সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
গাজা, লেবানন ও ইরানে হামলার নিন্দা, মুসলিম দেশগুলোকে ঐক্যের ডাক পেজেশকিয়ানের নতুন বার্তাবিদেশে মার্কিন নাগরিকদের হত্যার পরিকল্পনা নিয়ে সতর্কতা, ইরানকে ঘিরে উদ্বেগওয়াশিংটনে অ-নাগরিক ভোটারদের তথ্য প্রকাশে সোমবার সংবাদ সম্মেলন করবে মার্কিন প্রশাসনঅশোক সেনের বিশ্বজয়, স্ট্রিং তত্ত্বের গবেষণায় প্রথম ভারতীয় হিসেবে অস্কার ক্লেইন পদক জিতলেনরেকর্ড ভোটে সার্বিয়ায় বিদায়ের মুখে ভুচিচ, শিক্ষার্থীদের ঐতিহাসিক জয়ে বদলাচ্ছে দেশের রাজনীতি

অংশ: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ২০২৬

ভোটারদের গোপন তথ্য চেয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের মামলা খারিজ করলেন নিজ দলের নিয়োগ দেওয়া বিচারক

ভোটারদের ব্যক্তিগত তথ্য চেয়ে করা মামলা খারিজ করেছেন ট্রাম্পের নিয়োগ দেওয়া বিচারক, নির্বাচনের আগে প্রশাসনের আইনি চাপে নতুন ধাক্কা।

ভোটারদের গোপন তথ্য চেয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের মামলা খারিজ করলেন নিজ দলের নিয়োগ দেওয়া বিচারক
ভোটারদের গোপন তথ্য চেয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের মামলা খারিজ করলেন নিজ দলের নিয়োগ দেওয়া বিচারক

যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের কয়েক দিন আগে এই রায় সামনে এসেছে। তবে মামলাটি খারিজ হওয়ার অর্থ এই নয় যে আদালত ভোটার তালিকায় কোনো অনিয়মের অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ করেছেন। আদালতের মূল বিবেচ্য বিষয় ছিল, ১৯৬০ সালের নাগরিক অধিকার আইনের নির্দিষ্ট ধারার ভিত্তিতে বিচার বিভাগ উটাহর সম্পূর্ণ ভোটার নিবন্ধন তালিকা দাবি করতে পারে কি না।
যুক্তরাষ্ট্রের জেলা আদালতের বিচারক ডেভিড বারলো ২৩ অক্টোবর উটাহর লেফটেন্যান্ট গভর্নর ডেইড্রে হেন্ডারসনের বিরুদ্ধে করা মামলাটি খারিজ করেন। তিনি শুধু বিচার বিভাগের দাবি প্রত্যাখ্যান করেননি, বরং সরকারকে ভোটার নিবন্ধনের সম্পূর্ণ তালিকা হস্তান্তরে বাধ্য করার আবেদনও নাকচ করেছেন। মামলাটির নথি অনুযায়ী, বিচারক সরকারের অভিযোগ খারিজ করার পাশাপাশি হেন্ডারসন এবং মামলায় যুক্ত অন্য পক্ষগুলোর খারিজের আবেদন মঞ্জুর করেন।

এই মামলায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ভোটারদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের জন্য বিচার বিভাগ কোন আইনের ওপর নির্ভর করেছিল এবং সেই আইন কতটুকু ক্ষমতা দিয়েছে। প্রশাসনের যুক্তি ছিল, ভোটার নিবন্ধনসংক্রান্ত নথি সংরক্ষণ এবং পরিদর্শনের জন্য সরবরাহ করার বিষয়ে ১৯৬০ সালের নাগরিক অধিকার আইনে যে বিধান রয়েছে, তার ভিত্তিতে উটাহর সম্পূর্ণ তালিকা চাওয়া বৈধ। কিন্তু বিচারক এই ব্যাখ্যার সঙ্গে একমত হননি।
বিচারক বারলোর মতে, আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় এমন নথির কথা বলা হয়েছে, যা নির্বাচনী কর্মকর্তার কাছে আসে এবং ভোটার নিবন্ধন বা ভোট দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পর্কিত। উটাহর সম্পূর্ণ ভোটার নিবন্ধন তালিকাটি লেফটেন্যান্ট গভর্নরের দপ্তর নিজেই তৈরি, পরিচালনা ও নিয়মিত হালনাগাদ করে। ফলে বিচারকের ব্যাখ্যায়, নিজ দপ্তরে তৈরি করা এই তথ্যভান্ডারকে ওই আইনের ভাষায় অন্য উৎস থেকে কর্মকর্তার কাছে আসা নথি হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।

