সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
যুক্তরাষ্ট্রের ১৭ বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তরে বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ, বাংলাদেশিদের জন্য নতুন সম্ভাবনাযুক্তরাষ্ট্রে ৮২৯ শ্রমিকের বকেয়া মজুরি আদায়, ফেরত পাচ্ছেন ছয় লাখ ডলারের বেশিযুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপের নিয়ম নিয়ে মামলা, অনিশ্চয়তায় কাজের অভিজ্ঞতাইরান যুদ্ধের ব্যয় ৪৭.১ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল, বাড়ছে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক চাপজাপানে টয়োটার অত্যাধুনিক কারখানা ঘুরে দেখলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সঙ্গে ছিলেন জুবাইদা

অস্ট্রেলিয়ায় মাটির নিচে মিলল এক কেজির বেশি সোনা, দাম প্রায় কোটি টাকা

অস্ট্রেলিয়ার দুর্গম এলাকায় মাটি খুঁড়ে এক শৌখিন অনুসন্ধানকারী পেয়েছেন এক কেজির বেশি ওজনের সোনার খণ্ড, যার মূল্য কোটি টাকার কাছাকাছি।

অস্ট্রেলিয়ায় মাটির নিচে মিলল এক কেজির বেশি সোনা, দাম প্রায় কোটি টাকা
অস্ট্রেলিয়ায় মাটির নিচে মিলল এক কেজির বেশি সোনা, দাম প্রায় কোটি টাকা

অস্ট্রেলিয়ার দুর্গম অঞ্চলে মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা এক বিশাল সোনার খণ্ড খুঁজে পেয়েছেন এক শৌখিন অনুসন্ধানকারী। কয়েক দিন ধরে মাটি খুঁড়ে পুরোনো পেরেক, ঘোড়ার খুরের লোহার অংশ ও ব্যবহৃত গুলির মতো মূল্যহীন ধাতব বস্তু পাওয়ার পর শেষ পর্যন্ত তাঁর ভাগ্যে ধরা দেয় মূল্যবান এই সম্পদ। খণ্ডটির মোট ওজন ১ হাজার ২১৮ গ্রাম। পরীক্ষা করে দেখা গেছে, এর মধ্যে প্রায় ৯৪০ গ্রাম সোনা রয়েছে। বর্তমান বাজারদরে এর মূল্য আনুমানিক দেড় লাখ থেকে এক লাখ ৬০ হাজার অস্ট্রেলীয় ডলার। ব্যক্তিগত সংগ্রাহকের কাছে বিক্রি করা হলে দাম দুই লাখ অস্ট্রেলীয় ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যমের ২৬ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই বিরল আবিষ্কারের খবর জানানো হয়। দেশটির নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে টিবুবুরা এলাকার কাছে মাউন্ট স্টুয়ার্ট নামের একটি খামার এলাকায় সোনার খণ্ডটি পাওয়া যায়। আবিষ্কারক ব্যক্তি নিজের পরিচয় প্রকাশ করতে চাননি। তিনি দীর্ঘদিন ধরে শখের বশে মাটির নিচে সোনা অনুসন্ধান করে আসছেন। বহুবার অনুসন্ধান করেও মূল্যবান কিছু না পাওয়ার অভিজ্ঞতা থাকায় এবারও প্রথমে তিনি বড় কোনো সম্পদ পাওয়ার আশা করেননি।

অনুসন্ধানকারী তাঁর পাওয়া সোনার খণ্ডটির নাম দিয়েছেন ‘টিবুবুরা স্পাড’। আলুর মতো অনিয়মিত আকৃতির এই খণ্ডে সোনার পাশাপাশি কোয়ার্টজ পাথরও রয়েছে। সে কারণে এর মোট ওজনের পুরোটাই বিশুদ্ধ সোনা নয়। পরীক্ষায় পাওয়া সোনার পরিমাণের ভিত্তিতে এর সম্ভাব্য বাজারমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে খণ্ডটির স্বাভাবিক গঠন, আকার ও বিরলতার কারণে সংগ্রাহকদের কাছে এর আলাদা আকর্ষণ থাকতে পারে।

