সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রে ওবামা-ট্রাম্পের সমাবেশ ঘিরে জনসমাগমের তুলনা নিয়ে তুমুল আলোচনাইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চাপ বৃদ্ধি, ইউরেনিয়াম নিয়ে অনড় তেহরান, নতুন সংঘাতের আশঙ্কা তীব্রতর হচ্ছেট্রাম্পের শক্তিপ্রদর্শনের বিপরীতে তালারিকোর জনজোয়ার, টেক্সাসের সিনেট লড়াইয়ে বাড়ছে নাটকীয় উত্তেজনাপ্রথম প্রান্তিকেই রাজস্ব ঘাটতি প্রায় ৪২ হাজার কোটি টাকা, চাপে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডটেক্সাসের সিনেট ভোটে মাস্কের ১৫৮ মিলিয়ন ডলার, রিপাবলিকানদের জয়ের লড়াইয়ে নতুন বিতর্ক

অংশ: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ২০২৬

ট্রাম্পের শক্তিপ্রদর্শনের বিপরীতে তালারিকোর জনজোয়ার, টেক্সাসের সিনেট লড়াইয়ে বাড়ছে নাটকীয় উত্তেজনা

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে সিনেট নির্বাচন ঘিরে রিপাবলিকান কেন প্যাক্সটন ও ডেমোক্র্যাট জেমস তালারিকোর পৃথক সমাবেশে বিপুল জনসমাগম, জরিপে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত।

ট্রাম্পের শক্তিপ্রদর্শনের বিপরীতে তালারিকোর জনজোয়ার, টেক্সাসের সিনেট লড়াইয়ে বাড়ছে নাটকীয় উত্তেজনা
ট্রাম্পের শক্তিপ্রদর্শনের বিপরীতে তালারিকোর জনজোয়ার, টেক্সাসের সিনেট লড়াইয়ে বাড়ছে নাটকীয় উত্তেজনা

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের লুবক শহরে আসন্ন সিনেট নির্বাচনকে সামনে রেখে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট শিবিরের পাল্টাপাল্টি নির্বাচনী সমাবেশ ঘিরে ব্যাপক রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। গত ২৭ অক্টোবর মঙ্গলবার রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটনের সমর্থনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় লুবক মেমোরিয়াল সিভিক সেন্টারে। অন্যদিকে, একই শহরের ফিয়েস্তা সেন্টারে নির্বাচনী প্রচার চালান ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস তালারিকো। দুই সমাবেশের দূরত্ব ছিল প্রায় চার মাইল। জনমত জরিপে তালারিকো সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় ঐতিহ্যগতভাবে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই অঞ্চলের নির্বাচনী পরিস্থিতি জাতীয় রাজনীতিতেও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের সমাবেশে অংশ নিতে সমর্থকদের একটি অংশ সোমবার রাত থেকেই সিভিক সেন্টারের বাইরে অপেক্ষা করতে শুরু করেন। মঙ্গলবার সকাল হওয়ার আগেই সেখানে লাল টুপিপরা সমর্থকদের ভিড় জমতে থাকে। দিন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সমাবেশস্থলে আরও মানুষ উপস্থিত হন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেসিবিডির প্রতিবেদনে প্রাথমিক হিসাবের ভিত্তিতে সিভিক সেন্টারের বাইরে প্রায় ১৫ হাজার মানুষের উপস্থিতির কথা উল্লেখ করা হয়। তবে এই সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা চূড়ান্ত উপস্থিতির হিসাব নয়। সমাবেশের ভেতরে পাঁচ হাজারের কিছু বেশি মানুষ প্রবেশ করতে পেরেছিলেন বলে ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়।

