সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
ক্যালিফোর্নিয়ায় ২০ হাজার ভোট নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের জরুরি আবেদনে বিচারকের প্রশ্ন, বাড়ছে আইনি বিতর্কযুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে স্বচ্ছতা নিশ্চিতে হাজারো পর্যবেক্ষক, নিরাপত্তায় বিশেষ প্রস্তুতিমধ্যপ্রাচ্যের ১৩ দেশে যুক্তরাষ্ট্রের ভ্রমণ সতর্কতা, হুথি হামলার শঙ্কায় বাড়ল নিরাপত্তা তৎপরতাইসরায়েলের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর দল এগিয়ে, সরকার গঠনে এখনো অনিশ্চয়তা কাটেনি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরামিয়ানমারে সহিংসতায় রোহিঙ্গা সংকট গভীর, জাতিসংঘে বাংলাদেশের জরুরি সহায়তা ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনের জোরালো আহ্বান

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৪৭১০ কোটি ডলার ছাড়াল, বাড়ছে অর্থনৈতিক চাপ ও ক্ষতির শঙ্কা

ইরান যুদ্ধের ব্যয় ৪৭১০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সামরিক হিসাব; তবে ক্ষতিগ্রস্ত ঘাঁটি মেরামতের খরচ এতে অন্তর্ভুক্ত নয়।

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৪৭১০ কোটি ডলার ছাড়াল, বাড়ছে অর্থনৈতিক চাপ ও ক্ষতির শঙ্কা
ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৪৭১০ কোটি ডলার ছাড়াল, বাড়ছে অর্থনৈতিক চাপ ও ক্ষতির শঙ্কা

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয় ৪ হাজার ৭১০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। অক্টোবরের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত হিসাব ধরে মার্কিন সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ডের তৈরি নতুন মূল্যায়নে এ তথ্য উঠে এসেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ ২৭ অক্টোবর এই হিসাব প্রকাশ করে। পরদিন রয়টার্সও পৃথক প্রতিবেদনে একই ধরনের তথ্য জানায়। প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধের ব্যয় আগের মূল্যায়নের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি মেরামতের সম্পূর্ণ ব্যয় এতে অন্তর্ভুক্ত না থাকায় প্রকৃত আর্থিক ক্ষতি আরও বেশি হতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধের সবচেয়ে বড় ব্যয়ের খাত হলো ব্যবহৃত গোলাবারুদ, ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য অস্ত্রের মজুত পুনরায় পূরণ করা। এ খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২ হাজার ৯০০ কোটি ডলার। যুদ্ধে হারানো বা ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক সরঞ্জাম প্রতিস্থাপনে প্রয়োজন হবে আরও প্রায় ৬১০ কোটি ডলার। এ ছাড়া সেনাসদস্যদের সহায়তা, সামরিক অভিযান পরিচালনা, পরিবহন, যোগাযোগ এবং অন্যান্য অতিরিক্ত কার্যক্রমে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১ হাজার ১৯০ কোটি ডলার। এসব খাতের হিসাব যোগ করলে মোট ব্যয় প্রায় ৪ হাজার ৭০০ কোটি ডলারে দাঁড়ায়; প্রতিবেদনে প্রকাশিত ৪ হাজার ৭১০ কোটি ডলারের সঙ্গে সামান্য পার্থক্যটি পৃথক হিসাব ও সংখ্যার পূর্ণসংখ্যায় প্রকাশের কারণে হতে পারে।

এই ব্যয়ের হিসাব মার্কিন সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড কংগ্রেসের সংশ্লিষ্ট সদস্যদের কাছে পাঠিয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। তবে পূর্ণাঙ্গ হিসাবটি জনসাধারণের জন্য প্রকাশ করা হয়নি। সিবিএস নিউজ ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বিষয়ে মন্তব্য চাওয়া হলেও প্রতিরক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক জবাব পাওয়া যায়নি। ফলে ব্যয়ের প্রতিটি খাতের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ স্বাধীনভাবে যাচাই করার সুযোগ সীমিত রয়েছে।

নতুন হিসাবটি আগের মূল্যায়নের তুলনায় বড় ধরনের বৃদ্ধি নির্দেশ করছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জুলাই মাসে যুদ্ধের ব্যয় প্রায় ৩ হাজার ৭৫০ কোটি ডলার বলে জানিয়েছিলেন। সেপ্টেম্বরের শুরু পর্যন্ত আরেকটি মূল্যায়নে ব্যয় ৪ হাজার ৩৬০ কোটি ডলারে পৌঁছানোর তথ্য প্রকাশিত হয়েছিল। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, কয়েক মাসের ব্যবধানে সামরিক ব্যয়ের পরিমাণ আরও বেড়েছে। জুলাইয়ের ঘোষিত অঙ্কের তুলনায় বর্তমান ব্যয় এক-চতুর্থাংশেরও বেশি বেশি।