ঘটনাটি আরও বিস্ময়কর, কারণ অনুসন্ধানকারী প্রায় এটি এড়িয়ে যাচ্ছিলেন। অক্টোবরের মাঝামাঝি এক দিন অনুসন্ধানের কাজ শেষ করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। এমন সময় তাঁর ধাতু শনাক্তকারী যন্ত্র মাটির নিচে কোনো ধাতব বস্তুর উপস্থিতির সংকেত দেয়। প্রথম দিকে সংকেতটি খুব জোরালো ছিল না। কিন্তু প্রায় ১০০ মিলিমিটার মাটি সরানোর পর যন্ত্রটি আরও জোরে সংকেত দিতে শুরু করে। মাটির ভেতরে একপর্যায়ে তিনি ছোট্ট একটি উজ্জ্বল হলুদ বিন্দু দেখতে পান।

সেখান থেকেই শুরু হয় তাঁর জীবনের অন্যতম স্মরণীয় আবিষ্কার। মাটি সরিয়ে বস্তুটি হাতে তুলে নেওয়ার পরও প্রথম মুহূর্তে তিনি নিশ্চিত হতে পারেননি, এটি আসল সোনা কি না। এত বড় কোনো সোনার খণ্ড পাওয়া তাঁর কাছেও ছিল অবিশ্বাস্য। তিনি আশঙ্কা করেছিলেন, এটি হয়তো সোনার রং করা কোনো পাথর। কিন্তু পরে পরীক্ষা করে যখন এর মধ্যে বিপুল পরিমাণ সোনার উপস্থিতি নিশ্চিত হয়, তখন আবিষ্কারটির গুরুত্ব স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

দীর্ঘদিন ধরে অনুসন্ধান করতে গিয়ে তিনি সাধারণত যেসব বস্তু পেতেন, তার বেশির ভাগেরই আর্থিক মূল্য ছিল সামান্য। পুরোনো পেরেক, সিসার গুলি, ঘোড়ার খুরের লোহার টুকরা এবং বিভিন্ন ধরনের ধাতব আবর্জনা ছিল তাঁর পরিচিত প্রাপ্তি। এসব বস্তু খুঁজে পাওয়ার পর সেগুলো সরিয়ে আবার নতুন করে অনুসন্ধান শুরু করতে হতো। এ কারণে ছোট্ট হলুদ বিন্দুটি প্রথম দেখেই যে বড় সম্পদের সন্ধান মিলেছে, তা বোঝা সহজ ছিল না।

সোনার খণ্ডটির মূল্য নির্ধারণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এতে প্রকৃত সোনার পরিমাণ। মোট ১ হাজার ২১৮ গ্রামের মধ্যে প্রায় ৯৪০ গ্রাম সোনা রয়েছে। অর্থাৎ বাকি অংশে কোয়ার্টজ পাথরসহ অন্যান্য উপাদান রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম ওঠানামা করায় এর মূল্যও পরিবর্তিত হতে পারে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বর্তমান বাজারদরের ভিত্তিতে এর দাম দেড় লাখ থেকে এক লাখ ৬০ হাজার অস্ট্রেলীয় ডলার বলা হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় বিনিময় হার অনুযায়ী এর মূল্য আনুমানিক এক কোটি ২০ লাখ থেকে এক কোটি ৩০ লাখ টাকার কাছাকাছি হতে পারে। প্রকৃত অঙ্ক নির্ভর করবে লেনদেনের দিনের বিনিময় হারের ওপর।

তবে শুধু সোনার ওজন দিয়ে এই খণ্ডটির চূড়ান্ত বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। প্রাকৃতিকভাবে তৈরি বড় সোনার খণ্ড সংগ্রাহকদের কাছে বিশেষ মূল্য পেতে পারে। এর আকৃতি, গঠন, বিশুদ্ধতা, বিরলতা এবং আবিষ্কারের ইতিহাস ক্রেতার আগ্রহ বাড়াতে পারে। অনুসন্ধানকারীর ধারণা, ব্যক্তিগত সংগ্রাহকের কাছে এটি বিক্রি করা গেলে দাম দুই লাখ অস্ট্রেলীয় ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে। তবে এই দামে বিক্রি সম্পন্ন হয়েছে—এমন তথ্য প্রকাশিত প্রতিবেদনে নেই। তাই সম্ভাব্য মূল্য ও বাস্তবে পাওয়া অর্থকে এক করে দেখার সুযোগ নেই।

