সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
সৌদির তেলপথ ও রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার দাবি হুতিদের, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতের ঘোষণা জোটেরক্যালিফোর্নিয়ার ২০ হাজার ডাকব্যালট নিয়ে আদালতে কঠিন প্রশ্নের মুখে ট্রাম্প প্রশাসনট্রাম্পের কানাডা বাণিজ্যযুদ্ধে বাড়ছে মূল্যচাপ, মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিপাকে রিপাবলিকানরাযুদ্ধ থামাতে নভেম্বরে ইউক্রেন, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার বৈঠক, জট খুলবে কি শান্তি আলোচনার?ক্যালিফোর্নিয়ার নির্বাচন মামলায় বিচারকদের কঠিন প্রশ্নে চাপে ট্রাম্প প্রশাসন, অনিশ্চিত আইনি জয়ের সম্ভাবনা

অংশ: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ২০২৬

ক্যালিফোর্নিয়ার নির্বাচন মামলায় বিচারকদের কঠিন প্রশ্নে চাপে ট্রাম্প প্রশাসন, অনিশ্চিত আইনি জয়ের সম্ভাবনা

ক্যালিফোর্নিয়ায় সন্দেহভাজন অনাগরিক ভোটারদের ব্যালট আটকে রাখার আবেদন নিয়ে প্রশ্নের মুখে ট্রাম্প প্রশাসন, রায়ের অপেক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন মামলা।

ক্যালিফোর্নিয়ার নির্বাচন মামলায় বিচারকদের কঠিন প্রশ্নে চাপে ট্রাম্প প্রশাসন, অনিশ্চিত আইনি জয়ের সম্ভাবনা
ক্যালিফোর্নিয়ার নির্বাচন মামলায় বিচারকদের কঠিন প্রশ্নে চাপে ট্রাম্প প্রশাসন, অনিশ্চিত আইনি জয়ের সম্ভাবনা

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনসংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন বড় ধরনের আইনি বাধার মুখে পড়েছে। অঙ্গরাজ্যের ভোটার তালিকায় অনাগরিক হিসেবে সন্দেহভাজন প্রায় ২০ হাজার ব্যক্তির ব্যালট আলাদা করে রাখার আবেদন নিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা শুনানি করেছেন দেশটির একটি ফেডারেল আপিল আদালতের তিন বিচারক। শুনানিতে সরকারের আইনগত যুক্তি, মামলাটি জরুরি ভিত্তিতে শুনতে আদালতের এখতিয়ার এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপের সীমা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন ওঠে। তবে শুনানি শেষে আদালত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাননি। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের আবেদন শেষ পর্যন্ত গ্রহণ করা হবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত। রয়টার্সসহ একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনেও প্রশাসনের আবেদনের বিষয়ে বিচারকদের সংশয়ের কথা উঠে এসেছে।

মামলাটির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ক্যালিফোর্নিয়ার ভোটার তালিকায় থাকা এমন কিছু ব্যক্তির পরিচয়, যাঁদের মার্কিন নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এসব ব্যক্তির কেউ কেউ নাগরিক না হয়েও নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধিত হয়েছেন এবং তাঁদের কাছে ডাকযোগে ব্যালট পাঠানো হয়েছে। সরকার চায়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যালট অন্য ব্যালট থেকে আলাদা করে রাখা হোক এবং তাঁদের নাগরিকত্ব যাচাই শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেগুলো গণনা করা না হোক।

তবে প্রশাসনের এই অভিযোগ এখনো আদালতে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি। ক্যালিফোর্নিয়া ও লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির কর্মকর্তারা কেন্দ্রীয় সরকারের সরবরাহ করা তালিকার নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের বক্তব্য, শুধু সন্দেহের ভিত্তিতে কোনো ভোটারের ব্যালট আটকে রাখা হলে বৈধ ভোটারদের ভোটাধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে এমন পদক্ষেপ ভোট গণনায় বিভ্রান্তি এবং প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি করতে পারে বলেও তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

