অংশ: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ২০২৬
ওয়াশিংটনে অ-নাগরিক ভোটারদের তথ্য প্রকাশে সোমবার সংবাদ সম্মেলন করবে মার্কিন প্রশাসন
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের ভোটার তালিকায় অ-নাগরিকদের উপস্থিতির অভিযোগ নিয়ে সিয়াটলে তথ্য প্রকাশ করবে কেন্দ্রীয় কর্মকর্তারা।
৬,৫৩৬ বার পড়া হয়েছে ৭ মিনিটে পড়ুন
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে ভোটার তালিকায় বিদেশি নাগরিকদের নাম থাকার অভিযোগ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে কেন্দ্রীয় প্রশাসনের নির্বাচনী তৎপরতা, ভোটারদের ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা এবং নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে বিতর্কও জোরালো হচ্ছে। সোমবার সিয়াটলে অনুষ্ঠেয় সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় কর্মকর্তারা এ বিষয়ে তথ্য তুলে ধরবেন বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তবে প্রকাশিত তথ্যের প্রকৃতি, সন্দেহভাজন ব্যক্তির সংখ্যা এবং তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো বেআইনি কর্মকাণ্ডের প্রমাণ রয়েছে কি না, তা সংবাদ সম্মেলনের আগে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
এই বিষয়টির গুরুত্ব শুধু সম্ভাব্য অনিয়ম শনাক্ত করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। একই সঙ্গে যোগ্য ভোটারদের অধিকার রক্ষা, সরকারি তথ্যের নির্ভুলতা নিশ্চিত করা এবং ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার ঠেকানোও এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কোনো ব্যক্তির নাম ভোটার তালিকায় পাওয়া গেলেই তিনি বেআইনিভাবে ভোট দিয়েছেন—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। নিবন্ধনের ভুল, তথ্যের অসামঞ্জস্য, পুরোনো নথি কিংবা পরিচয় যাচাইয়ের সমস্যার কারণে কোনো ব্যক্তির নাম সন্দেহের তালিকায় আসতে পারে। তাই অভিযোগ ও প্রমাণকে আলাদা করে দেখা জরুরি।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ফক্স ১৩ সিয়াটলের ২৬ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিয়াটলের কেন্দ্রীয় আদালত ভবনে স্থানীয় সময় দুপুর দুইটায় সংবাদ সম্মেলন আয়োজনের কথা জানানো হয়েছে। সেখানে কেন্দ্রীয় কৌঁসুলিরা ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের ভোটার তালিকায় অ-নাগরিকদের উপস্থিতি নিয়ে তাঁদের অনুসন্ধানের তথ্য প্রকাশ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তবে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়েছে কি না, সেটিও পরবর্তী মূল্যায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, দেশটির নাগরিক নন—এমন ব্যক্তিরা সাধারণ নির্বাচনে ভোট দিতে পারেন না। তবে ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হওয়া এবং প্রকৃতপক্ষে ভোট দেওয়া দুটি আলাদা বিষয়। আবার ভোটার তালিকায় কারও নাম থাকার অর্থ এই নয় যে তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য দিয়েছেন। অভিযোগ প্রমাণ করতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাগরিকত্বের অবস্থা, নিবন্ধনের সময় দেওয়া তথ্য, ভোট দেওয়ার নথি এবং প্রযোজ্য আইনের বিষয়গুলো পরীক্ষা করতে হয়।
ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের নির্বাচন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেখানে ভোটার তালিকা নিয়মিত পর্যালোচনা করা হয়। অঙ্গরাজ্যটিতে গাড়ি চালানোর অনুমতিপত্রের জন্য আবেদন বা নবায়নের সময় যোগ্য ব্যক্তিদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের ব্যবস্থা রয়েছে। এ ব্যবস্থার সঙ্গে নাগরিকত্ব যাচাইয়ের নিয়ম যুক্ত রয়েছে বলে কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা। নিবন্ধনের তথ্য গাড়ি চালানোর অনুমতিপত্র প্রদানকারী দপ্তর এবং সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের নথির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হতে পারে। তথ্যের মধ্যে অসামঞ্জস্য দেখা দিলে কোনো ব্যক্তির নিবন্ধন সাময়িকভাবে শর্তসাপেক্ষ হতে পারে। সংশ্লিষ্ট পরিচয়পত্রের