সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
নিউইয়র্কে ৬০০ মোড়ে ক্যামেরার নজরদারি, লালবাতি ভাঙলেই গুনতে হবে ৫০ ডলার জরিমানানাগরিকত্ব ছাড়াই মার্কিন নির্বাচনে ভোট, বাংলাদেশি যুবকের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় আদালতে মামলকম্বোডিয়ায় প্রতারণাবিরোধী অভিযানে নয় মাসে তিন হাজারের বেশি বাংলাদেশি বহিষ্কারবাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে ইউনিক্লোকে আহ্বান তারেক রহমানের, পোশাকশিল্পে নতুন সম্ভাবনানির্বাসনের মুখে অভিবাসীরা, সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তে বাড়ল আইনি অনিশ্চয়তা

বাংলাদেশের পাঁচ খাতে জাপানি বিনিয়োগ চান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, খুলতে পারে নতুন সম্ভাবনা

জাপানি বিনিয়োগ আনতে পাঁচ খাতে অগ্রাধিকার দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, রপ্তানি, প্রযুক্তি, জ্বালানি ও রেল যোগাযোগে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

টোকিওতে বাংলাদেশ-জাপান ইকোনমিক ফোরামে বক্তব্য রাখছেন তারেক রহমান
টোকিওতে বাংলাদেশ-জাপান ইকোনমিক ফোরামে বক্তব্য রাখছেন তারেক রহমান

টোকিওতে বাংলাদেশ–জাপান অর্থনৈতিক ফোরামে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে জাপানি বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার, ২৮ অক্টোবর জাপানের রাজধানী টোকিওতে জাপান বৈদেশিক বাণিজ্য সংস্থা এবং জাপান–বাংলাদেশ বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা কমিটির যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত সংলাপে মূল বক্তব্য দেন তিনি। বাংলাদেশে গাড়ি উৎপাদন, জ্বালানি, প্রযুক্তি, মহাকাশ গবেষণা, দ্রুতগতির রেল, পণ্য পরিবহন এবং কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বকে বাণিজ্য, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগে রূপান্তরের বিষয়টি বিশেষভাবে উঠে আসে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও জাপানের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন সহযোগিতার ওপর নির্ভরশীল থাকলেও এখন সেই সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে নিয়ে যাওয়ার সময় এসেছে। বাংলাদেশের বিশাল ভোক্তাবাজার, তরুণ জনগোষ্ঠী, দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার সুযোগ এবং ভৌগোলিক অবস্থান বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা তৈরি করেছে। তাঁর মতে, বাংলাদেশে উৎপাদনকেন্দ্র গড়ে তুললে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলো দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে পণ্য সরবরাহের পাশাপাশি অন্যান্য দেশেও রপ্তানির সুযোগ পেতে পারে। এ জন্য বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি এবং ব্যবসায়িক জটিলতা কমানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

আলোচনায় মোটরযান উৎপাদনকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী জানান, চলতি মাসের শুরুতে জাপানের টয়োটা গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠান টয়োটা তুশো বাংলাদেশে যানবাহন উৎপাদনের কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালে কারখানা স্থাপনের কাজ শুরু এবং ২০২৯ সালের মধ্যে পূর্ণমাত্রায় উৎপাদন চালুর লক্ষ্য রয়েছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশে গাড়ি সংযোজন ও উৎপাদনশিল্পের বিকাশ, যন্ত্রাংশ তৈরির সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কারিগরি দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে কারখানার চূড়ান্ত বিনিয়োগের পরিমাণ, উৎপাদনক্ষমতা এবং নির্মাণকাজের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি। ফলে পরিকল্পনাটিকে সম্পন্ন বিনিয়োগ বা ইতিমধ্যে চালু হওয়া কারখানা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

জ্বালানি খাতেও জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণের চেষ্টা করছে বাংলাদেশ সরকার। প্রধানমন্ত্রী তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির অবকাঠামো, গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। বাংলাদেশের শিল্পকারখানা ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম সম্প্রসারণের জন্য নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে জ্বালানি অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে দক্ষতা বাড়ানোর বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পায়। জাপানের জ্বালানি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বাড়লে ভবিষ্যতে নতুন প্রকল্প ও প্রযুক্তিগত সহায়তার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এসব উদ্যোগের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট প্রকল্প, অর্থায়ন ও চুক্তির তথ্য প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত সম্ভাবনাকে নিশ্চিত বিনিয়োগ হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক হবে না।

