সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
জাপানে টয়োটার অত্যাধুনিক কারখানা ঘুরে দেখলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সঙ্গে ছিলেন জুবাইদানিউইয়র্কে ৩৪ লাখ ডলারের মেডিকেইড জালিয়াতি, স্বামীর ১৮ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, স্ত্রীর ছয় মাসইরান উত্তেজনার মধ্যেই পেন্টাগনের শীর্ষ সামরিক পরিকল্পনাকারী ব্রেট সিলভিয়াকে সরালেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথবাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনা, ব্যবসায়িক বাধা দূর করতে রাষ্ট্রদূতের জোরালো আহ্বানকংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের জয় হলে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে শুরু হতে পারে চার বড় তদন্ত

অংশ: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ২০২৬

মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে থাকবে না এফবিআই ও আইসের কর্মীরা, জানাল বিচার বিভাগ

এবার যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে এফবিআই ও আইসের কর্মীরা পর্যবেক্ষক থাকবেন না। তবে অন্য ফেডারেল সংস্থার কর্মীরা ভোট পর্যবেক্ষণ করবেন।

যুক্তরাষ্ট্রে ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণের দৃশ্য।
যুক্তরাষ্ট্রে ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণের দৃশ্য।

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র পর্যবেক্ষণের দায়িত্বে ফেডারেল তদন্ত সংস্থা এফবিআই এবং অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইসের কর্মীরা থাকবেন না বলে জানিয়েছে দেশটির বিচার বিভাগ। বুধবার রাতে আদালতে জমা দেওয়া নথিতে সরকারের এই অবস্থান তুলে ধরা হয়। বৃহস্পতিবার রয়টার্সের প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিষয়টি জানানো হয়েছে। আসন্ন নির্বাচনে ফেডারেল সরকারের ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক ও আইনি আলোচনা চলার মধ্যেই এই সিদ্ধান্তের কথা সামনে এসেছে।

বিচার বিভাগের এই বক্তব্য এমন একটি মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত, যা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অধিকার সংগঠন এনএএসিপি করেছে। সংগঠনটি ভোটাধিকার রক্ষা এবং বর্ণবৈষম্যবিরোধী কার্যক্রমের জন্য পরিচিত। মামলায় সংগঠনটি নির্বাচনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্মীদের পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগের পরিকল্পনা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে। তাদের আশঙ্কা, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্মীদের উপস্থিতি কিছু ভোটারের মধ্যে ভয় তৈরি করতে পারে এবং ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

আদালতে জমা দেওয়া নথিতে বিচার বিভাগ জানিয়েছে, এফবিআই ও আইসের কর্মীরা মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন না। তবে এর অর্থ এই নয় যে নির্বাচনে কোনো ফেডারেল পর্যবেক্ষক থাকবেন না। বিচার বিভাগের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ফেডারেল কারাগার ব্যুরো, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ প্রশাসন এবং অ্যালকোহল, তামাক, আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরক নিয়ন্ত্রণ ব্যুরোর কর্মীরা পর্যবেক্ষণের দায়িত্বে থাকবেন।

সরকারের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এসব পর্যবেক্ষকের কাজ হবে ভোটকেন্দ্রের কার্যক্রম দেখা এবং প্রয়োজনীয় তথ্য নথিবদ্ধ করা। তাঁরা আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তা হিসেবে সেখানে কাজ করবেন না। আদালতে জমা দেওয়া নথিতে আরও বলা হয়েছে, পর্যবেক্ষকেরা অস্ত্র বহন করতে পারবেন না। ভোট গ্রহণে হস্তক্ষেপ না করা এবং অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় নির্বাচনী নিয়ম মেনে চলার বিষয়ে তাঁদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রে ভোটারদের অধিকার ও নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে চলমান বিতর্ককে নতুন করে সামনে এনেছে। এনএএসিপির অভিযোগ, ভোটকেন্দ্রে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্মীদের উপস্থিতি ভোটারদের মধ্যে এমন ধারণা তৈরি করতে পারে যে তাঁদের পরিচয় বা যোগ্যতা নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। বিশেষ করে অভিবাসী পরিবার এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কিছু ভোটার এ ধরনের উপস্থিতিতে উদ্বিগ্ন হতে পারেন বলে সংগঠনটি আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। তবে এসব আশঙ্কা সংগঠনটির বক্তব্য; এগুলোকে আদালতে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