যুদ্ধের ব্যয় বাড়ার অন্যতম কারণ হলো আকাশ প্রতিরক্ষায় ব্যবহৃত দামি প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র এবং আক্রমণে ব্যবহৃত অস্ত্রের মজুত দ্রুত কমে যাওয়া। কোনো ক্ষেপণাস্ত্র বা বোমা ব্যবহার হয়ে গেলে তা প্রতিস্থাপনের জন্য নতুন অস্ত্র তৈরি কিংবা সংগ্রহ করতে হয়। আধুনিক যুদ্ধবিমান, চালকবিহীন আকাশযান এবং অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম হারালে সেগুলোর বিকল্প সংগ্রহেও বিপুল অর্থ প্রয়োজন হয়। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে এসব ব্যয় শুধু বাড়তেই থাকে না, অস্ত্র উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থার ওপরও অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে।

যুক্তরাষ্ট্রের জন্য উদ্বেগের আরেকটি বিষয় হলো মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সামরিক ঘাঁটিগুলোর ক্ষয়ক্ষতি। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও চালকবিহীন আকাশযানের হামলায় কয়েকটি মার্কিন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর আগে প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু নতুন ব্যয়ের হিসাবে এসব ঘাঁটি ও স্থাপনা মেরামতের পূর্ণাঙ্গ অর্থ ধরা হয়নি। ফলে বর্তমানে প্রকাশিত ৪ হাজার ৭১০ কোটি ডলারকে যুদ্ধের সর্বমোট আর্থিক ক্ষতি হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না। ভবিষ্যতে ঘাঁটি পুনর্নির্মাণ, সরঞ্জাম মেরামত, আহত সেনাদের চিকিৎসা এবং দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের খরচ যুক্ত হলে মোট ব্যয় আরও বাড়তে পারে।

যুদ্ধের আর্থিক প্রভাব শুধু প্রতিরক্ষা বাজেটেই সীমাবদ্ধ নেই। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে জ্বালানি সরবরাহ ও নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়তে পারে। এর প্রভাব পরিবহন, উৎপাদন, বিদ্যুৎ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে পড়ার আশঙ্কা থাকে। তবে যুদ্ধের কারণে সাধারণ মার্কিন পরিবারের প্রকৃত অতিরিক্ত ব্যয় কত হয়েছে, তা নির্ধারণ করতে আলাদা অর্থনৈতিক তথ্য ও বিশ্লেষণ প্রয়োজন।

এদিকে যুদ্ধের ব্যয় নিয়ে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের মধ্যেও প্রশ্ন উঠেছে। অতিরিক্ত সামরিক অর্থ বরাদ্দের প্রয়োজন, ব্যয়ের স্বচ্ছতা এবং সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তার আর্থিক পরিণতি নিয়ে আলোচনা চলছে। কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া নতুন অর্থ বরাদ্দের বিষয়টি এগিয়ে নেওয়া কঠিন হতে পারে। প্রশাসনকে তাই যুদ্ধ পরিচালনার প্রয়োজনীয়তা এবং করদাতাদের অর্থ ব্যবহারের যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করতে হবে।

রাজনৈতিক দিক থেকেও সময়টি গুরুত্বপূর্ণ। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এই নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারিত হবে। যুদ্ধের ব্যয়, জ্বালানির দাম এবং জীবনযাত্রার ব্যয় ভোটারদের আলোচনায় প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এসব বিষয় নির্বাচনের ফলাফলে ঠিক কতটা প্রভাব ফেলবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যায় না।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে সমঝোতা না হলে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর আবারও সামরিক অভিযান শুরু করার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে। নতুন করে বড় আকারের সংঘাত শুরু হলে অস্ত্রের ব্যবহার, সামরিক সরঞ্জামের ক্ষয়ক্ষতি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষার ব্যয় আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে নতুন অভিযানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এমন কোনো নিশ্চিত তথ্য এই ব্যয়ের হিসাব থেকে পাওয়া যায় না।

ইরান যুদ্ধের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৪ হাজার ৭১০ কোটি ডলারের সামরিক ব্যয়ের হিসাব দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যয়ের ওপর সংঘাতের বড় চাপ তুলে ধরেছে। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত ঘাঁটির মেরামতসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যয়ের খাত বাদ থাকায় প্রকৃত মূল্য আরও বেশি হতে পারে। যুদ্ধ কত দিন চলবে, অস্ত্রের মজুত পুনরায় পূরণে কত অর্থ লাগবে এবং কংগ্রেস অতিরিক্ত বরাদ্দ অনুমোদন করবে কি না এসব প্রশ্নের উত্তরই শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের মোট আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।


ট্যাগ: ইরান যুদ্ধযুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয়যুদ্ধের অর্থনৈতিক ক্ষতিমার্কিন প্রতিরক্ষা বাজেটডোনাল্ড ট্রাম্পমধ্যপ্রাচ্য সংঘাতক্ষেপণাস্ত্র ব্যয়মার্কিন সামরিক অভিযানবিশ্ব জ্বালানি বাজারযুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিযুদ্ধের ব্যয় বৃদ্ধিআন্তর্জাতিক রাজনীত

প্রতিবেদক

CSB News USA

মন্তব্য ০

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।