সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
নিজের গাড়ি দুর্ঘটনায় চাপা, তবু অন্যদের উদ্ধারে ছুটলেন বিমানবন্দরের নিরাপত্তাকর্মীডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফিরবেন শেখ হাসিনা, মৃত্যুর ঝুঁকি থাকলেও সিদ্ধান্তে অনড়জামায়াত আমিরের সাড়া মেলেনি, শিবিরকর্মীকে চাকরি দিলেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমবড়দিনে হাজারো শিশুর মুখে হাসি ফোটাতে বিশেষ উদ্যোগ, আবেদন নেওয়া শুরু ক্যালিফোর্নিয়ায়মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে, চাপে ট্রাম্প প্রশাসন

শেখ হাসিনার আমলে বেড়েছিল পোশাকশ্রমিকের মজুরি, এখন ৩০ হাজারের দাবিতে উত্তাল বাংলাদেশ

মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন, সংঘর্ষে এক শ্রমিকের মৃত্যু এবং নতুন মজুরি বোর্ড ঘিরে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পে বাড়ছে আলোচনা।

পোশাকশ্রমিকদের ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে আন্দোলন।
পোশাকশ্রমিকদের ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে আন্দোলন।

বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে চলমান আন্দোলন নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আন্দোলন, কারখানায় উৎপাদন বন্ধ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ এবং গাজীপুরে এক শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় দেশের শ্রমিক অধিকার ও কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির ইতিহাস সামনে এনে একটি রাজনৈতিক মতামতধর্মী নিবন্ধ প্রকাশ করেছে দ্য টাইমস অব ইসরায়েল।

৫ নভেম্বর ২০২৬ প্রকাশিত ‘Sheikh Hasina Raised Wages. Kakistocrats Raise Batons’ শিরোনামের নিবন্ধটির লেখক আবু ওবায়দা আরিন। তিনি নিজেকে রাজনৈতিক চিন্তাবিদ ও সন্ত্রাসবাদবিষয়ক বিশ্লেষক হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। নিবন্ধে শেখ হাসিনার সরকারের শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির উদ্যোগের প্রশংসা করা হয়েছে। একই সঙ্গে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে শ্রমিক আন্দোলন মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকার সমালোচনা করা হয়েছে।

তবে এটি দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের সংবাদ প্রতিবেদন নয়; লেখকের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক মূল্যায়ন। নিবন্ধের শিরোনামে ব্যবহৃত ‘কাকিস্টোক্র্যাটস’ শব্দটি অযোগ্য ব্যক্তিদের শাসন বোঝাতে নেতিবাচক অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে।

গাজীপুরে শ্রমিকের মৃত্যু

চলমান আন্দোলনের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা গাজীপুরের পোশাকশ্রমিক তৌফিক শেখের মৃত্যু। তিনি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ ছায়ঘরিয়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। গাজীপুরের একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন।

২ নভেম্বর গাজীপুরের বাহাদুরপুর এলাকায় একটি কারখানার সামনে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় মোবাইল ফোনে পরিস্থিতির ভিডিও ধারণ করছিলেন তৌফিক। একপর্যায়ে কয়েকজন ব্যক্তি তাঁকে মারধর করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকার উত্তরার শিন শিন জাপান হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩ নভেম্বর সকালে তাঁর মৃত্যু হয়। পরে তাঁর মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।

তৌফিকের বয়স নিয়ে সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে অমিল রয়েছে। কয়েকটি সংবাদমাধ্যম তাঁকে ৩৫ বছর বয়সী বলেছে। অন্যদিকে, টাইমস অব ইসরায়েলের নিবন্ধে তাঁর বয়স ২১ বছর উল্লেখ করা হয়েছে। তাই বয়সের বিষয়টি নিয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া প্রয়োজন।

শ্রমিকদের দাবি ৩০ হাজার টাকা

বর্তমানে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পে শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মাসিক মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা। ২০২৩ সালে এই মজুরি নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য, বাসাভাড়া, যাতায়াত, চিকিৎসা ও সন্তানদের শিক্ষার খরচ বেড়ে যাওয়ায় এই বেতনে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে বলে শ্রমিকদের অভিযোগ।

এ কারণে তাঁরা ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবি জানাচ্ছেন। তাঁদের বক্তব্য, দীর্ঘ সময় কাজ করেও বর্তমান বেতনে পরিবারের মৌলিক চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না।

আন্দোলনের সময় গাজীপুরসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকেরা সড়কে অবস্থান নেন। এতে গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। কয়েকটি এলাকায় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড ও রাবার বুলেট ব্যবহার করে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

শেখ হাসিনার শাসনামলে কতবার বেড়েছিল মজুরি?