প্রযুক্তি ও মহাকাশ সহযোগিতাকে ভবিষ্যৎ অর্থনীতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশ–জাপান প্রযুক্তি পার্ক প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মেঘভিত্তিক কম্পিউটিং, রোবোটিকস এবং ইলেকট্রনিক পণ্য উৎপাদনে জাপানি প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। পাশাপাশি মহাকাশবিজ্ঞান, উপগ্রহ প্রকৌশল ও সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিতে জাপানের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পের বিকাশ, গবেষণার সুযোগ এবং তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করতে পারে। তবে প্রযুক্তি পার্কের কাজ শুরু বা নির্দিষ্ট বিনিয়োগ চূড়ান্ত হয়েছে—এমন তথ্য এখনো নিশ্চিত নয়।

যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নেও জাপানের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। দেশের ছয়টি প্রধান বিভাগীয় শহরকে যুক্ত করে দ্রুতগতির উড়াল রেল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি। এ ধরনের বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের চাহিদা যাচাই, সম্ভাব্য রুট নির্ধারণ, কারিগরি সমীক্ষা এবং জাতীয় মহাপরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। রেল ও পণ্য পরিবহনব্যবস্থার উন্নয়ন হলে শিল্পাঞ্চল, বন্দর, শহর এবং উৎপাদনকেন্দ্রগুলোর মধ্যে যোগাযোগ আরও কার্যকর করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এটি বর্তমানে পরিকল্পনা ও সহযোগিতা চাওয়ার পর্যায়ে রয়েছে; পুরো নেটওয়ার্ক নির্মাণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা সময়সূচি ঘোষণা করা হয়নি।

কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও উৎপাদনশিল্পেও জাপানি বিনিয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশে উৎপাদিত কৃষিপণ্যকে প্রক্রিয়াজাত করে মূল্য সংযোজন, সংরক্ষণব্যবস্থা উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে উন্নত প্রযুক্তি, আধুনিক যন্ত্রপাতি এবং দক্ষ জনশক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। প্রধানমন্ত্রী আরাইহাজারের জাপানি অর্থনৈতিক অঞ্চলে কারখানা স্থাপনসহ বিভিন্ন উৎপাদনমুখী উদ্যোগে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় সরবরাহব্যবস্থা ও শিল্পকারখানার বিকাশে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তিকেও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের ৭ হাজার ৩৭৯টি পণ্য জাপানের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশের সুবিধা পাবে। অন্যদিকে ইস্পাত, মোটরযানের যন্ত্রাংশ ও ইলেকট্রনিক উপাদানসহ জাপানি পণ্য বাংলাদেশে অগ্রাধিকারমূলক বাজারসুবিধা পাবে। গত অর্থবছরে বাংলাদেশের জাপানে রপ্তানি ছিল ১৩৬ কোটি মার্কিন ডলার এবং জাপান থেকে আমদানি ছিল ২১৬ কোটি মার্কিন ডলার। এ পরিসংখ্যান দুই দেশের বাণিজ্যে রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ এবং বাণিজ্যিক ভারসাম্য উন্নয়নের গুরুত্ব তুলে ধরে।

বাংলাদেশে প্রায় ৩৫০টি জাপানি প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম পরিচালনা করলেও জাপানের সরাসরি বিনিয়োগের পরিমাণ ৫০ কোটি মার্কিন ডলারের নিচে বলে ফোরামে উল্লেখ করা হয়। এই ব্যবধান কমাতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ানো, নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ, উন্নত অবকাঠামো এবং শুল্ক ও করসংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় পূর্বানুমানযোগ্যতা নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি তরুণদের জাপানি ভাষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়। এতে দুই দেশের শ্রমবাজার ও দক্ষ জনশক্তি উন্নয়নে সহযোগিতা বাড়তে পারে।

২৮ অক্টোবরের অর্থনৈতিক ফোরামে বাংলাদেশের জন্য জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের একটি বিস্তৃত রূপরেখা উঠে এসেছে। গাড়ি উৎপাদন, জ্বালানি, প্রযুক্তি, রেল যোগাযোগ ও কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে প্রস্তাবিত উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে বিনিয়োগের ঘোষণা, পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়িত প্রকল্পের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। তাই পরবর্তী সময়ে চুক্তি, অর্থায়ন, নির্মাণকাজ ও উৎপাদন শুরুর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এলে প্রকৃত অগ্রগতি আরও স্পষ্ট হবে।

ট্যাগ: বাংলাদেশজাপানতারেকরহমানজাপানিবিনিয়োগটয়োটাঅর্থনৈতিকফোরামবাণিজ্য

প্রতিবেদক

Staff Reporter

Reporter

মন্তব্য ০

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।