সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
আদালতের রায়েও মিলছে না ভিসা, পরিবার থেকে দূরে হাজারো অভিবাসীপ্রয়োজনে সরকার অনুমতি দিলে ক্রসফায়ার করা হবে : শেখ হাসিনার ফেরার প্রসঙ্গে আইজিপিট্রাম্প প্রশাসন বনাম ক্যালিফোর্নিয়া, ২০ হাজার ব্যালট নিয়ে আদালতে উত্তেজনাযুক্তরাষ্ট্রে ৩ লাখের বেশি ভিসা বাতিল, বাংলাদেশি প্রবাসী ও আবেদনকারীদের জন্য কী জানা জরুরি?মূল্যস্ফীতির চাপে মার্কিন অর্থনীতি, সুদের হার নিয়ে ফেডের সিদ্ধান্ত ঘিরে বাড়ছে অনিশ্চয়তা

আদালতের রায়েও মিলছে না ভিসা, পরিবার থেকে দূরে হাজারো অভিবাসী

আদালতের সিদ্ধান্তের পরও ভিসার অপেক্ষা শেষ হয়নি অনেক অভিবাসী পরিবারের। স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানদের আলাদা থাকার কষ্ট বাড়াচ্ছে ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ।

স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানদের আলাদা থাকার কষ্ট বাড়াচ্ছে ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ।
স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানদের আলাদা থাকার কষ্ট বাড়াচ্ছে ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ।

আদালতের রায়েও মিলছে না ভিসা, পরিবার থেকে দূরে হাজারো অযুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী ভিসা দেওয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা আদালতে বাতিল হওয়ার পরও হাজারো আবেদনকারীর অপেক্ষা শেষ হয়নি। ভিসা প্রক্রিয়ায় বিলম্ব, অতিরিক্ত যাচাই এবং সাক্ষাৎকার সম্পন্ন না হওয়ায় অনেক পরিবার এখনো যুক্তরাষ্ট্রে একসঙ্গে বসবাসের সুযোগ পাচ্ছে না। সোমবার (২৬ অক্টোবর) প্রকাশিত ন্যাশনাল পাবলিক রেডিওর (এনপিআর) এক প্রতিবেদনে এমন কয়েকটি পরিবারের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইনি বাধা উঠে গেলেও বাস্তবে ভিসা প্রক্রিয়ার জটিলতা অনেক আবেদনকারীর জন্য বড় সমস্যা হয়ে রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প প্রশাসন ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়াকরণ বন্ধ করেছিল। এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার আগেই অনেক আবেদনকারী প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপে ছিলেন। কারও ভিসা অনুমোদিত হয়েছিল, আবার কেউ চূড়ান্ত ভিসা পাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। আগস্টে একজন ফেডারেল বিচারক ওই নিষেধাজ্ঞা বাতিলের নির্দেশ দেন। তবে এরপরও অনেক আবেদনকারীর ভিসা প্রক্রিয়া শেষ হয়নি।

এ পরিস্থিতির একটি উদাহরণ ডাস্টিন হফম্যান ও তাঁর পরিবারের ঘটনা। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক সেনাসদস্য ডাস্টিন হফম্যান তাঁর স্ত্রী গ্লোরিয়া এবং সন্তানদের নিয়ে আর্জেন্টিনায় বসবাস করছিলেন। তাঁর স্ত্রী কলম্বিয়ার নাগরিক। পরিবারটি যুক্তরাষ্ট্রে একসঙ্গে বসবাসের জন্য ভিসার আবেদন করেছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পরও স্ত্রী ও সন্তানদের যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যেতে পারেননি তিনি।

এনপিআরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হফম্যানের পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে ও ১২ বছর বয়সী সৎছেলে এখনো মায়ের সঙ্গে আর্জেন্টিনায় রয়েছেন। পরিবারের সদস্যদের আলাদা থাকার কারণে মানসিক চাপের পাশাপাশি আর্থিক সমস্যাও তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে নিজের বাড়ির ঋণ পরিশোধের পাশাপাশি আর্জেন্টিনায় পরিবারের ভাড়া বহন করতে হচ্ছে হফম্যানকে। তাঁর মেয়ের বিশেষ শিক্ষাগত ও সহায়তামূলক চাহিদার বিষয়টিও পরিবারটির উদ্বেগের অংশ।