বিচারক আরও ব্যাখ্যা করেন, ভোটার নিবন্ধন তালিকা একটি পরিবর্তনশীল তথ্যভান্ডার। ভোটারদের নাম, ঠিকানা, নিবন্ধনের অবস্থা এবং অন্যান্য তথ্য নিয়মিত পরিবর্তিত হতে পারে। উটাহর আইন অনুযায়ী, অঙ্গরাজ্যের নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাকে এই তালিকা তৈরি, ব্যবস্থাপনা ও হালনাগাদ করতে হয়। বিচারকের মতে, ১৯৬০ সালের আইনে সংরক্ষণের যে বিধান রয়েছে, তা দিয়ে এমন একটি চলমান তথ্যভান্ডারের সম্পূর্ণ অনুলিপি দাবি করার অধিকার স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় না।
এই ব্যাখ্যার মাধ্যমে আদালত স্পষ্ট করেছে, সরকারের কোনো গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য থাকলেই সংশ্লিষ্ট আইনকে তার নির্ধারিত ভাষার বাইরে প্রসারিত করে প্রয়োগ করা যায় না। আইনপ্রণেতারা যে শব্দ ব্যবহার করেছেন, তার অর্থ ও পরিধি বিবেচনা করেই সরকারি ক্ষমতা নির্ধারণ করতে হবে।
মামলাটির সূত্রপাত হয় ২০২৫ সালে। সে বছরের ১৫ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ উটাহর লেফটেন্যান্ট গভর্নরকে চিঠি দিয়ে অঙ্গরাজ্যের ভোটার নিবন্ধন তালিকা রক্ষণাবেক্ষণসংক্রান্ত তথ্য চায়। বিচার বিভাগের দাবি ছিল, অঙ্গরাজ্যটি জাতীয় ভোটার নিবন্ধন আইন এবং ভোট পরিচালনায় সহায়তাকারী ফেডারেল আইনের বিধান যথাযথভাবে মেনে চলছে কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন।
এরপর ১৪ আগস্ট বিচার বিভাগ আবার চিঠি পাঠিয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য দাবি করে। এবার তালিকায় থাকা ভোটারদের পূর্ণ নাম, জন্মতারিখ, আবাসিক ঠিকানা এবং চালকের অনুমতিপত্রের নম্বর অথবা সামাজিক নিরাপত্তা নম্বরের শেষ চারটি অঙ্কসহ অন্যান্য তথ্য চাওয়া হয়। এসব তথ্যের অনেকগুলো সাধারণ মানুষের জন্য প্রকাশিত ভোটার তালিকায় থাকে না।
উটাহর কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ গোপন তথ্যভান্ডার সরবরাহ না করে প্রকাশযোগ্য সংস্করণটি দেয়। অঙ্গরাজ্যের পক্ষ থেকে ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা এবং তথ্য প্রকাশের আইনগত ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। বিচার বিভাগের সঙ্গে আলোচনা চললেও গোপন তথ্যসহ সম্পূর্ণ তালিকা হস্তান্তরের বিষয়ে সমঝোতা হয়নি। ২০২৫ সালের ২ ডিসেম্বর বিচার বিভাগ তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দূর করার উদ্দেশ্যে একটি সমঝোতার প্রস্তাবও পাঠায়। তবে সেই প্রস্তাবের মাধ্যমে বিরোধের সমাধান হয়নি।

পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি বিচার বিভাগ আদালতে মামলা করে। সরকারের বক্তব্য ছিল, ভোটার তালিকা রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রে অঙ্গরাজ্যের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা হচ্ছে কি না, তা যাচাই করার জন্য সম্পূর্ণ তথ্য পাওয়া দরকার। অন্যদিকে হেন্ডারসনের পক্ষ থেকে বলা হয়, ফেডারেল সরকারের দাবি করা তথ্য প্রকাশের জন্য যথেষ্ট আইনগত ভিত্তি দেখানো হয়নি এবং ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষাও গুরুত্বপূর্ণ।
মামলায় নাগরিক অধিকার নিয়ে কাজ করা দুটি সংগঠনও যুক্ত হয়। এগুলো হলো বর্ণবৈষম্যবিরোধী জাতীয় সংগঠন এবং উটাহর নারী ভোটারদের সংগঠন। তারা ভোটারদের ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা এবং ভোটাধিকার রক্ষার যুক্তিতে মামলাটি খারিজের পক্ষে অবস্থান নেয়। আদালত তাদেরসহ বিবাদীপক্ষের খারিজের আবেদন মঞ্জুর করে।
উটাহর প্রকাশযোগ্য ভোটার তালিকায় সাধারণত ভোটারের নাম, পরিচিতি নম্বর, বয়সের পরিসর, আবাসিক ঠিকানা, ডাকযোগে যোগাযোগের ঠিকানা, নির্বাচনী এলাকার তথ্য, দলীয় পরিচয় থাকলে তা, নিবন্ধনের অবস্থা এবং ভোটদানের ইতিহাসের মতো তথ্য থাকতে পারে। অন্যদিকে, সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত তালিকায় জন্মতারিখ, চালকের অনুমতিপত্রের নম্বর, সামাজিক নিরাপত্তা নম্বরের শেষ চারটি অঙ্ক এবং অন্যান্য সংবেদনশীল তথ্য থাকতে পারে। এসব তথ্য একসঙ্গে সংগ্রহ করা হলে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, তথ্যের নিরাপত্তা এবং তথ্য ব্যবহারের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। আদালত বলেনি যে ভোটার তালিকা কখনোই ফেডারেল সরকারের কাছে সরবরাহ করা যাবে না। আদালতের সিদ্ধান্তটি নির্দিষ্ট আইনের নির্দিষ্ট ধারার আওতায় উটাহর সম্পূর্ণ তথ্যভান্ডার দাবি করার ক্ষমতা নিয়ে। অন্য কোনো আইনে বৈধ ক্ষমতা থাকলে তার প্রয়োগের প্রশ্ন আলাদাভাবে বিবেচিত হতে পারে। একইভাবে, এই রায়ের মাধ্যমে উটাহর ভোটার তালিকায় কোনো অনিয়ম আছে কি নেই, সে বিষয়েও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি।

