সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
নয় অঙ্গরাজ্যে অ-নাগরিক ভোটার তদন্তে বাধা, ট্রাম্প প্রশাসনকে আদালতের নির্দেশমূল্যস্ফীতির চাপে মার্কিন পরিবার, সুদের সিদ্ধান্তের দিকে নজরঅভিবাসন আদালতের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন, চাপের অভিযোগ সাবেক বিচারকেরমূল্যস্ফীতি ও সুদের হার নিয়ে নজর, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ সপ্তাহ শুরু২০২৭ সালের গ্রিন কার্ড লটারি নিয়ে আদালতের নির্দেশ, ট্রাম্প প্রশাসনের আপিলে বাড়ল অনিশ্চয়তা

অংশ: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ২০২৬

নয় অঙ্গরাজ্যে অ-নাগরিক ভোটার তদন্তে বাধা, ট্রাম্প প্রশাসনকে আদালতের নির্দেশ

যুক্তরাষ্ট্রের নয় অঙ্গরাজ্যে অ-নাগরিকদের ভোটার নিবন্ধন নিয়ে তদন্ত বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন ফেডারেল বিচারক। তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা ও ভোটারদের মধ্যে ভীতি তৈরির আশঙ্কা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।

নয় অঙ্গরাজ্যে অ-নাগরিক ভোটার তদন্তে বাধা, ট্রাম্প প্রশাসনকে আদালতের নির্দেশ
নয় অঙ্গরাজ্যে অ-নাগরিক ভোটার তদন্তে বাধা, ট্রাম্প প্রশাসনকে আদালতের নির্দেশ

যুক্তরাষ্ট্রের নয়টি অঙ্গরাজ্যে অ-নাগরিকদের ভোটার নিবন্ধন নিয়ে তদন্ত বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন একটি ফেডারেল আদালত। ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ডের ফেডারেল বিচারক আরাসেলি মার্তিনেজ-ওলগুইন ট্রাম্প প্রশাসনের তদন্ত কার্যক্রমে ব্যবহৃত তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ভুল তথ্যের কারণে মার্কিন নাগরিকদেরও সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করার ঝুঁকি রয়েছে। পাশাপাশি ভোটারদের সহায়তা ও নির্বাচনে অংশগ্রহণে উৎসাহ দেওয়া সংগঠনগুলোর মধ্যে ভীতি তৈরির আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। তবে আদালতের নির্দেশের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশাসনকে আপিলের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।

আদালতের নির্দেশটি ক্যালিফোর্নিয়া, কানেকটিকাট, জর্জিয়া, মিসৌরি, নেভাদা, নিউইয়র্ক, পেনসিলভানিয়া, ওয়াশিংটন ও উইসকনসিন—এই নয়টি অঙ্গরাজ্যের তদন্ত কার্যক্রমের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। নির্দেশ অনুযায়ী, নির্বাচনের দিন ৩ নভেম্বর ভোটগ্রহণ শেষ হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট তদন্ত বন্ধ রাখার কথা বলা হয়েছে। তবে আদেশটি প্রথমে শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়েছিল, যাতে ট্রাম্প প্রশাসন আপিল করার সুযোগ পায়। ফলে আদেশটির পরবর্তী আইনি অবস্থা নিশ্চিত করে জানানো গুরুত্বপূর্ণ।

ট্রাম্প প্রশাসন সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ভোটার তালিকায় অ-নাগরিকদের নাম রয়েছে কি না, তা যাচাই করতে তদন্ত জোরদার করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল নির্বাচনে অ-নাগরিকদের ভোট দেওয়ার অধিকার নেই। সরকার বলছে, নির্বাচনে ভোট দেওয়ার যোগ্যতা নেই এমন ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং নির্বাচনী নিয়ম কার্যকর রাখা প্রয়োজন। তবে আদালতে প্রশ্ন উঠেছে, সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করতে যেসব তথ্যভান্ডার ব্যবহার করা হয়েছে, সেগুলো কতটা নির্ভুল এবং ভুল শনাক্তকরণের ঝুঁকি যথেষ্টভাবে যাচাই করা হয়েছিল কি না।

