সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
আদালতের রায়েও মিলছে না ভিসা, পরিবার থেকে দূরে হাজারো অভিবাসীপ্রয়োজনে সরকার অনুমতি দিলে ক্রসফায়ার করা হবে : শেখ হাসিনার ফেরার প্রসঙ্গে আইজিপিট্রাম্প প্রশাসন বনাম ক্যালিফোর্নিয়া, ২০ হাজার ব্যালট নিয়ে আদালতে উত্তেজনাযুক্তরাষ্ট্রে ৩ লাখের বেশি ভিসা বাতিল, বাংলাদেশি প্রবাসী ও আবেদনকারীদের জন্য কী জানা জরুরি?মূল্যস্ফীতির চাপে মার্কিন অর্থনীতি, সুদের হার নিয়ে ফেডের সিদ্ধান্ত ঘিরে বাড়ছে অনিশ্চয়তা

ট্রাম্পের ১৮ মাসে প্রায় ৯ লাখ ৮০ হাজার অভিবাসী বহিষ্কারের হিসাব, বাড়ছে উদ্বেগ

ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম ১৮ মাসে প্রায় ৯ লাখ ৮০ হাজার অভিবাসীকে বহিষ্কার বা ফেরত পাঠানোর হিসাব দিয়েছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান, তবে তা নিয়ে আপত্তি তুলেছে সরকার।

ট্রাম্পের ১৮ মাসে প্রায় ৯ লাখ ৮০ হাজার অভিবাসী বহিষ্কারের হিসাব, বাড়ছে উদ্বেগ
ট্রাম্পের ১৮ মাসে প্রায় ৯ লাখ ৮০ হাজার অভিবাসী বহিষ্কারের হিসাব, বাড়ছে উদ্বেগ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসনবিরোধী অভিযান জোরদার হয়েছে। নতুন এক গবেষণা বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, তাঁর প্রশাসনের প্রথম ১৮ মাসে প্রায় ৯ লাখ ৮০ হাজার অভিবাসীকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার বা ফেরত পাঠানো হয়েছে। তবে এই সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে দেশটির স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ। ফলে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে অভিবাসননীতি, সীমান্ত নিরাপত্তা ও যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অভিবাসীদের ভবিষ্যৎ ঘিরে।

মাইগ্রেশন পলিসি ইনস্টিটিউট নামের একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ২১ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই হিসাব তুলে ধরে। প্রতিষ্ঠানটির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, হিসাবের সময়কাল ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত। অর্থাৎ, এটি ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম ১৮ মাসের তথ্যভিত্তিক হিসাব। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সও ২২ অক্টোবর এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

মোট সংখ্যার মধ্যে শুধু আনুষ্ঠানিকভাবে বহিষ্কৃত ব্যক্তিরাই নন, বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত পাঠানো ব্যক্তিরাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। হিসাবটিতে প্রায় ৫ লাখ ৮০ হাজার আনুষ্ঠানিক বহিষ্কার, ৩ লাখ নিয়ন্ত্রণমূলক ফেরত পাঠানো এবং ১ লাখ ১০ হাজার প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় ফেরত পাঠানোর ঘটনা ধরা হয়েছে। তাই পুরো ৯ লাখ ৮০ হাজার মানুষকে একই ধরনের আইনি প্রক্রিয়ায় বহিষ্কার করা হয়েছে—এমন ধারণা সঠিক হবে না।

এই সময়ের মোট বহিষ্কার ও ফেরত পাঠানোর ঘটনার প্রায় ৬৯ শতাংশ এমন ব্যক্তিদের নিয়ে, যাঁদের প্রথমে যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে আটক করা হয়েছিল। তবে দেশের অভ্যন্তরে বসবাসরত অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযানও বেড়েছে। ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে আটক হওয়ার পর বহিষ্কার বা ফেরত পাঠানোর ঘটনা মোট হিসাবের প্রায় ২৮ শতাংশ ছিল। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে তা বেড়ে প্রায় ৩৯ শতাংশে পৌঁছায়।

