ইরান উত্তেজনার মধ্যেই পেন্টাগনের শীর্ষ সামরিক পরিকল্পনাকারী ব্রেট সিলভিয়াকে সরালেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ
পেন্টাগনের সামরিক কৌশল ও পরিকল্পনাবিষয়ক পরিচালক ব্রেট সিলভিয়াকে পদ থেকে সরানো হয়েছে। তবে সিদ্ধান্তের আনুষ্ঠানিক কারণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক পরিকল্পনাবিষয়ক পদ থেকে লেফটেন্যান্ট জেনারেল ব্রেট সিলভিয়াকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের নেতৃত্বাধীন প্রতিরক্ষা দপ্তরে উচ্চপর্যায়ের সামরিক কর্মকর্তাদের পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় এই ঘটনা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ২০২৬ সালের ২৮ ও ২৯ অক্টোবর প্রকাশিত সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিলভিয়া যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ প্রধানদের দপ্তরে কৌশল, পরিকল্পনা ও নীতিবিষয়ক পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছিলেন। তবে তাঁকে সরানোর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে প্রতিরক্ষা দপ্তরের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা প্রকাশিত হয়নি।
সিলভিয়ার দায়িত্ব ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পরিকল্পনা প্রণয়ন, বিভিন্ন অঞ্চলে সম্ভাব্য অভিযানের মূল্যায়ন এবং প্রতিরক্ষা নীতির সঙ্গে সামরিক কার্যক্রমের সমন্বয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা। সামরিক পরিভাষায় তাঁর পদটি ‘জে-ফাইভ’ নামে পরিচিত। এই পদে থাকা কর্মকর্তা সামরিক বাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বকে কৌশলগত পরামর্শ দেন এবং দীর্ঘমেয়াদি সামরিক পরিকল্পনা তৈরিতে অংশ নেন। ফলে তাঁর অপসারণ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক নেতৃত্ব ও নীতিনির্ধারণের ধারাবাহিকতা নিয়ে আলোচনা তৈরি করেছে।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংবেদনশীল সামরিক কর্মীসংক্রান্ত বিষয় হওয়ায় পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে একজন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা সিলভিয়াকে সরানোর তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হিসেবে তাৎক্ষণিকভাবে কারও নাম ঘোষণা করা হয়নি। যৌথ প্রধানদের দপ্তরের পক্ষ থেকে সিলভিয়া ও তাঁর পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে এবং তাঁর সামরিক সেবার স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রকাশিত বক্তব্যে তাঁকে সরানোর পেছনে নির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি।
সিলভিয়ার সামরিক জীবন তিন দশকেরও বেশি সময়ের। তিনি ১৯৯৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক একাডেমি থেকে স্নাতক হন। পরে ইরাক ও আফগানিস্তানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সামরিক দায়িত্ব পালন করেন। তিনি মার্কিন সেনাবাহিনীর ১০১তম আকাশপথে অভিযান পরিচালনাকারী ডিভিশনের অধিনায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৫ সালের মে পর্যন্ত তিনি ওই ডিভিশনের নেতৃত্বে ছিলেন বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তাঁর কর্মজীবনে একাধিক সামরিক সম্মাননা যুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ব্রোঞ্জ স্টার পদক এবং পার্পল হার্ট পদক রয়েছে। দীর্ঘ সামরিক অভিজ্ঞতা ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের কারণে সিলভিয়ার অপসারণকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা নেতৃত্বের সাম্প্রতিক পরিবর্তনের একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে তাঁর অপসারণের ফলে সামরিক পরিকল্পনায় কী ধরনের পরিবর্তন আসবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
সিলভিয়াকে সরানোর সময়টি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও কূটনৈতিক পরিস্থিতির কারণে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য নতুন সামরিক পদক্ষেপ, মার্কিন বাহিনীর প্রস্তুতি এবং ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা প্রতিক্রিয়া নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পেন্টাগনের গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনাবিষয়ক পদে পরিবর্তন সামরিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
তবে সিলভিয়ার অপসারণের সঙ্গে ইরানে সম্ভাব্য হামলার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে—এমন কোনো নিশ্চিত প্রমাণ প্রকাশিত হয়নি। একইভাবে, তাঁকে ইরান নীতি নিয়ে মতবিরোধের কারণে সরানো হয়েছে বলেও নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। কোনো কর্মকর্তার অপসারণের কারণ নির্ধারণ করতে হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অথবা নির্ভরযোগ্য সূত্রে প্রকাশিত সুস্পষ্ট তথ্য প্রয়োজন।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পরিকল্পনা প্রণয়নের ক্ষেত্রে যৌথ প্রধানদের দপ্তর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই দপ্তর বিভিন্ন সামরিক শাখার মধ্যে সমন্বয় সাধন করে এবং জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে শীর্ষ নেতৃত্বকে সহায়তা দেয়। ফলে কৌশল ও পরিকল্পনাবিষয়ক পরিচালকের পদে পরিবর্তনের পর নতুন কর্মকর্তা নিয়োগ এবং বিদ্যমান পরিকল্পনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। উত্তরসূরির নাম প্রকাশ না হওয়ায় পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপ সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
হেগসেথের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরে উচ্চপর্যায়ের সামরিক কর্মকর্তাদের কাঠামো ও দায়িত্ব পুনর্বিন্যাস নিয়েও আলোচনা চলছে। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি জ্যেষ্ঠ জেনারেল ও অ্যাডমিরালের পদসংখ্যা কমানোর পরিকল্পনার কথা বলেছেন। এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য হিসেবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জবাবদিহি ও সাংগঠনিক পরিবর্তনের বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। অন্যদিকে, সমালোচকদের আশঙ্কা, অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের দ্রুত সরিয়ে দিলে সামরিক বাহিনীর প্রাতিষ্ঠানিক অভিজ্ঞতা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
তবে সিলভিয়ার অপসারণকে ওই পদসংখ্যা কমানোর পরিকল্পনার সরাসরি ফল হিসেবে বিবেচনা করার মতো নিশ্চিত তথ্যও প্রকাশিত হয়নি। তাঁর ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তটি কী প্রক্রিয়ায় নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা না আসা পর্যন্ত এ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয়।
ব্রেট সিলভিয়াকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পরিকল্পনাবিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে সরানোর ঘটনা পেন্টাগনের নেতৃত্বে পরিবর্তনের নতুন অধ্যায়। ইরানকে ঘিরে আঞ্চলিক উত্তেজনার সময়ে এই সিদ্ধান্তের তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা বাড়লেও এর প্রকৃত কারণ এখনো অজানা। নতুন উত্তরসূরি নিয়োগ, প্রতিরক্ষা দপ্তরের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এবং ভবিষ্যৎ সামরিক পরিকল্পনায় এর প্রভাব সম্পর্কে আরও নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়ার পরই বিষয়টির পূর্ণ মূল্যায়ন সম্ভব হবে।






মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।