোন ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রে চার্জ দেওয়ার সুযোগ পান। একই সঙ্গে বিকল্প পানির উৎসগুলোর অবস্থান জানাতে নাগরিকদের জন্য তথ্য ও মানচিত্র প্রকাশ করা হয়।

তবে সংকট দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ৪ নভেম্বর সকালে কিয়েভভোদোকানাল জানায়, রাজধানীর বাম তীরের বিভিন্ন এলাকায় এবং অবোলনস্কি জেলায় পানি সরবরাহ পুনরায় চালু হয়েছে। শহরের ডান তীরের কিছু এলাকায় তখনো পানির চাপ স্বাভাবিকের তুলনায় কম ছিল। পরে একই দিন দুপুরে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশনের সব পাম্পকেন্দ্র স্বাভাবিকভাবে কাজ শুরু করেছে এবং পানির চাপ নির্ধারিত মাত্রায় ফিরে এসেছে।

কিন্তু পরিস্থিতি আবারও জটিল হয়ে ওঠে ৫ নভেম্বর। বিদ্যুৎ সরবরাহে ওঠানামা ও জরুরি বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করার কারণে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে পানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে। একই সময়ে বিদ্যুতের সমস্যায় কিয়েভের পাতালরেল চলাচলেও সাময়িক প্রভাব পড়ে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, বিদ্যুৎ প্রকৌশলী ও পানি সরবরাহ বিভাগের কর্মীরা যৌথভাবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছেন।

সংকট মোকাবিলায় ইউক্রেন সরকার কিয়েভের পানি সরবরাহব্যবস্থার জন্য অতিরিক্ত ১০টি বিদ্যুৎ উৎপাদনযন্ত্র সরবরাহের উদ্যোগ নেয়। পাশাপাশি দেশের অন্যান্য অঞ্চলে আরও ২১টি বিদ্যুৎ উৎপাদনযন্ত্র পাঠানোর পরিকল্পনার কথা জানানো হয়। এসব যন্ত্র বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের সময় জরুরি পানি সরবরাহ কার্যক্রম চালু রাখতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউক্রেনের সামনে আসন্ন শীত মৌসুমে বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র, উপকেন্দ্র ও সরবরাহব্যবস্থায় বারবার হামলা হলে পানি, তাপ এবং গণপরিবহনসহ একাধিক নাগরিক সেবা একসঙ্গে বিপর্যস্ত হতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় পানি সরবরাহ বন্ধ থাকলে হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়বে।

কিয়েভের সাম্প্রতিক ঘটনা আবারও দেখিয়ে দিয়েছে, আধুনিক যুদ্ধে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ওপর হামলার প্রভাব শুধু যুদ্ধক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ থাকে না। এর সবচেয়ে বড় চাপ গিয়ে পড়ে সাধারণ মানুষের জীবনে। রাজধানীর বাসিন্দাদের এখন নতুন করে পানি ও জরুরি প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংরক্ষণের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সামনে শীত যত ঘনিয়ে আসবে, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহব্যবস্থার স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা ইউক্রেনের জন্য তত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

ট্যাগ: িয়েভইউক্রেনরাশিয়াপানি সংকটরুশ হামলাবিদ্যুৎ বিপর্যয়যুদ্ধআন্তর্জাতিক সংবাদ

প্রতিবেদক

CSB News USA

মন্তব্য ০

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।