হফম্যানের পরিবারের আইনজীবী ও অভিবাসন অধিকার নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিদের বক্তব্য অনুযায়ী, আদালতের সিদ্ধান্তের পরও ভিসা সাক্ষাৎকার, অতিরিক্ত যাচাই এবং চূড়ান্ত অনুমোদনে বিলম্ব হচ্ছে। আমেরিকান ইমিগ্রেশন লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট-নির্বাচিত অ্যালেক্সিস অ্যাক্সেলরড এনপিআরকে বলেন, কাগজে-কলমে নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও আবেদনকারীরা যদি সাক্ষাৎকার ও ভিসা সম্পন্ন করতে না পারেন, তাহলে বাস্তবে তাঁদের যুক্তরাষ্ট্রে আসার সুযোগ তৈরি হচ্ছে না।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, জানুয়ারিতে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার সময় ২ লাখ ৮০ হাজারের বেশি অভিবাসী ভিসা আবেদনকারী এতে প্রভাবিত হয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও স্থায়ী বাসিন্দাদের পরিবারের সদস্যরাও ছিলেন। তবে এই সংখ্যা বর্তমানে কতজনের আবেদন আটকে আছে, তার সমান নয়। নিষেধাজ্ঞা বাতিলের পরও কত আবেদন সম্পন্ন হয়েছে, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে পূর্ণাঙ্গ হালনাগাদ হিসাব দেওয়া হয়নি।

ভিসা প্রক্রিয়ায় বিলম্বের আরেকটি কারণ হিসেবে আর্থিক সক্ষমতা যাচাইয়ের বিষয়টি উঠে এসেছে। এনপিআরের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর দূতাবাস ও কনস্যুলেটের কর্মকর্তাদের জন্য নতুন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু করেছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল আবেদনকারীরা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন কি না, তা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া আরও কঠোর করা। এ কারণে কিছু আবেদনকারীর কাছ থেকে অতিরিক্ত আর্থিক নথি ও প্রমাণ চাওয়া হয়েছে।

এই যাচাইপ্রক্রিয়া কেবল কম দক্ষ বা কম আয়ের আবেদনকারীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিবেদনে কলম্বিয়ার চিকিৎসা গবেষক ড. ফার্নান্দো লিজকানোর কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে গবেষণার কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য EB-1A ভিসার আবেদন করেছিলেন। অসাধারণ দক্ষতা ও কৃতিত্বসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য নির্ধারিত এই ভিসার ক্ষেত্রে তাঁর যোগ্যতা স্বীকৃত হলেও চূড়ান্ত ভিসা পাওয়ার অপেক্ষায় তাঁকে কলম্বিয়াতেই থাকতে হচ্ছে।

অভিবাসনপ্রত্যাশীদের আইনজীবীরা বলছেন, আদালতের নির্দেশ কার্যকর করার পাশাপাশি আবেদনকারীদের ভিসা প্রক্রিয়া স্বাভাবিক গতিতে এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এনপিআরকে জানিয়েছে, বিষয়টি চলমান আইনি প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায় তারা এ বিষয়ে মন্তব্য করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্যও অভিবাসী ভিসা ও পারিবারিক পুনর্মিলনের নিয়মিত হালনাগাদ জানা গুরুত্বপূর্ণ। তবে এই প্রতিবেদনে আলোচিত ৭৫ দেশের নিষেধাজ্ঞা ও আদালতের রায়ের আওতায় বাংলাদেশের নাগরিকদের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে আলাদা কোনো নিশ্চিত তথ্য দেওয়া হয়নি। বাংলাদেশি আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে কোন নিয়ম প্রযোজ্য, তা নির্দিষ্ট ভিসার ধরন ও যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি নির্দেশনার ভিত্তিতে যাচাই করা প্রয়োজন।

ট্যাগ: আদালতযুক্তরাষ্ট্রঅযুক্তরাষ্ট্রঅভিবাসীন্যাশনালপাবলিকরেডিওরএনপিআর

প্রতিবেদক

CSB News USA

মন্তব্য ০

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।