আদালতের নথি অনুযায়ী, তদন্তকারীরা বিভিন্ন সরকারি ও বাণিজ্যিক তথ্যভান্ডার থেকে সংগৃহীত ভোটার-সংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করেছেন। বিচারক উদ্বেগ প্রকাশ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী প্রত্যেক ব্যক্তির নাগরিকত্ব নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করতে পারে—এমন একটি পূর্ণাঙ্গ ফেডারেল তথ্যভান্ডার নেই। ফলে বিভিন্ন তালিকার তথ্য মিলিয়ে কারও নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলেও তা ভুল হতে পারে। বিশেষ করে অল্প সময়ে বিপুলসংখ্যক ব্যক্তির তথ্য যাচাই করার নির্দেশ থাকলে ভুলের আশঙ্কা আরও বাড়তে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তদন্তের একটি পর্যায়ে কর্মকর্তাদের সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তথ্য যাচাই করতে সীমিত সময় দেওয়া হয়েছিল। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, প্রতিটি ব্যক্তির তথ্য যাচাইয়ের জন্য সর্বোচ্চ ১২ মিনিট সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল। এত অল্প সময়ে জটিল তথ্য যাচাই করলে ভুল সিদ্ধান্তের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে বিচারক মনে করেছেন। আদালতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, স্বাভাবিকীকরণের মাধ্যমে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়া ব্যক্তিদেরও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছিল, যাতে তাঁরা নাগরিক হওয়ার আগে ভোট দিয়েছিলেন কি না, তা যাচাই করা যায়।

মামলাটি করেছে ক্যালিফোর্নিয়া নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন, ন্যাশনাল নার্সেস ইউনাইটেড, ভোটো লাতিনো ফাউন্ডেশন এবং সান্তা ক্লারা কাউন্টি ও সান ফ্রান্সিসকোর স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। মামলাকারীদের দাবি, তদন্তের পদ্ধতি ভোটারদের সহায়তা করা সংগঠনগুলোর কাজে বাধা সৃষ্টি করছে এবং কিছু নাগরিককে নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার বিষয়ে উদ্বিগ্ন করে তুলছে। আদালত মনে করেছে, মামলাকারীরা তাঁদের অভিযোগের পক্ষে যথেষ্ট প্রাথমিক ভিত্তি দেখাতে পেরেছেন।

তবে আদালতের এই নির্দেশের অর্থ এই নয় যে, অ-নাগরিকদের ভোট দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে বা নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করা যাবে না। বরং নির্দেশটি নির্দিষ্ট অঙ্গরাজ্যগুলোতে তদন্তের পদ্ধতি এবং সংশ্লিষ্ট মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমের ওপর সীমা আরোপ করেছে। আইন অনুযায়ী ভোট দেওয়ার যোগ্যতা যাচাই করা এবং নাগরিকদের ভুলভাবে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত হওয়া থেকে রক্ষা করা—দুটি বিষয়ই এখানে গুরুত্বপূর্ণ।

যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ জানিয়েছে, তাদের লক্ষ্য হলো নির্বাচনে অবৈধভাবে ভোট দেওয়া ব্যক্তিদের শনাক্ত করা। বিভাগটির বক্তব্য অনুযায়ী, যাঁদের তারা মার্কিন নাগরিক বলে মনে করে, তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ বা তদন্ত করার পরিকল্পনা তাদের নেই। অন্যদিকে মামলাকারীরা বলছেন, ভুল তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত চালালে যোগ্য ভোটার এবং তাঁদের সহায়তাকারীরা অযথা চাপের মুখে পড়তে পারেন।

এই রায় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা যাচাই, নাগরিকত্ব নির্ধারণ এবং নির্বাচনী অধিকার রক্ষার বিষয়ে চলমান আইনি বিরোধকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। আদালতের নির্দেশের পরবর্তী কার্যকারিতা এবং প্রশাসনের সম্ভাব্য আপিলের ফলাফলের ওপর নজর থাকবে। একই সঙ্গে নির্বাচনী নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ যেন ভুল শনাক্তকরণ বা ভোটারদের মধ্যে অযৌক্তিক ভীতি তৈরির কারণ না হয়, সেটিও আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।

ট্যাগ: যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনট্রাম্প প্রশাসনভোটার নিবন্ধনঅ-নাগরিকদের ভোটভোটার তালিকা তদন্তফেডারেল আদালতক্যালিফোর্নিয়া আদালতবিচারক আরাসেলি মার্তিনেজ-ওলগুইননির্বাচনী আইনভোটাধিকার

প্রতিবেদক

Desk Report

Reporter

মন্তব্য ০

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।