আমেরিকায় পড়াশোনা শেষে চাকরি পেতে ৭০ হাজার ডলারের ফি প্রস্তাব, চাপে বিদেশি শিক্ষার্থীরা
যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা শেষে কাজের প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ নিয়ে নতুন ফি আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বাড়তে পারে উচ্চশিক্ষার আর্থিক চাপ।
যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা শেষে চাকরির অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ নিয়ে নতুন নীতিগত প্রস্তাব দিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। প্রস্তাব অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ঐচ্ছিক ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ বা অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং (ওপিটি) কর্মসূচিতে প্রথমবার অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে ৭০ হাজার ডলার এবং পরবর্তী প্রশিক্ষণের জন্য ৩০ হাজার ডলারের ফি নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। প্রস্তাবটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ জানিয়েছে, অভিবাসন ব্যবস্থায় জালিয়াতি প্রতিরোধ, প্রশিক্ষণ কর্মসূচির স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং মার্কিন কর্মীদের স্বার্থ রক্ষার উদ্দেশ্যে এই পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে এটি এখনো প্রস্তাবিত নিয়ম; চূড়ান্তভাবে কার্যকর হয়েছে বলে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
ওপিটি হলো এমন একটি কর্মসূচি, যার মাধ্যমে এফ-১ শিক্ষার্থী ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করা যোগ্য বিদেশি শিক্ষার্থীরা তাঁদের পড়াশোনার সঙ্গে সম্পর্কিত কাজে ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পান। সাধারণত ডিগ্রি শেষ করার পরও নির্দিষ্ট সময়ের জন্য এই সুযোগ পাওয়া যায়। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত বিষয়ে নির্দিষ্ট ডিগ্রিধারীরা শর্ত পূরণ করলে অতিরিক্ত সময়ের জন্যও প্রশিক্ষণের সুযোগ পেতে পারেন।
বাংলাদেশের অনেক শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা নেওয়ার পর সেখানে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন এবং ভবিষ্যতে পেশাগত ক্যারিয়ার গড়ার পরিকল্পনা করেন। এ কারণে ওপিটি কর্মসূচির নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব তাঁদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রস্তাবিত ফি বাস্তবে কার ওপর কীভাবে প্রযোজ্য হবে, তা চূড়ান্ত বিধির ভাষার ওপর নির্ভর করবে।
আইওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষাবিষয়ক দপ্তরের ২২ অক্টোবর পর্যন্ত হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে প্রথমবার কোনো শিক্ষার্থীর ওপিটি সুপারিশ করার আগে ৭০ হাজার ডলার এবং পরবর্তী সুপারিশের জন্য ৩০ হাজার ডলার দিতে হতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়টির তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবটি তখনো চূড়ান্ত হয়নি। ফলে ফি সরাসরি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেই নেওয়া হবে—এমন সিদ্ধান্ত এখনই দেওয়া যায় না। <Cite refs={["turn894820search5"]}/>
এই প্রস্তাব কার্যকর হলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন আর্থিক ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মুখে পড়তে পারে। প্রতিষ্ঠানগুলো অতিরিক্ত ব্যয় কীভাবে সামলাবে, তা ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বাড়তি অর্থ নেবে, ভর্তি কমাবে বা প্রশিক্ষণের সুযোগ বন্ধ করবে—এমন কোনো ফলাফল এখনই নিশ্চিত নয়।
যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে যাওয়ার পরিকল্পনা করা বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য বিষয়টি আরও একটি কারণে গুরুত্বপূর্ণ। বিদেশে উচ্চশিক্ষার ব্যয় হিসাব করার সময় শুধু টিউশন ফি ও আবাসন নয়, পড়াশোনা শেষে কাজের সুযোগ, প্রশিক্ষণের যোগ্যতা এবং সংশ্লিষ্ট অভিবাসন নিয়মও বিবেচনায় রাখতে হয়। প্রস্তাবটি চূড়ান্ত হলে শিক্ষার্থী, বিশ্ববিদ্যালয় ও নিয়োগদাতাদের দায়িত্ব কী হবে, তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রস্তাবটির পক্ষে যুক্তি দেওয়া হয়েছে যে এর মাধ্যমে প্রশিক্ষণ কর্মসূচির অপব্যবহার কমানো এবং যুক্তরাষ্ট্রের কর্মীদের স্বার্থ রক্ষা করা সম্ভব হবে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চ ব্যয়ের নতুন বাধা তৈরি হলে যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার আকর্ষণ কমতে পারে বলে উদ্বেগ রয়েছে। উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বিদেশি শিক্ষার্থীরা অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসংখ্যা, গবেষণা ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখেন।
এখন প্রস্তাবটির ওপর জনমত গ্রহণ, সংশ্লিষ্ট পক্ষের মতামত পর্যালোচনা এবং চূড়ান্ত নিয়ম প্রকাশের প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত শিক্ষার্থী ও তাঁদের পরিবারকে পুরোনো নিয়মের সঙ্গে প্রস্তাবিত পরিবর্তনের পার্থক্য বুঝে পরিকল্পনা করতে হবে।
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আপাতত সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো, ৭০ হাজার ডলারের ফি কার্যকর হয়ে গেছে—এমন ধারণা নিয়ে সিদ্ধান্ত না নেওয়া। যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা শেষে কাজের পরিকল্পনা থাকলে নিজ নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী দপ্তরের নির্দেশনা এবং মার্কিন সরকারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা অনুসরণ করা উচিত।





