শ্রমিকদের চিকিৎসায় বড় উদ্যোগ, গাজীপুরে হচ্ছে শত শয্যার বিশেষায়িত হাসপাতাল
পোশাকশ্রমিকদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে গাজীপুরের টঙ্গীতে বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী, নিহত শ্রমিকের পরিবারকেও দেওয়া হয়েছে আর্থিক সহায়তা।
গাজীপুরের পোশাকশ্রমিকদের উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ১০০ শয্যার বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসুরক্ষা ও জরুরি চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য করার লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শ্রমিক আন্দোলনে নিহত তৌফিক শেখের পরিবারকে প্রাথমিকভাবে এক লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দিয়েছে সরকার। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) রাতে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে শ্রম পরিস্থিতি পর্যালোচনায় অনুষ্ঠিত ত্রিপক্ষীয় সভা শেষে এসব তথ্য জানান শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর গাজীপুরের টঙ্গীতে শ্রমিকদের জন্য ১০০ শয্যার বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে প্রক্রিয়াগত কাজ শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে। হাসপাতালটি চালু হলে গাজীপুরের পোশাকশ্রমিকসহ শিল্পাঞ্চলের শ্রমজীবী মানুষের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ বাড়বে। তবে হাসপাতাল নির্মাণের ব্যয়, নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার সময় এবং চিকিৎসাসেবা চালুর নির্দিষ্ট তারিখ এখনো জানানো হয়নি।
এদিকে শ্রমিক আন্দোলনে নিহত তৌফিক শেখের পরিবারের সদস্যদের হাতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় শ্রম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে এক লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, পরিবারকে ন্যায়বিচারের বিষয়ে আশ্বস্ত করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রমাণ যাচাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সভায় শ্রমিকদের মজুরি ও চলমান শ্রম পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়। মন্ত্রী জানান, শ্রমিকদের নতুন নিম্নতম মজুরি নির্ধারণের জন্য মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে সরকারি প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়েছে। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবিগুলো আলোচনার মাধ্যমে বিবেচনা করা হবে বলেও জানান তিনি।
শ্রমিকদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, কোনো ধরনের উসকানিতে কান না দিয়ে নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরে যেতে হবে। দাবি আদায়ের জন্য শ্রমিক সংগঠনের মাধ্যমে অথবা লিখিতভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে বন্ধ থাকা কারখানাগুলো খুলে দিয়ে উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে মালিকপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানান।
সভায় নির্দোষ শ্রমিকদের গ্রেপ্তার ও হয়রানির অভিযোগ নিয়েও আলোচনা হয়। মন্ত্রী জানান, কোনো নিরীহ শ্রমিক অন্যায়ভাবে আটক হয়ে থাকলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। তবে অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গাজীপুরে শ্রমিকদের জন্য বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের অনুমোদন, নিহত শ্রমিকের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা এবং শ্রমিকদের মজুরি ও নিরাপত্তার বিষয়গুলো নিয়ে সরকারের উদ্যোগ শ্রম পরিস্থিতিতে নতুন গুরুত্ব তৈরি করেছে। এখন শ্রমিকদের প্রত্যাশা, হাসপাতাল নির্মাণের কাজ দ্রুত শুরু হবে এবং নিহত তৌফিক শেখের পরিবার হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার পাবে।






মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।