নিউইয়র্কে ৩৪ লাখ ডলারের মেডিকেইড জালিয়াতি, স্বামীর ১৮ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, স্ত্রীর ছয় মাস
ভুয়া চিকিৎসা পরিবহনের বিল দেখিয়ে মেডিকেইডের ৩৪ লাখ ডলারের বেশি অর্থ আত্মসাতের দায় স্বীকার করেছেন নিউইয়র্কের এক দম্পতি। আদালতে স্বামীর সর্বোচ্চ ১৮ বছর কারাদণ্ড এবং স্ত্রীর ছয় মাসের সাজা হয়েছে।
সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি মেডিকেইডের অর্থ জালিয়াতির মামলায় দোষ স্বীকারের পর কারাদণ্ড পেয়েছেন এক দম্পতি। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের অরেঞ্জ কাউন্টির নিউ উইন্ডসর এলাকার এই মামলায় স্বামী রোহাইল রাজাকে ছয় থেকে ১৮ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাঁর স্ত্রী শর্মা আলমকে ছয় মাসের কারাদণ্ডের পাশাপাশি পাঁচ বছরের প্রবেশন দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলাটির কেন্দ্রে রয়েছে দুটি চিকিৎসা পরিবহন কোম্পানি। অভিযোগ অনুযায়ী, কোম্পানি দুটি মেডিকেইডের আওতাভুক্ত রোগীদের চিকিৎসাকেন্দ্রে যাতায়াতের জন্য পরিবহনসেবা দেওয়ার দাবি করে বিল জমা দিত। কিন্তু তদন্তে এমন কিছু বিলের অসংগতি পাওয়া যায়, যেগুলোতে দাবি করা সেবার পক্ষে পর্যাপ্ত নথিপত্র ছিল না।
কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে কোম্পানি দুটি ভুয়া বা অনিয়মিত বিলের মাধ্যমে মোট ৩৪ লাখ ৩৪ হাজার ৭৩০ ডলার অতিরিক্ত অর্থ পেয়েছে বলে মামলায় উঠে এসেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই অর্থের পরিমাণ বিনিময় হার অনুযায়ী কয়েক দশকোটি টাকা।
তদন্তে উঠে আসা অভিযোগগুলোর মধ্যে ছিল রোগীদের চিকিৎসা অ্যাপয়েন্টমেন্টের তথ্যের সঙ্গে পরিবহন বিলের অসামঞ্জস্য। কিছু ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসাকেন্দ্রের নথিতে রোগীদের নির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্টের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে দাবি করা পরিবহনসেবা বাস্তবে দেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
এ ছাড়া, একাধিক রোগীকে একই গাড়িতে একসঙ্গে পরিবহন করা হলেও পৃথক যাত্রা হিসেবে বিল জমা দেওয়ার অভিযোগও তদন্তে উঠে আসে। এ ধরনের পদ্ধতিতে একই পরিবহনসেবার জন্য একাধিকবার অর্থ দাবি করা হয়ে থাকলে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা তহবিলের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি হয়।
মামলায় স্বামী-স্ত্রী দুজনই অভিযোগ স্বীকার করেছেন। তবে তাঁদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে কোন কোন অভিযোগে দোষ স্বীকার করা হয়েছে, কোম্পানি দুটির মালিকানা ও পরিচালনায় তাঁদের পৃথক ভূমিকা কী ছিল এবং সাজা নির্ধারণে আদালত কোন কোন বিষয় বিবেচনা করেছেন—এসব তথ্য মূল আদালতের নথি থেকে আলাদাভাবে যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।
সাজা ঘোষণার সময় দম্পতি ৪ লাখ ডলার ফেরত দিয়েছেন বলে প্রকাশিত তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। বাকি ৩০ লাখ ৩৪ হাজার ৭৩০ ডলার ফেরত দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাথমিকভাবে ফেরত দেওয়া অর্থের পরও বড় অঙ্কের অর্থ পুনরুদ্ধার বাকি রয়েছে।
অরেঞ্জ কাউন্টির জেলা অ্যাটর্নির কার্যালয় মামলাটিকে তাদের কার্যালয়ে বিচারের মুখোমুখি হওয়া সবচেয়ে বড় মেডিকেইড জালিয়াতির মামলা হিসেবে বর্ণনা করেছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
মেডিকেইড যুক্তরাষ্ট্রের একটি সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি, যা নির্দিষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন স্বল্প আয়ের ব্যক্তি ও পরিবারসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের চিকিৎসা ব্যয়ে সহায়তা করে। কর্মসূচিটির আওতায় যোগ্য রোগীদের চিকিৎসাকেন্দ্রে যাতায়াতের জন্য নির্দিষ্ট শর্তে পরিবহনসেবার ব্যয়ও বহন করা হতে পারে। এ ধরনের সেবার বিল যাচাইয়ের ক্ষেত্রে রোগীর তথ্য, যাত্রার বিবরণ, চিকিৎসাকেন্দ্রের নথি এবং সেবা প্রদানকারীর হিসাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সরকারি স্বাস্থ্যসেবা তহবিলের অর্থ অনিয়মের মাধ্যমে নেওয়া হলে তার প্রভাব শুধু সরকারি বাজেটেই সীমাবদ্ধ থাকে না; প্রকৃত যোগ্য রোগীদের জন্য বরাদ্দ করা অর্থের সুষ্ঠু ব্যবহারও প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। তাই পরিবহনসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিল, যাত্রার নথি এবং অর্থ পরিশোধের প্রক্রিয়া যাচাই করা জরুরি।
নিউইয়র্কের এই মামলাটি স্বাস্থ্যসেবা খাতে সরকারি অর্থ ব্যবহারের স্বচ্ছতা এবং বিল যাচাইয়ের গুরুত্ব আবারও সামনে এনেছে। তবে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সব চিকিৎসা পরিবহন প্রতিষ্ঠান বা মেডিকেইড সুবিধাভোগীকে সন্দেহের চোখে দেখা ঠিক হবে না। মামলায় যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বা যাঁরা দোষ স্বীকার করেছেন, তাঁদের নির্দিষ্ট ভূমিকা ও আদালতের রায়ের ভিত্তিতেই ঘটনাটি মূল্যায়ন করা উচিত।






মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।