দেশের অভ্যন্তরে আটক ব্যক্তিদের ফেরত পাঠানোর মাসিক গড় সংখ্যাও বেড়েছে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম তিন মাসে এ ধরনের ঘটনা মাসে গড়ে প্রায় ৮ হাজার ছিল। ২০২৬ সালের মে থেকে জুলাই পর্যন্ত তা বেড়ে মাসে প্রায় ১৯ হাজারে দাঁড়ায়। এর অর্থ, সীমান্তে আটক ব্যক্তিদের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহর ও এলাকায় বসবাসরত অভিবাসীরাও ক্রমবর্ধমানভাবে অভিবাসন অভিযানের আওতায় আসছেন।

বহিষ্কৃত সবাই অপরাধে দণ্ডিত ছিলেন না। গবেষণা অনুযায়ী, মোট বহিষ্কার ও ফেরত পাঠানোর ঘটনার প্রায় ২০ শতাংশের ক্ষেত্রে অপরাধে দণ্ডিত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। আর যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত দুই বছর বসবাসের পর বহিষ্কৃত ব্যক্তিদের মধ্যে প্রায় ৭১ শতাংশের কোনো অপরাধে দণ্ডিত হওয়ার রেকর্ড ছিল না। তবে অপরাধে দণ্ডিত হওয়ার রেকর্ড না থাকা মানেই কারও অভিবাসনসংক্রান্ত আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ ছিল না—এমন নয়। অপরাধের রেকর্ড ও অভিবাসন আইনের অবস্থান দুটি আলাদা বিষয়।

ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসন অভিযানকে সীমান্ত নিরাপত্তা ও দেশের আইন প্রয়োগের অংশ হিসেবে তুলে ধরেছে। অন্যদিকে, অভিবাসীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন পক্ষ যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া, পরিবার বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকি এবং দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত মানুষের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এই বিতর্কের মধ্যে নির্ভরযোগ্য ও পূর্ণাঙ্গ সরকারি পরিসংখ্যানের গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

তবে ২৬ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ গবেষণা প্রতিষ্ঠানের হিসাবকে চ্যালেঞ্জ করেছে এবং প্রতিবেদনটিকে ‘ভুয়া খবর’ বলে অভিহিত করেছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি সরকারি নথি পাওয়ার অধিকার আইনের আওতায় সংগৃহীত তথ্য এবং অন্যান্য নথি বিশ্লেষণ করে তাদের হিসাব তৈরি করেছে। সরকার ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বক্তব্যে এই পার্থক্যের কারণে ৯ লাখ ৮০ হাজার সংখ্যাটিকে প্রশাসনের স্বীকৃত চূড়ান্ত হিসাব হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক হবে না।

গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ অর্থবছরে বহিষ্কার ও ফেরত পাঠানোর সংখ্যা প্রায় ৬ লাখ ৬০ হাজার হতে পারে। এটি আগের অর্থবছরের প্রায় ৬ লাখ ২০ হাজারের তুলনায় বেশি হলেও ট্রাম্পের ঘোষিত বছরে ১০ লাখ মানুষ বহিষ্কারের লক্ষ্যের চেয়ে কম। ঐতিহাসিক হিসাবের তুলনায়ও বর্তমান সংখ্যা সর্বোচ্চ নয়।

ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসনবিরোধী অভিযান ব্যাপক আকার নিয়েছে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে। তবে প্রকৃত সংখ্যা, বহিষ্কারের ধরন এবং সরকারের পাল্টা বক্তব্য বিবেচনায় রেখে খবরটি বোঝা জরুরি। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অভিবাসীদের জন্য এই নীতির প্রভাব নির্ভর করবে তাঁদের আইনি অবস্থান, ব্যক্তিগত পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর।

ট্যাগ: যুক্তরাষ্ট্রট্রাম্পঅভিবাসনবহিষ্কারপ্রবাসী

প্রতিবেদক

Staff Reporter

Reporter

মন্তব্য ০

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।