অন্যদিকে, তালারিকোর নির্বাচনী সমাবেশেও উল্লেখযোগ্য জনসমাগম দেখা যায়। তাঁর প্রচারশিবিরের একজন মুখপাত্রের বরাত দিয়ে টেক্সাস ট্রিবিউন জানিয়েছে, অনুষ্ঠানে অংশ নিতে চার হাজারের বেশি মানুষ নিবন্ধন করেছিলেন। চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় আয়োজকেরা স্থান পরিবর্তন করে বড় পরিসরে সমাবেশের ব্যবস্থা করেন। ফিয়েস্তা সেন্টারের বাইরে দীর্ঘ সারি তৈরি হয় এবং ভেতরে জায়গা না পেয়ে অনেকে বাইরে অবস্থান করেন। তবে নিবন্ধনকারীর সংখ্যা এবং বাস্তবে উপস্থিত মানুষের সংখ্যা এক নয়—এই পার্থক্যটি বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।

লুবক পশ্চিম টেক্সাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর। দীর্ঘদিন ধরে অঞ্চলটি রিপাবলিকানদের নির্বাচনী শক্তির অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্প টেক্সাসে উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন। ফলে এমন একটি এলাকায় ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর সমাবেশে বড় জনসমাগম হওয়াকে তাঁর প্রচারশিবির আশাব্যঞ্জক হিসেবে দেখছে। তবে একটি সমাবেশে মানুষের উপস্থিতি দিয়ে পুরো অঙ্গরাজ্যের ভোটের ফল নির্ধারণ করা যায় না। ভোটারদের প্রকৃত পছন্দ, আগাম ভোটের প্রবণতা, নির্বাচনে অংশগ্রহণের হার এবং শহর ও গ্রামাঞ্চলে সমর্থনের পার্থক্য চূড়ান্ত ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এই নির্বাচনে ট্রাম্পের ভূমিকা বিশেষভাবে আলোচিত হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট প্যাক্সটনের পক্ষে প্রচারে অংশ নিয়ে রিপাবলিকান ভোটারদের দলীয় প্রার্থীদের সমর্থন করার আহ্বান জানান। তিনি তালারিকোর রাজনৈতিক অবস্থান ও নীতির সমালোচনা করেন। বিশেষ করে অস্ত্র রাখার সাংবিধানিক অধিকার, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং জ্বালানি নীতি নিয়ে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে আক্রমণ করেন। ট্রাম্পের বক্তব্যের মূল লক্ষ্য ছিল রিপাবলিকান সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত করা এবং প্যাক্সটনের পক্ষে সমর্থন আরও জোরালো করা।

প্যাক্সটনও সমাবেশে সমর্থকদের নির্বাচনে সক্রিয় থাকার আহ্বান জানান। টেক্সাসের মতো রিপাবলিকান-প্রধান অঙ্গরাজ্যে দলীয় ভোটারদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা তাঁর প্রচারের অন্যতম লক্ষ্য। তাঁর শিবির মনে করছে, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ও দলীয় সমর্থকদের সংগঠিত করার ক্ষমতা নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা এনে দিতে পারে। তবে প্যাক্সটনের রাজনৈতিক জীবনে বিভিন্ন বিতর্ক ও আইনি জটিলতা রয়েছে, যা বিরোধী পক্ষ নির্বাচনী প্রচারে তুলে ধরছে। এসব বিষয় রিপাবলিকান দলের কিছু ভোটারের সিদ্ধান্তেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।

অন্যদিকে, তালারিকো তাঁর প্রচারে জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, আবাসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য এবং স্বাস্থ্যসেবার খরচকে গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যে সাধারণ কর্মজীবী মানুষের অর্থনৈতিক চাপ এবং ধনী ব্যক্তি ও প্রভাবশালী গোষ্ঠীর রাজনৈতিক প্রভাবের বিষয়টি উঠে এসেছে। তিনি প্যাক্সটনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ব্যবস্থার দুর্বলতা ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ভোটারদের পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এসব বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি শুধু ডেমোক্র্যাট ভোটার নয়, স্বতন্ত্র এবং অসন্তুষ্ট রিপাবলিকান ভোটারদেরও আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছেন।

