সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
নিউইয়র্কে ৬০০ মোড়ে ক্যামেরার নজরদারি, লালবাতি ভাঙলেই গুনতে হবে ৫০ ডলার জরিমানানাগরিকত্ব ছাড়াই মার্কিন নির্বাচনে ভোট, বাংলাদেশি যুবকের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় আদালতে মামলকম্বোডিয়ায় প্রতারণাবিরোধী অভিযানে নয় মাসে তিন হাজারের বেশি বাংলাদেশি বহিষ্কারবাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে ইউনিক্লোকে আহ্বান তারেক রহমানের, পোশাকশিল্পে নতুন সম্ভাবনানির্বাসনের মুখে অভিবাসীরা, সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তে বাড়ল আইনি অনিশ্চয়তা

স্পেনে ভয়াবহ রেল বিপর্যয়, দুই দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষে প্রাণহানি ৪০ ছাড়াল

স্পেনে দুটি দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষে ৪০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু, আহত বহু যাত্রী। দুর্ঘটনার পর উদ্ধার অভিযান চলছে, কারণ অনুসন্ধানে নেমেছে কর্তৃপক্ষ।

স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনাস্থল, উদ্ধারকাজে নিয়োজিত জরুরি সেবাকর্মীরা।
স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনাস্থল, উদ্ধারকাজে নিয়োজিত জরুরি সেবাকর্মীরা।

স্পেনের মধ্যাঞ্চলে দুটি দ্রুতগতির যাত্রীবাহী ট্রেনের সংঘর্ষে প্রাণহানির সংখ্যা ৪০ ছাড়িয়েছে। বুধবার সকালে দেশটির টলেডো প্রদেশের উরদা এলাকার কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে বহু মানুষ আহত হয়েছেন এবং নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার পর মাদ্রিদ থেকে দক্ষিণাঞ্চলীয় আন্দালুসিয়া পর্যন্ত দ্রুতগতির রেল চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। উদ্ধারকর্মী, দমকল বাহিনী, পুলিশ ও চিকিৎসাকর্মীরা ঘটনাস্থলে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করেন। স্পেনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।

দুর্ঘটনায় স্পেনের রেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান রেনফের একটি দ্রুতগতির ট্রেন এবং ইরিও পরিচালিত আরেকটি যাত্রীবাহী ট্রেন জড়িয়ে পড়ে। দুটি ট্রেনই মাদ্রিদ থেকে সেভিয়া অভিমুখী রেলপথে চলাচল করছিল। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, একটি ট্রেন অন্যটির পেছনে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের অভিঘাতে কয়েকটি বগি লাইনচ্যুত হয় এবং সেগুলোর কিছু অংশ রেললাইনের পাশের ঢাল বেয়ে নিচে নেমে যায়। এতে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় জরুরি সেবাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।

স্পেনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় জড়িত ইরিওর ট্রেনটিতে প্রায় ১৪৭ জন যাত্রী ছিলেন। অন্যদিকে রেনফের দ্রুতগতির ট্রেনে ছিলেন প্রায় ৩৯৭ জন যাত্রী। সব মিলিয়ে দুটি ট্রেনে পাঁচ শতাধিক মানুষ ভ্রমণ করছিলেন। এত বিপুলসংখ্যক যাত্রী দুর্ঘটনার সময় ট্রেন দুটিতে থাকায় উদ্ধারকাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পাশাপাশি নিখোঁজ যাত্রীদের খোঁজ এবং হতাহতদের পরিচয় শনাক্ত করার কাজও চালানো হয়।

স্পেনের টলেডো প্রদেশের উরদা এলাকার কাছাকাছি রেলপথে দুর্ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় প্রশাসন জরুরি সহায়তা কার্যক্রম চালু করে। আহত ও বিপদে পড়া যাত্রীদের অস্থায়ীভাবে আশ্রয় দেওয়ার জন্য স্থানীয় স্থাপনাগুলো প্রস্তুত রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়। দমকল বাহিনী ও অন্যান্য উদ্ধারকারী দল ক্ষতিগ্রস্ত বগিগুলোতে তল্লাশি চালায়। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার জন্য জরুরি চিকিৎসাসেবাও জোরদার করা হয়।

স্পেনের রেল অবকাঠামো পরিচালনাকারী সংস্থা আদিফ দুর্ঘটনার পর মাদ্রিদ ও আন্দালুসিয়ার মধ্যবর্তী দ্রুতগতির রেলপথে চলাচল স্থগিত করার কথা জানায়। এই সিদ্ধান্তের কারণে বহু যাত্রীর যাতায়াত ব্যাহত হয়। বিভিন্ন ট্রেনের যাত্রা বাতিল ও সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়। যেসব যাত্রী আগে থেকে টিকিট কেটেছিলেন, তাঁদের ভ্রমণের আগে রেল কর্তৃপক্ষের নতুন নির্দেশনা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়। রেল চলাচল কখন স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে নিশ্চিত সময় জানানো হয়নি।

দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্পেনের রাজনৈতিক নেতৃত্বও প্রতিক্রিয়া জানায়। দেশটির প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ দুর্ঘটনায় হতাহতদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন এবং জরুরি সেবাকর্মীদের কার্যক্রমের ওপর গুরুত্ব দেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়। আহতদের চিকিৎসা, উদ্ধার কার্যক্রম এবং দুর্ঘটনার কারণ নির্ধারণকে তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

তবে দুর্ঘটনাটি কেন ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। প্রাথমিক প্রতিবেদনে একটি ট্রেন অন্যটির পেছনে ধাক্কা দেওয়ার কথা বলা হলেও, এ ধরনের সংঘর্ষের পেছনে সংকেতব্যবস্থা, ট্রেন চলাচল নিয়ন্ত্রণ, যান্ত্রিক ত্রুটি কিংবা অন্য কোনো কারণ ছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করতে হবে। যথাযথ তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ওপর দায় চাপানো সমীচীন নয়। রেল কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট তদন্তকারীরা দুর্ঘটনার পরিস্থিতি, ট্রেন দুটির চলাচলের তথ্য এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যালোচনা করবেন।

চলতি বছরের জানুয়ারিতেও স্পেনে একটি ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনায় বহু মানুষের প্রাণহানি হয়েছিল। ফলে নতুন এই দুর্ঘটনা দেশটির রেল নিরাপত্তা ও অবকাঠামোর রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে আবারও উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে জানুয়ারির দুর্ঘটনা এবং বুধবারের দুর্ঘটনার কারণ একই কি না, তা এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

স্পেনের এই দুর্ঘটনা দেশটির সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম গুরুতর রেল বিপর্যয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। উদ্ধারকাজ ও হতাহতদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ অব্যাহত থাকায় প্রাণহানি ও আহতের সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং রেল নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো ঘাটতি ছিল কি না, তা তদন্তের ফল প্রকাশের পরই আরও পরিষ্কার হবে।

ট্যাগ: স্পেনট্রেনদুর্ঘটনারেলদুর্ঘটনাবিশ্বসংবাদদুর্ঘটনা

প্রতিবেদক

Desk Report

Reporter

মন্তব্য ০

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।