রায়ে মামলাটি ‘পুনরায় দায়েরের সুযোগ ছাড়া’ খারিজ করা হয়েছে। এর অর্থ, একই অভিযোগ নিয়ে একই মামলাটি নতুন করে নিম্ন আদালতে দায়ের করা যাবে না। তবে এর অর্থ এই নয় যে বিচার বিভাগের আপিল করার অধিকার শেষ হয়ে গেছে। আপিলের মাধ্যমে উচ্চ আদালতে রায়ের আইনগত ব্যাখ্যা চ্যালেঞ্জ করা যেতে পারে।
২৩ অক্টোবরের রায়ের পর বিচার বিভাগ জানিয়েছে, তারা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার পরিকল্পনা করছে। ফলে বিষয়টি এখানেই শেষ হয়ে যাচ্ছে না; উচ্চ আদালত পরবর্তী সময়ে মামলাটির আইনি প্রশ্নগুলো পর্যালোচনা করতে পারে।
এই রায় ট্রাম্প প্রশাসনের দেশজুড়ে ভোটার তালিকা সংগ্রহের উদ্যোগের জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের ভোটার নিবন্ধন তালিকা চেয়ে করা মামলাগুলোতে বিচার বিভাগ একের পর এক বাধার মুখে পড়েছে। ২৩ অক্টোবরের উটাহর রায়কে নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, জেলা আদালতে এ ধরনের মামলায় প্রশাসনের পরাজয়ের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৭। তবে এই হিসাবটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত নিম্ন আদালতের রায়ের ওপর ভিত্তি করে; আপিল আদালতের সিদ্ধান্ত ও চলমান মামলার অবস্থা আলাদা করে দেখতে হবে।

এই বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। প্রথমত, নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ফেডারেল সরকার কতটুকু তথ্য চাইতে পারে। দ্বিতীয়ত, ভোটারদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোন আইনি সীমা মানতে হবে। সরকারের পক্ষে ভোটার নিবন্ধনের সঠিকতা যাচাই করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হলেও অঙ্গরাজ্য ও নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলো ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এই নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের সব আসন এবং সিনেটের একাংশের জন্য ভোট গ্রহণ করা হবে। নির্বাচনের আগে ভোটার নিবন্ধন, নাগরিকত্ব যাচাই, ডাকযোগে ভোট এবং নির্বাচনী প্রশাসনের ক্ষমতা নিয়ে বিতর্ক রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। উটাহর মামলাটি সেই বৃহত্তর বিতর্কেরই একটি অংশ।
শেষ পর্যন্ত এই রায়ের তাৎপর্য হলো, নির্বাচনী তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে ফেডারেল সরকারের ক্ষমতা আইন দ্বারা সীমাবদ্ধ। ভোটার তালিকা যাচাই করার উদ্দেশ্য থাকলেও ব্যক্তিগত তথ্য পাওয়ার জন্য যথাযথ আইনি ভিত্তি প্রয়োজন। বিচার বিভাগের আপিলের পরিকল্পনার কারণে এই প্রশ্নের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনও বাকি। পরবর্তী আইনি পদক্ষেপই নির্ধারণ করবে, ফেডারেল সরকার কোন আইনের আওতায় অঙ্গরাজ্যগুলোর সম্পূর্ণ ভোটার নিবন্ধন তালিকা দাবি করতে পারবে এবং ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার সীমা কোথায় থাকবে।


ট্যাগ: যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনভোটার তালিকাডোনাল্ড ট্রাম্পডেভিড বারলোডেইড্রে হেন্ডারসনমার্কিন বিচার বিভাগভোটারদের ব্যক্তিগত তথ্যভোটাধিকারনির্বাচনী আইনফেডারেল আদালতমধ্যবর্তী নির্বাচন

প্রতিবেদক

Desk Report

Reporter

মন্তব্য ০

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।