গত ১৫ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ক্যালিফোর্নিয়ার বিরুদ্ধে মামলা করে। প্রশাসনের অভিযোগ ছিল, ভোটার তালিকায় অনাগরিক হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অঙ্গরাজ্য যথাযথ সহযোগিতা করেনি। সরকার আদালতের কাছে আবেদন জানায়, তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের ব্যালট নাগরিকত্ব যাচাই না হওয়া পর্যন্ত গণনা থেকে বিরত রাখতে নির্দেশ দেওয়া হোক।

কিন্তু নিম্ন আদালত এ বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত না দেওয়ায় প্রশাসন সরাসরি আপিল আদালতের দ্বারস্থ হয়। তাদের যুক্তি, ভোট গণনা চলতে থাকলে পরে সন্দেহভাজন ব্যালট শনাক্ত করা কঠিন হতে পারে এবং নির্বাচনের ফলাফলে অনিয়মের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে, অঙ্গরাজ্যের কর্মকর্তারা মনে করেন, জরুরি পরিস্থিতি তৈরির জন্য প্রশাসন নিজেই দেরিতে পদক্ষেপ নিয়েছে। ফলে নির্বাচনী কার্যক্রম চলার মধ্যে হঠাৎ করে ব্যালট আলাদা রাখার নির্দেশ দেওয়া বাস্তবায়ন করা কঠিন।

২৫ অক্টোবর রোববার যুক্তরাষ্ট্রের নবম সার্কিট আপিল আদালতের তিন বিচারকের একটি বেঞ্চ মামলাটির শুনানি করে। শুনানিতে বিচারক মার্ক বেনেট কেন্দ্রীয় সরকারের আইনজীবী ম্যাথিউ ডনেলির কাছে জানতে চান, নিম্ন আদালত যখন দ্রুত শুনানির ব্যবস্থা করেছে, তখন আপিল আদালত কেন এই পর্যায়ে হস্তক্ষেপ করবে। তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনী বিধানের সঙ্গে সাংবিধানিকভাবে সংঘাত সৃষ্টি করতে পারে এমন নির্দেশ দেওয়ার এখতিয়ার আদালতের রয়েছে কি না।

বিচারক বেনেটের প্রশ্নগুলো প্রশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের নির্বাচনী বিধানসংক্রান্ত ধারার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। ওই বিধান অনুযায়ী, কংগ্রেসের নির্ধারিত সীমার মধ্যে অঙ্গরাজ্যের আইনসভাগুলো কংগ্রেসের নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা ভোগ করে। ফলে কেন্দ্রীয় নির্বাহী বিভাগ নিজ উদ্যোগে কোনো অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনী পদ্ধতিতে এমন পরিবর্তন চাপিয়ে দিতে পারে কি না, সেটিই মামলার অন্যতম প্রধান আইনি প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।

বেঞ্চের আরেক বিচারক গ্যাব্রিয়েল সানচেজও কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া ভোটার তালিকার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। সরকারের আইনজীবীর কাছে তিনি জানতে চান, তালিকাটি ক্যালিফোর্নিয়ার ২০২৬ সালের নির্বাচনে ব্যবহৃত প্রকৃত ভোটার তালিকার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তালিকা তৈরির পদ্ধতি এবং তথ্য বিশ্লেষণে তৃতীয় পক্ষের ভূমিকা নিয়েও শুনানিতে প্রশ্ন ওঠে। প্রশাসনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব কি না, তা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়।

তিন বিচারকের মধ্যে প্যাট্রিক বুমাটে সরকারের যুক্তির প্রতি তুলনামূলকভাবে বেশি সহানুভূতিশীল অবস্থান দেখিয়েছেন বলে কয়েকটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বিচারকদের প্রশ্ন বা শুনানির সময় তাঁদের অবস্থান দেখে চূড়ান্ত রায় নিশ্চিতভাবে অনুমান করা যায় না। আদালতকে মামলার আইনগত ভিত্তি, এখতিয়ার এবং উভয় পক্ষের উপস্থাপিত প্রমাণ বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির কর্মকর্তারা কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া তালিকার একটি অংশ যাচাই করে অসংগতি পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। আদালতে দাখিল করা নথি অনুযায়ী, পরীক্ষামূলকভাবে যাচাই করা ২০০টি নামের প্রায় ৪০ শতাংশের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণের তথ্য পাওয়া গেছে। একই নমুনার ৭১ দশমিক ২ শতাংশ রেকর্ডে ভোট দেওয়ার পূর্ববর্তী ইতিহাস ছিল না। যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ নাগরিকত্বের শক্তিশালী নির্দেশক হলেও এসব তথ্য একাই প্রত্যেক ব্যক্তির বর্তমান নাগরিকত্ব বা ভোটার নিবন্ধনের বৈধতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয় না। তবে এই ফলাফল কেন্দ্রীয় সরকারের তালিকা আরও সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করার প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে।