বৈধতা যাচাই না হওয়া পর্যন্ত তাঁর ভোট গণনা না করার বিধানও রয়েছে বলে অঙ্গরাজ্যের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, স্বয়ংক্রিয় নিবন্ধনব্যবস্থা থাকলেই যে প্রত্যেকটি তথ্য ভুল হবে, তা নয়। আবার কোনো যাচাইব্যবস্থা থাকলেই ভুলের সম্ভাবনা একেবারে শেষ হয়ে যায় না। তথ্যের অসামঞ্জস্য শনাক্ত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির প্রকৃত অবস্থা যাচাই করা প্রয়োজন। কেবল নামের মিল, জন্মতারিখের পার্থক্য কিংবা কোনো তথ্যভান্ডারে অসম্পূর্ণ নথির ভিত্তিতে কাউকে ভোট দেওয়ার অযোগ্য ঘোষণা করলে বৈধ ভোটারও সমস্যায় পড়তে পারেন।
ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের সচিব স্টিভ হবস এর আগে নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং অঙ্গরাজ্যের ভোটারদের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর দপ্তরের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে অঙ্গরাজ্যে অ-নাগরিকদের ভোট দেওয়ার ১৫টি ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। দপ্তরটি বলেছে, ওই সংখ্যা মোট প্রদত্ত ভোটের প্রায় শূন্য দশমিক শূন্য শূন্য শূন্য শূন্য শূন্য ছয় শতাংশ। এই হিসাব অঙ্গরাজ্যটির দীর্ঘ সময়ের নথির ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে; এটি নতুন সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশিত হতে যাওয়া তথ্যের বিকল্প নয়।
এই পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, অঙ্গরাজ্য কর্তৃপক্ষের নথিতে অ-নাগরিকদের ভোট দেওয়ার ঘটনা খুবই বিরল হিসেবে উঠে এসেছে। তবে কোনো অনিয়ম শনাক্ত হলে সেটি যথাযথভাবে তদন্ত করা এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা থেকে ব্যাপক অনিয়মের সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে নির্ভরযোগ্য তথ্য, পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যান এবং স্বাধীন যাচাই থাকা দরকার।
চলমান বিতর্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ভোটারদের ব্যক্তিগত তথ্য কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে দেওয়ার প্রশ্ন। গত কয়েক মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের কাছ থেকে ভোটার নিবন্ধনের বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে। এসব তথ্যের মধ্যে নাম ও ঠিকানার পাশাপাশি জন্মতারিখ, গাড়ি চালানোর অনুমতিপত্রের নম্বর কিংবা সামাজিক নিরাপত্তা নম্বরের অংশবিশেষের মতো সংবেদনশীল তথ্যও থাকতে পারে। ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্য কর্তৃপক্ষ বলেছে, অঙ্গরাজ্যের আইন অনুযায়ী ভোটারদের কিছু ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত এবং সেগুলো প্রকাশের ক্ষেত্রে আইনি সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
গত ২২ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটনের অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর জানায়, একটি কেন্দ্রীয় আদালত অঙ্গরাজ্যের সব নিবন্ধিত ভোটারের অপ্রকাশিত ব্যক্তিগত তথ্য হস্তান্তরের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের করা মামলা খারিজ করেছে। অঙ্গরাজ্যের কর্মকর্তাদের মতে, এই সিদ্ধান্ত ভোটারদের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। তবে ভোটার তালিকায় সম্ভাব্য অনিয়ম যাচাই করার কেন্দ্রীয় প্রচেষ্টা এবং তথ্য হস্তান্তরের আইনি বিরোধ একই বিষয় নয়। কোনো অনিয়মের তদন্ত করা যেতে পারে, কিন্তু সেই তদন্তের জন্য কোন তথ্য চাওয়া হবে এবং তা কীভাবে ব্যবহার করা হবে, সেসব প্রশ্নেরও আইনি উত্তর থাকা প্রয়োজন।
সম্প্রতি ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের সচিব স্টিভ হবস জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ অঙ্গরাজ্যের ভোটারদের পৃথক নথি নিয়ে প্রায় ৬০টি তলবপত্র জারি করেছে। এসব নথি চাওয়ার পেছনে অ-নাগরিকদের ভোটার তালিকায় উপস্থিতি বা ভোট দেওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখার উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলে তিনি ধারণা প্রকাশ করেন। তবে প্রতিটি তলবপত্রের তথ্য, তদন্তের ফলাফল কিংবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রকৃতি সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত এই সংখ্যাকে বেআইনি ভোটের সংখ্যা হিসেবে ব্যাখ্যা করা যাবে না।
