অংশ: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ২০২৬
ভোটের দিনও আদালতে ধাক্কা খেল ট্রাম্প প্রশাসন, আটকে গেল ভোট নিয়ে সিদ্ধান্ত
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের দিনও ভোট নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কয়েকটি উদ্যোগ আটকে দিয়েছেন আদালত। নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহ থাকা ভোটারদের ব্যালট নিয়ে তৈরি হয়েছে আইনি বিরোধ।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের দিনও আদালতে বড় বাধার মুখে পড়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। ভোটারদের নাগরিকত্ব যাচাই এবং সন্দেহভাজন ভোটারদের ব্যালট আলাদা রাখার বিষয়ে সরকারের কয়েকটি উদ্যোগ আটকে দিয়েছেন দেশটির আদালত।
৩ নভেম্বর মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই নির্বাচনের আগে ও ভোটের দিন ট্রাম্প প্রশাসন বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের ভোটার তালিকা ও ভোট গণনা নিয়ে একাধিক পদক্ষেপ নেয়। প্রশাসনের দাবি, কিছু অমার্কিন নাগরিক ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছেন এবং তাঁদের ভোট দেওয়ার সুযোগ বন্ধ করা প্রয়োজন।
তবে আদালতে এসব উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ওয়াশিংটনের একটি ফেডারেল আদালত ট্রাম্প প্রশাসনের বিচার বিভাগ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এমন তালিকা বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনী কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো থেকে সাময়িকভাবে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের ভোট আলাদা রাখা কিংবা নাগরিকত্ব প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের ভোট গণনা বন্ধ রাখার দাবিও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।বিচারক তানিয়া চুটকান বলেছেন, প্রশাসনের তৈরি করা ভোটার তালিকার তথ্য নির্ভরযোগ্য না-ও হতে পারে। এতে বৈধ মার্কিন নাগরিকদের ভোট দেওয়ার অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ক্যালিফোর্নিয়ার ২০ হাজারের বেশি ভোটারকে নিয়েও ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আদালতের বিরোধ তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, এসব ভোটারের মধ্যে এমন ব্যক্তি থাকতে পারেন, যাঁরা মার্কিন নাগরিক নন। তাই তাঁদের পাঠানো ডাকযোগে ভোটের ব্যালট আলাদা করে রাখার আবেদন জানায় বিচার বিভাগ। কিন্তু ক্যালিফোর্নিয়ার একটি ফেডারেল আদালত সেই আবেদন প্রত্যাখ্যান করেন। পরে দেশটির সুপ্রিম কোর্টও প্রশাসনের আবেদন গ্রহণ করেননি। ফলে সন্দেহের ভিত্তিতে ওই ভোটারদের ব্যালট আটকে রাখার বিষয়ে প্রশাসন আদালতের অনুমতি পায়নি।
এ ছাড়া নির্বাচনী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকি দেওয়ার বিষয়েও আদালতে আইনি বিরোধ তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, নির্বাচনে শুধু যোগ্য মার্কিন নাগরিকদের ভোট নিশ্চিত করতেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে ভোটাধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, ভুল তথ্যের ভিত্তিতে নির্দোষ ও বৈধ ভোটারদের ভোট দেওয়ার অধিকার কেড়ে নেওয়া হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের আইনে অমার্কিন নাগরিকদের ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দেওয়া নিষিদ্ধ। তবে বিভিন্ন তদন্ত ও আদালতের পর্যবেক্ষণে এ ধরনের ঘটনা খুবই বিরল বলে উঠে এসেছে। নির্বাচনের আগে একাধিক আদালতের সিদ্ধান্ত ট্রাম্প প্রশাসনের ভোটসংক্রান্ত পরিকল্পনাকে বাধাগ্রস্ত করেছে। তবে সব মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনো হয়নি।
এই বিরোধের মূল বিষয় হলো, নির্বাচনে কে ভোট দিতে পারবেন, ভোটারদের নাগরিকত্ব কীভাবে যাচাই করা হবে এবং ভোট পরিচালনায় কেন্দ্রীয় সরকারের কতটুকু ক্ষমতা থাকবে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী, নির্বাচন পরিচালনার প্রধান দায়িত্ব অঙ্গরাজ্যগুলোর। মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যখন রাজনৈতিক লড়াই চলছে, তখন ভোটারদের অধিকার ও নির্বাচনে সরকারের ভূমিকা নিয়ে আদালতের এসব সিদ্ধান্ত নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ভোটযন্ত্রে সমস্যা, কয়েকটি এলাকায় ভোট গণনায় দেরি

গুয়ামের গভর্নর নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী এগিয়ে, অভিনন্দন জানালেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে রেকর্ড ব্যয়, ইলন মাস্কের অনুদান ৪৭ কোটি ডলার ছাড়াল



মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।