তবে নির্বাচনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, জনমত জরিপে তালারিকোর সামান্য এগিয়ে থাকা ভোটের ফলেও প্রতিফলিত হবে কি না। রিয়েলক্লিয়ারপলিটিকসের প্রকাশিত জরিপের গড় হিসাবে ৮ থেকে ২১ অক্টোবরের মধ্যে তালারিকো পেয়েছেন ৪৮ দশমিক ৫ শতাংশ সমর্থন, আর প্যাক্সটনের সমর্থন ছিল ৪৬ দশমিক ৭ শতাংশ। অর্থাৎ ব্যবধান ১ দশমিক ৮ শতাংশ পয়েন্ট। অন্য কয়েকটি জরিপে তালারিকো এগিয়ে থাকলেও কিছু জরিপে দুই প্রার্থীকে সমান অবস্থানে দেখা গেছে। সিবিএস নিউজের ১৮ অক্টোবর প্রকাশিত জরিপেও প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে কার্যত সমানে সমান বলা হয়েছিল। এসব তথ্য থেকে বোঝা যায়, প্রতিযোগিতা অত্যন্ত কাছাকাছি এবং ফলাফল এখনো অনিশ্চিত।

জরিপের ফলকে চূড়ান্ত পূর্বাভাস হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মতামত, নমুনার আকার, জরিপ পরিচালনার পদ্ধতি এবং ভোটার উপস্থিতির অনুমানের কারণে ফলাফলে পার্থক্য হতে পারে। টেক্সাসে অতীতের নির্বাচনে রিপাবলিকানদের সমর্থন কিছু জরিপে কম হিসাব করা হয়েছিল বলেও বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে তালারিকোর সামান্য ব্যবধানের এগিয়ে থাকা তাঁর জয়ের নিশ্চয়তা দেয় না।

টেক্সাসের এই সিনেট নির্বাচন জাতীয় রাজনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। রিপাবলিকানদের দখলে থাকা আসনটি ধরে রাখতে পারলে দলটি সিনেটে নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রক্ষার লড়াইয়ে সুবিধা পাবে। বিপরীতে, তালারিকো জয়ী হলে কয়েক দশক ধরে ডেমোক্র্যাটদের জন্য কঠিন হিসেবে বিবেচিত টেক্সাসে বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলবে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। তার আগে আগাম ভোট ও শেষ মুহূর্তের প্রচার দুই পক্ষের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

লবুকের দুই সমাবেশ টেক্সাসের নির্বাচনী লড়াইয়ে দুই দলের ভিন্ন কৌশলকে সামনে এনেছে। ট্রাম্প ও প্যাক্সটন যেখানে রক্ষণশীল ভোটারদের ঐক্যবদ্ধ করে ভোটকেন্দ্রে নিয়ে যেতে চাইছেন, সেখানে তালারিকো জীবনযাত্রার ব্যয়, রাজনৈতিক জবাবদিহি এবং পরিবর্তনের বার্তা দিয়ে নতুন ভোটার ও মধ্যপন্থীদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছেন। সমাবেশের ভিড় ও জরিপের বর্তমান চিত্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার তীব্রতা তুলে ধরলেও শেষ পর্যন্ত কে জয়ী হবেন, তা নির্ধারণ করবে ভোটারদের ব্যালট।


ট্যাগ: েক্সাস নির্বাচনকেন প্যাক্সটনজেমস তালারিকোডোনাল্ড ট্রাম্পমার্কিন সিনেট নির্বাচনযুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিনির্বাচনী প্রচারণালুবক সমাবেশরিপাবলিকান দলডেমোক্র্যাট দলজনমত জরিপমধ্যবর্তী নির্বাচন

প্রতিবেদক

Tasfiq Azad

International Broadcast Journalist

মন্তব্য ০

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।