ট্রাম্প প্রশাসন অন্যদিকে নির্বাচনের নিরাপত্তা ও ভোটার তালিকার নির্ভুলতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের ভোটার নিবন্ধনের তথ্য সংগ্রহ এবং নির্বাচনী ব্যবস্থার তদারকি নিয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগের উদ্দেশ্য হিসেবে নির্বাচনের নির্ভরযোগ্যতা রক্ষার কথা বলা হয়েছে। তবে ভোটাধিকার সংগঠন ও কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের কর্মকর্তারা প্রশ্ন তুলেছেন, ফেডারেল সরকারের এই তৎপরতা ভোটারদের মধ্যে অযথা উদ্বেগ সৃষ্টি করতে পারে কি না।

যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচনের সময় ভোটকেন্দ্রে পর্যবেক্ষক পাঠানোর ব্যবস্থা নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরেই বিচার বিভাগের নাগরিক অধিকার বিভাগ ভোটাধিকারসংক্রান্ত ফেডারেল আইন মানা হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করে আসছে। তবে কোন সংস্থার কর্মীরা কীভাবে এই দায়িত্ব পালন করবেন, তাঁদের ক্ষমতা কতটুকু থাকবে এবং ভোটারদের সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগের সীমা কোথায়—এসব বিষয় আইন ও প্রশাসনিক নির্দেশনার ওপর নির্ভর করে।

এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ। এই নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে ভোটারদের সিদ্ধান্ত বড় ভূমিকা রাখবে। নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা, নাগরিকত্ব যাচাই, ব্যালট গণনা এবং ফেডারেল সরকারের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন আইনি বিরোধ দেখা দিয়েছে। ফলে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও পর্যবেক্ষণ নিয়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক অঙ্গনে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভোটারদের ভয়মুক্ত পরিবেশে ভোট দেওয়ার অধিকার কীভাবে রক্ষা করা হবে। পর্যবেক্ষকেরা যদি নির্ধারিত নিয়ম মেনে কাজ করেন, তাহলে তাঁদের উপস্থিতি নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহে সহায়তা করতে পারে। অন্যদিকে, তাঁদের উপস্থিতি যদি ভোটারদের মধ্যে ভীতি বা বিভ্রান্তি তৈরি করে, তাহলে ভোট গ্রহণের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের এই ঘোষণা মধ্যবর্তী নির্বাচনে ফেডারেল পর্যবেক্ষকদের ভূমিকা নিয়ে চলমান বিতর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এফবিআই ও আইসের কর্মীরা পর্যবেক্ষক হিসেবে থাকবেন না বলে জানানো হলেও অন্য কয়েকটি ফেডারেল সংস্থার কর্মীরা এই দায়িত্ব পালন করবেন। আগামী নির্বাচনে পর্যবেক্ষকেরা কীভাবে কাজ করেন এবং ভোটারদের অধিকার ও নির্বাচনের স্বচ্ছতা কতটা নিশ্চিত হয়, তা পরিস্থিতির পরবর্তী অগ্রগতি থেকে বোঝা যাবে।

ট্যাগ: যুক্তরাষ্ট্রেরনির্বাচনমধ্যবর্তীনির্বাচনভোটাধিকারভোটকেন্দ্রযুক্তরাষ্ট্রেরখবর

প্রতিবেদক

Mukti Dipita

INTERNATIONAL BROADCAST JOURNALIST

মন্তব্য ০

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।