টাইমস অব ইসরায়েলের নিবন্ধে শেখ হাসিনার ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত শাসনামলে পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে।

নিবন্ধে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ সালে শেখ হাসিনা সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ছিল ১ হাজার ৬৬২ টাকা ৫০ পয়সা।

পরবর্তী সময়ে কয়েক ধাপে মজুরি বৃদ্ধি পায়।

২০১০ সালে ন্যূনতম মজুরি হয় ৩ হাজার টাকা।

২০১৩ সালে তা বেড়ে হয় ৫ হাজার ৩০০ টাকা।

২০১৮ সালে নির্ধারণ করা হয় ৮ হাজার টাকা।

২০২৩ সালে সর্বশেষ তা বাড়িয়ে করা হয় ১২ হাজার ৫০০ টাকা।

অর্থাৎ শেখ হাসিনার শাসনামলে পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি কয়েক ধাপে বৃদ্ধি পেয়েছিল। তবে শুধু মজুরি বৃদ্ধির পরিমাণ দিয়ে শ্রমিকদের প্রকৃত জীবনযাত্রার মান বিচার করা যায় না। মূল্যস্ফীতি, কর্মঘণ্টা, বাড়িভাড়া, কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও বিবেচনায় নিতে হয়।

রানা প্লাজার পর শ্রম আইন ও কারখানার নিরাপত্তা

২০১৩ সালের রানা প্লাজা ধস বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের কর্মপরিবেশ ও নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করে। ওই ঘটনার পর শ্রম আইন সংশোধন, ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের সুযোগ বৃদ্ধি এবং কারখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

টাইমস অব ইসরায়েলের নিবন্ধে শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন গঠন এবং কারখানায় নিরাপত্তা কমিটি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

তবে পোশাকশিল্পে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে সমস্যার পুরোপুরি সমাধান হয়নি। মজুরি, চাকরির নিশ্চয়তা, কর্মপরিবেশ এবং শ্রমিকদের সংগঠিত হওয়ার অধিকার নিয়ে বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন হয়েছে।

নতুন মজুরি বোর্ড গঠন 

চলমান আন্দোলনের মধ্যে পোশাকশ্রমিকদের জন্য নতুন ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ৪ নভেম্বর বোর্ডের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

নতুন মজুরি কাঠামো ১ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর করার বিষয়ে সম্মতির কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ডিসেম্বরের বর্ধিত বেতন জানুয়ারি ২০২৭ সালে দেওয়ার কথা রয়েছে।

তবে শ্রমিকদের জন্য নতুন ন্যূনতম বেতন কত নির্ধারণ করা হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। শ্রমিক প্রতিনিধিরা ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবি জানালেও মালিকপক্ষের প্রস্তাব ও বোর্ডের সুপারিশের ভিত্তিতে বিষয়টি নির্ধারিত হবে।

আন্দোলনে দেশের অর্থনীতির ওপর প্রভাব

বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পে প্রায় ৪০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান রয়েছে। এই শিল্প দেশের রপ্তানি আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে শ্রমিক অসন্তোষ চলতে থাকলে উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, শ্রমিক আন্দোলনের কারণে শত শত কারখানায় উৎপাদন বন্ধ বা বিঘ্নিত হয়েছে। বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, সড়ক অবরোধ এবং কারখানায় হামলার ঘটনাও ঘটেছে।

আন্তর্জাতিক পোশাক ক্রেতারাও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। কারণ সময়মতো পণ্য সরবরাহ করতে না পারলে বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অন্যদিকে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত না করলেও শিল্পের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

শেখ হাসিনার শাসনামলে পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির ইতিহাস এবং বর্তমান আন্দোলনের পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে শ্রমিকদের প্রত্যাশা পূরণ, কারখানার উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা এবং কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার, মালিকপক্ষ ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের মধ্যে কার্যকর সমঝোতা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

ট্যাগ: বাংলাদেশশেখ হাসিনাপোশাকশ্রমিকশ্রমিক আন্দোলনমজুরি বৃদ্ধি

প্রতিবেদক

Abu Obaidha Arin

Reporter

মন্তব্য ০

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।