জাতীয় পর্যায়েও বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের সেপ্টেম্বরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, কেন্দ্রীয় প্রশাসন অন্তত ৪৭টি অঙ্গরাজ্যের ভোটার তালিকা পর্যালোচনার চেষ্টা করেছে। সরকারি তথ্যভান্ডারের সঙ্গে ভোটারদের তথ্য মিলিয়ে সম্ভাব্য অ-নাগরিকদের শনাক্ত করার এই উদ্যোগে ভুল শনাক্তকরণের ঝুঁকি রয়েছে বলে কিছু কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে বিভিন্ন তথ্যভান্ডারে নাম, জন্মতারিখ বা ঠিকানার অসামঞ্জস্য থাকলে মার্কিন নাগরিকদেরও ভুলভাবে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা হতে পারে।
অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় প্রশাসনের অবস্থান হলো নির্বাচনে কেবল আইনত যোগ্য ব্যক্তিদের ভোট নিশ্চিত করা জরুরি এবং সম্ভাব্য অনিয়ম তদন্তের মাধ্যমে শনাক্ত করতে হবে। এই নীতির সঙ্গে দ্বিমত না করেও তদন্তের পদ্ধতি, তথ্যের নির্ভুলতা এবং নাগরিকদের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তোলা সম্ভব। নির্বাচনব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা বজায় রাখতে অভিযোগের পাশাপাশি যাচাইযোগ্য প্রমাণ প্রকাশ করাও গুরুত্বপূর্ণ।
নির্বাচনের সময় যত এগিয়ে আসছে, ততই এ ধরনের তদন্তের ফলাফল রাজনৈতিক আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এ নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের সব আসন এবং সিনেটের একাংশের জন্য ভোট গ্রহণ হবে। তাই ভোটার নিবন্ধন, ভোট গণনা এবং নির্বাচনী নিরাপত্তা নিয়ে যেকোনো নতুন তথ্য রাজনৈতিক দল, নির্বাচন কর্মকর্তা ও ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।
তবে তদন্তের তথ্য প্রকাশের সময় এবং নির্বাচনের কাছাকাছি সময় হওয়ার কারণে কোনো অভিযোগকে রাজনৈতিক অবস্থানের ভিত্তিতে গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যান না করে প্রমাণের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত হওয়া, তদন্তের মুখোমুখি হওয়া, অভিযোগ গঠন এবং আদালতে অপরাধ প্রমাণিত হওয়া—এগুলো এক নয়। প্রতিটি পর্যায়ের আলাদা আইনি তাৎপর্য রয়েছে।
সিয়াটলের সংবাদ সম্মেলনে তাই কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হবে। কেন্দ্রীয় কর্মকর্তারা ঠিক কতজনের তথ্য শনাক্ত করেছেন? তাঁদের নাগরিকত্ব যাচাইয়ের পদ্ধতি কী? তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের কেউ বাস্তবে ভোট দিয়েছেন কি না? তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগের পক্ষে কী ধরনের নথি রয়েছে? তথ্য যাচাইয়ের সময় ভুল শনাক্তকরণ ঠেকাতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে? এসব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর পাওয়া গেলে সংবাদ সম্মেলনের গুরুত্ব ও ফলাফল আরও ভালোভাবে বোঝা যাবে।
একই সঙ্গে ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের নির্বাচন কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট আদালতের সিদ্ধান্ত বিবেচনায় নেওয়া দরকার। কেন্দ্রীয় প্রশাসনের দেওয়া তথ্যই শেষ কথা নয়; তথ্যের উৎস, যাচাইয়ের পদ্ধতি এবং স্বাধীনভাবে তা পরীক্ষা করার সুযোগ থাকা গুরুত্বপূর্ণ। সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশিত অভিযোগের বিপরীতে অঙ্গরাজ্যের কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে পুরো বিষয়টির আরও ভারসাম্যপূর্ণ চিত্র তৈরি হবে।
আরও পড়ুন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ২০২৬

ভোটারদের গোপন তথ্য চেয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের মামলা খারিজ করলেন নিজ দলের নিয়োগ দেওয়া বিচারক

মিশিগানে রিপাবলিকানদের জেতাতে ট্রাম্পের প্রচার, ভোটারদের দিলেন বিশেষ বার্তা

রেকর্ড ভোটে সার্বিয়ায় বিদায়ের মুখে ভুচিচ, শিক্ষার্থীদের ঐতিহাসিক জয়ে বদলাচ্ছে দেশের রাজনীতি



মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।