অস্ট্রেলিয়ার এই অঞ্চলে সোনা অনুসন্ধানের ইতিহাসও বেশ পুরোনো। টিবুবুরা এলাকায় উনিশ শতকের শেষভাগ, বিশেষ করে ১৮৮০-এর দশকের শেষ দিক থেকেই সোনা অনুসন্ধান মানুষের আগ্রহের বিষয় হয়ে ওঠে। বর্তমানে এলাকাটিতে শৌখিন অনুসন্ধানকারীদের পাশাপাশি পর্যটকেরাও সোনা খোঁজার অভিজ্ঞতা নিতে আগ্রহী হন। তবে সব জায়গায় ইচ্ছেমতো খনন করার অনুমতি নেই। টিবুবুরা কমন নামে পরিচিত শহরসংলগ্ন এলাকায় ভূমির অধিকারসংক্রান্ত অনুমতি ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর স্বত্বের বিষয় বিবেচনায় রেখে অনুসন্ধান কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে মাউন্ট স্টুয়ার্ট ও গামভেল নামের অন্তত দুটি খামার এলাকায় নির্ধারিত অর্থের বিনিময়ে অনুসন্ধানের সুযোগ রয়েছে।

স্থানীয় অনুসন্ধান সরঞ্জাম বিক্রেতা গ্রেগ স্প্যাংলার সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে এই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থেকেও তিনি এক কেজির বেশি ওজনের সোনার খণ্ড পাওয়ার ঘটনা খুব কম দেখেছেন। সাধারণত অনুসন্ধানকারীরা ছোট সোনার দানা, পাতলা সোনার টুকরা কিংবা কয়েক আউন্স ওজনের ছোট খণ্ড খুঁজে পান। সে তুলনায় এক কেজির বেশি ওজনের একটি খণ্ড পাওয়া অত্যন্ত বিরল ঘটনা। তাঁর মতে, সোনার দাম বেড়ে যাওয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের শখের অনুসন্ধানের প্রতি মানুষের আগ্রহও বেড়েছে।

সোনা অনুসন্ধান অবশ্য শুধু ভাগ্যের ওপর নির্ভর করে না। উপযুক্ত যন্ত্র ব্যবহার, এলাকার ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে ধারণা, ধৈর্য এবং নিয়মিত অনুসন্ধান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবু বহুবার খোঁজ করেও মূল্যবান কিছু না পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এ কারণে বড় সোনার খণ্ড পাওয়ার ঘটনাকে সাধারণ বা নিশ্চিত আয়ের পথ হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।

দুর্গম এলাকায় এ ধরনের অনুসন্ধানে নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। আবহাওয়া, পানির স্বল্পতা, দীর্ঘ দূরত্ব এবং যোগাযোগের সীমাবদ্ধতা অনুসন্ধানকারীদের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি, সংরক্ষিত এলাকা ও স্থানীয় ভূমি ব্যবহারের নিয়ম মেনে চলা প্রয়োজন। অনুমতি ছাড়া খনন করলে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে।

সব মিলিয়ে, মাটির নিচে ছোট্ট একটি হলুদ বিন্দু থেকে শুরু হওয়া অনুসন্ধান শেষ পর্যন্ত বিরল এক সোনার খণ্ডের সন্ধান দিয়েছে। আবিষ্কারটি যেমন অনুসন্ধানকারীর জন্য বড় বিস্ময়, তেমনি অস্ট্রেলিয়ার ঐতিহাসিক সোনাসন্ধান অঞ্চলের প্রতি নতুন করে মানুষের আগ্রহ তৈরি করতে পারে। তবে খণ্ডটির সম্ভাব্য মূল্য নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি মনে রাখা জরুরি, দুই লাখ অস্ট্রেলীয় ডলারের অঙ্কটি সম্ভাব্য সংগ্রাহক মূল্য; নিশ্চিত বিক্রয়মূল্য নয়।


ট্যাগ: অস্ট্রেলিয়ায় সোনাসোনার খণ্ডবিরল আবিষ্কারসোনা অনুসন্ধানটিবুবুরানিউ সাউথ ওয়েলসমূল্যবান ধাতুআন্তর্জাতিক সংবাদসোনার বাজারদরশৌখিন অনুসন্ধানকার

প্রতিবেদক

Desk Report

Reporter

মন্তব্য ০

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।