ক্যালিফোর্নিয়ার কর্মকর্তাদের বক্তব্য, অঙ্গরাজ্যে ভোটার নিবন্ধনের সময় নাগরিকত্ব সম্পর্কে ঘোষণা দিতে হয় এবং সন্দেহজনক নিবন্ধন যাচাইয়ের জন্য বিদ্যমান আইনি পদ্ধতিও রয়েছে। তাঁদের আশঙ্কা, যাচাই না করা তালিকার ভিত্তিতে হাজার হাজার ব্যালট আটকে রাখলে বৈধ ভোটারদের অধিকার ক্ষুণ্ন হতে পারে। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, নির্বাচনের স্বচ্ছতা রক্ষা এবং অনাগরিকদের ভোটদান প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।

বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের কারণে। এই নির্বাচনে কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ ও উচ্চকক্ষের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে জনবহুল অঙ্গরাজ্য ক্যালিফোর্নিয়ায় নিম্নকক্ষের ৫২টি আসন রয়েছে। ফলে অঙ্গরাজ্যটির নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে যেকোনো বড় আইনি বিরোধ জাতীয় রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে অনাগরিকদের ভোটদানের অভিযোগ এবং ব্যাপক নির্বাচনী জালিয়াতির দাবি এক বিষয় নয়। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটিতে অনাগরিকদের অবৈধ ভোটদানের ঘটনা বিরল। সন্দেহভাজন ব্যক্তির নাম কোনো তালিকায় থাকা মানেই তিনি অনাগরিক, ভোট দিয়েছেন কিংবা অপরাধ করেছেন—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। প্রত্যেক ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য তথ্য ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া প্রয়োজন।

শুনানি শেষে আপিল আদালত জানায়, তারা যত দ্রুত সম্ভব সিদ্ধান্ত দেওয়ার চেষ্টা করবে। অন্যদিকে, নিম্ন আদালতে ২৭ অক্টোবর মঙ্গলবার শুনানির সময় নির্ধারিত রয়েছে। আপিল আদালত যদি মামলাটি এই পর্যায়ে শুনতে নিজেদের এখতিয়ার না থাকার কারণে আবেদন খারিজ করে, তাহলে মূল বিরোধটি নিম্ন আদালতে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবে। তবে এমন সিদ্ধান্ত হলে সেটি মামলার মূল অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে চূড়ান্ত রায় হবে না।

ক্যালিফোর্নিয়ার নির্বাচনসংক্রান্ত এই মামলা যুক্তরাষ্ট্রে অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনী ক্ষমতা, কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা এবং ভোটারদের অধিকার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। ট্রাম্প প্রশাসন নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার যুক্তি দিলেও, সন্দেহভাজন ভোটারদের ব্যালট আটকে রাখার জন্য পর্যাপ্ত আইনি ভিত্তি ও নির্ভরযোগ্য তথ্য রয়েছে কি না, সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। আপিল আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্ত এবং নিম্ন আদালতের শুনানি এই বিরোধের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


ট্যাগ: ক্যালিফোর্নিয়া নির্বাচনডোনাল্ড ট্রাম্পযুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিভোটার তালিকাডাকযোগে ভোটনির্বাচনী মামলামার্কিন বিচার বিভাগআপিল আদালতভোটাধিকারনির্বাচনী স্বচ্ছতামধ্যবর্তী নির্বাচনসাংবিধানিক বিতর

প্রতিবেদক

Mukti Dipita

INTERNATIONAL BROADCAST JOURNALIST

মন্তব্য ০

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।