তেলের দাম কমায় ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত মার্কিন শেয়ারবাজারে, বিনিয়োগকারীদের মনে ফিরছে স্বস্তি
আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমার পর যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে স্বস্তি ফিরেছে। তবে মূল্যস্ফীতি, যুদ্ধের ঝুঁকি ও সুদের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ এখনো কাটেনি।
জ্বালানি তেলের দাম কমার পর যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষণ দেখা গেছে। তেলের উচ্চমূল্য মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে দিতে পারে এবং ব্যবসা পরিচালনার খরচ বাড়াতে পারে—এমন আশঙ্কায় সাম্প্রতিক সময়ে বিনিয়োগকারীরা উদ্বিগ্ন ছিলেন। তবে তেলের দামে কিছুটা পতন এবং কয়েকটি বড় কোম্পানির ভালো মুনাফার খবরে বাজারে স্বস্তি ফিরে আসে। যদিও এই পরিস্থিতিকে দীর্ঘমেয়াদি ঊর্ধ্বগতির নিশ্চয়তা হিসেবে দেখছেন না বিশ্লেষকেরা।
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সাম্প্রতিক একটি ইতিবাচক লেনদেনের দিনে ডাও জোন্স শিল্প সূচক প্রায় ১ শতাংশ বেড়েছিল। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচকও ০ দশমিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। অন্যদিকে প্রযুক্তিনির্ভর নাসডাক সূচক সামান্য কমে শেষ হয়। অর্থাৎ বাজারের সব অংশে একই ধরনের উন্নতি দেখা যায়নি। তবু প্রধান সূচকগুলোর মধ্যে দুটি ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি তৈরি হয়।
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমে আসা এই পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তেলের দাম বাড়লে পরিবহন, বিমান চলাচল, পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহের খরচ বেড়ে যায়। এসব ব্যয় শেষ পর্যন্ত পণ্য ও সেবার দামে প্রভাব ফেলতে পারে। বিপরীতে তেলের দাম কমলে জ্বালানিনির্ভর অনেক প্রতিষ্ঠানের ব্যয় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়। এতে তাদের মুনাফা ও ভবিষ্যৎ আয় নিয়ে বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা কিছুটা উন্নত হতে পারে।
সাম্প্রতিক বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, তেলের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্টের দাম একপর্যায়ে ব্যারেলপ্রতি ১১২ ডলারের কাছাকাছি ওঠার পর আবার ১০৯ ডলারের নিচে নেমেছিল। ওই সময় বিমান পরিবহন খাতের কিছু প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দামও বেড়েছিল। তবে তেলের দাম একদিন কমলেই জ্বালানি ও পরিবহন খরচ সঙ্গে সঙ্গে কমে যায় না। দীর্ঘ সময় ধরে দাম কম থাকার বিষয়টি অর্থনীতিতে বেশি প্রভাব ফেলতে পারে।
শেয়ারবাজারের গতিপথে কোম্পানিগুলোর মুনাফার খবরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের প্রত্যাশার চেয়ে ভালো আর্থিক ফল বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়িয়েছে। তবে সব কোম্পানির অবস্থা এক নয়। কিছু প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে চাপ থাকায় নাসডাক সূচক অন্য প্রধান সূচকগুলোর মতো বাড়েনি। ফলে সামগ্রিক বাজারের উন্নতি হলেও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্কতা রয়েছে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো বাজারের জন্য বড় ঝুঁকি। সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার খবর এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এর ফলে তেলের দাম আবার বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। তেলের দাম দীর্ঘদিন উঁচু থাকলে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের কাজ আরও কঠিন হতে পারে।
বিনিয়োগকারীদের নজর এখন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের সিদ্ধান্তের দিকে। সুদের হার বেশি থাকলে ব্যবসা ও ব্যক্তিগত ঋণের খরচ বাড়ে, যা বিনিয়োগ এবং ভোক্তাদের ব্যয়ের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি বেশি থাকলে সুদের হার কমানোর সুযোগ সীমিত হয়ে যায়। এ কারণে তেলের দাম, মূল্যস্ফীতির তথ্য এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্ত—সবকিছুই শেয়ারবাজারের পরবর্তী গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
২৬ অক্টোবরের সর্বশেষ আন্তর্জাতিক বাজার প্রতিবেদনে তেলের দাম কিছুটা কমার পাশাপাশি বিশ্ববাজারে শেয়ারদর সামান্য বাড়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের ওই দিনের পূর্ণ লেনদেনের ফল এবং আগের দিনের বাজারের ফল এক নয়। তাই সাম্প্রতিক স্বস্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে স্থায়ী পুনরুদ্ধার হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
তেলের দাম কমা মার্কিন শেয়ারবাজারের জন্য ইতিবাচক সংকেত হলেও সামনে মূল্যস্ফীতি, সুদের হার, কোম্পানির আর্থিক ফল এবং আন্তর্জাতিক সংঘাতের প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ থাকবে। বিনিয়োগকারীরা এখন এসব পরিস্থিতির পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করছেন। বাজারে স্থায়ী উন্নতি হবে কি না, তা নির্ভর করবে তেলের দাম কতটা স্থিতিশীল থাকে এবং অর্থনীতির নতুন তথ্য কী ইঙ্গিত দেয় তার ওপর।






মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।